রোহিঙ্গা ইস্যুতে নিরাপত্তা পরিষদকে মিয়ানমার ও বাংলাদেশ সফরের আহ্বান

ললিত কে ঝা, যুক্তরাষ্ট্র ১৫:০২ , ফেব্রুয়ারি ১৪ , ২০১৮

মানবাধিকার কাউন্সিলের তদন্ত দলকে এখনও মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ঢোকার অনুমতি না দেওয়ায় জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফর করে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বাস্তব অবস্থা মূল্যায়নের জন্য পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি মাসুদ বিন মোমেন। মঙ্গলবার নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে তিনি এ আহ্বান জানান।

2014MENA_Syria_UNICCvote

‘রোহিঙ্গাসহ অন্যান্য বিতাড়িত সম্প্রদায়ের মানবিক পরিস্থিতি সরেজমিন প্রত্যক্ষ করা ও তাদের কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সফর করার জন্য’ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান মাসুদ বিন মোমেন। তিনি গত বছর পরিষদে সর্বসম্মতভাবে গৃহীত প্রেসিডেন্সিয়াল বিবৃতিকে স্বাগত জানিয়ে তার বাস্তবায়নের দাবি জানান। তিনি বলেন, ‘দুর্বৃত্তায়ন বন্ধ করা, বৈষম্য ঠেকানো, টেকসই পুনর্বাসন ও পুনঃপ্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো নিশ্চিত করা গেলেই কেবল জোরপূর্বক বলপ্রয়োগে বিতাড়িত মানুষগুলোর স্বতঃস্ফূর্ত প্রত্যাবাসন সম্ভব হবে।’

মাসুদ বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগটি যাতে বিশ্বের সবচেয়ে নিপীড়িত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীটিকে কাঙ্ক্ষিত ফল দিতে পারে সেজন্য বাংলাদেশ তার পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্পৃক্ততা কামনা করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘মানবাধিকার কাউন্সিলের তদন্ত দলকে এখনও রাখাইন রাজ্যে প্রবেশ করে তদন্তের অনুমতি না দেওয়ার বিষয়টি উদ্বেগের। রোহিঙ্গাদের মানসিক আঘাত উপশম ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে বিশ্বাস জোগাতে সংঘটিত অপরাধের বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি দৃষ্টিগ্রাহ্যভাবে উপস্থাপন করা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য সেখানে তদন্ত দলকে প্রবেশ করতে দেওয়া উচিত।’

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, ‘চলমান উদ্বেগের বিষয় হলো, উত্তর রাখাইন রাজ্যে এখনও কোনও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। তাছাড়া সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য জাতিসংঘ সংস্থা বা তাদের স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সহায়তা প্রদানের সুযোগও অপ্রতুল।’

Masud_Bin_Momen

তবে জাতিসংঘে মিয়ানমারের স্থায়ী প্রতিনিধি হাও দো সুয়ান বলেন, ‘সম্প্রতি বিভিন্ন কূটনীতিকসহ ইউএনএইচসিআর, ডব্লিউএফপি, এফএও এবং বিশ্বব্যাংকের মতো জাতিসংঘ সংস্থাগুলোকে মংডুতে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রত্যাবাসনের প্রস্তুতিসহ সার্বিক পরিস্থিতি দেখার সুযোগও দেওয়া হচ্ছে।’ বিতাড়িত মানুষেদের প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার ও বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি করেছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সুয়ান আরও বলেন, ‘প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে সহজ ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের জন্য মিয়ানমার প্রতিদিন ৩শ রোহিঙ্গাকে ফেরত নিবে। ফেরত আসা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে। তিন মাস পর বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে। প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া চলাকালে চাহিদা অনুসারে ট্রানজিট ক্যাম্প ও অভ্যর্থনা কেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো হতে পারে।’ তিনি দাবি করেন, মিয়ানমার প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়েছে আর ফেরত আসা প্রথম দলকে গ্রহণ করতে তারা প্রস্তুত আছে।

বৈঠকে ইউএনএইচসিআরের হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি বাংলাদেশের বর্ষাকালের বিষয়টি তুলে ধরে সবাইকে সতর্ক করে দেন। মার্চ মাসে বাংলাদেশে বৃষ্টি শুরু হবে। কিন্তু বাংলাদেশের বন্যা ও ভূমিধসপ্রবণ এলাকায় অবস্থান করছে প্রায় এক লাখ ৭ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী। বৃষ্টি হলে যেকোনও সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি বলেন, ‘নতুন করে কোনও জরুরি সংকট থেকে বাঁচার জন্য আমাদের সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিতে হচ্ছে।’

rohingya-20170912152415-20170912160947

গ্রান্ডি আরও বলেন, ‘যদিও বাংলাদেশে শরণার্থী ঢল উল্লেখযোগ্য হারে কমে গেছে, রোহিঙ্গাদের স্বতঃস্ফূর্তভাবে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার মতো সহায়ক পরিবেশ এখনও তৈরি হয়নি।’ তিনি রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার অধিকার সংরক্ষণ ও উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টির বিষয়টিকে সবচেয়ে অগ্রাধিকারের দেওয়ার ওপর জোর দেন।

জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি বলেন, ‘বিশ্ববাসী মিয়ানমারের উদ্যোগ দেখার জন্য তাকিয়ে থেকে অপেক্ষা করছে। দেশটি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতি বিষোদগার করছে কিন্তু সংবাদকর্মীরা তথ্যের অপরিহার্য উৎস।’ বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে হ্যালি বলেন, ‘বাংলাদেশ মিয়ানমারের শরণার্থীদের কত বড় বোঝা বহন করছে তা বুঝতে পারি।’

 

/আরএ/টিএন/এমওএফ/

x