ফাঁস হওয়া অডিও তদন্ত করবে নেপালের সিএএএন ও সিআইবি কর্তৃপক্ষ

বিদেশ ডেস্ক ২০:৫৫ , মার্চ ১৩ , ২০১৮

এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার (এটিসি) এবং বিধ্বস্ত ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানটির পাইলটের কথোপকথনের ফাঁস হওয়া অডিওটি নিয়ে তদন্ত করার ঘোষণা দিয়েছে নেপালি কর্তৃপক্ষ। নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএএন) এবং কেন্দ্রীয় তদন্ত ব্যুরো (সিআইবি) যৌথভাবে অডিওটির সত্যতা যাচাই করবে। সিএএএন কর্তৃপক্ষকে উদ্ধৃত করে নেপালি সংবাদমাধ্যম মাই রিপাবলিকা খবরটি জানিয়েছে।

বিমান বিধ্বস্তের এলাকা
১২ মার্চ (সোমবার) ৭১ আরোহী নিয়ে নেপালের ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে নেপালের বিভিন্ন হাসপাতালে। তবে এরইমধ্যে পাইলটের সঙ্গে কথোপকথনের একটি অডিও বার্তা ফাঁস হওয়ার পর প্রশ্নের মুখে পড়েছে নেপালের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল (এটিসি) টাওয়ার। ওই অডিও অনুযায়ী, ট্রাফিক কন্ট্রোল টাওয়ার ও পাইলটের মধ্যে যোগাযোগজনিত ত্রুটি দেখা গেছে।

এ পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) সংবাদ সম্মেলন করেন নেপালের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (সিএএএন) এর মহাপরিচালক সঞ্জীব গৌতম। তিনি জানান, সিএএএন কর্তৃপক্ষ এবং সিআইবি যৌথভাবে ফাঁস হওয়া অডিওটি তদন্ত করবে। তিনি বলেন, ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশনের (আইসিএও) এর বিধি অনুযায়ী ব্ল্যাক বক্স, পাইলট ও এটিসি কর্তৃপক্ষের কথোপকথন, এবং ফ্লাইট ডাটার রেকর্ড প্রকাশ করা নিষেধ। সঞ্জীব বলেন, ‘আমরা এটিসি ও ককপিটের মধ্যে হওয়া ওই কথোপকথনের ফাঁস হওয়া অডিওটি তদন্ত করব।’

জার্মান বিমান-নিরাপত্তা বিষয়ক ওয়েবসাইট জেএসিডিইসি থেকে প্রচার হওয়া অডিওতে শোনা যায়, এয়ার কন্ট্রোল টাওয়ার- এটিসি থেকে পাইলটকে রানওয়ে ২০ এর দিকে এগোতে মানা করা হচ্ছে। পাইলট জানান, তিনি অপেক্ষা করছেন। কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে তাকে অবতরণ না করে অপেক্ষা করতে বলা হয়। কারণ আরেকটি বিমান ওই রানওয়ের দিকে এগিয়ে আসছে। বিমানটি ডানদিকে ঘুরে গেলে এটিসি থেকে জানতে চাওয়া হয়, পাইলট কি রানওয়ে জিরো টুতে (উত্তর প্রান্ত) ল্যান্ড করবেন নাকি রানওয়ে টু জিরোতে (দক্ষিণ প্রান্ত)। ইউএস বাংলার পাইলট জানান, তারা রানওয়ে টু জিরোতে (২০) ল্যান্ড করবেন। এরপর জানতে চাওয়া হয় তিনি রানওয়ে দেখতে পারছেন কিনা। পাইলট নেতিবাচক উত্তর দেন। এবার এসিটি থেকে তাকে ডানদিকে ঘুরতে বলা হয়। তখন পাইলট জানান, তিনি রানওয়ে দেখতে পাচ্ছেন। বলেন, জিরো টু-তে অবতরণ করার জন্য প্রস্তুত।

কন্ট্রোল টাওয়ার জানিয়ে দেয়, বাংলাদেশের বিমানটিকে টু-জিরোতে নামার চূড়ান্ত অনুমতি দেয়া হয়েছে (একটু আগেই কথা হয়েছে জিরো টুর বিষয়ে)। এ সময় প্রায় দশ কিলোমিটার দূরে একটি সামরিক বিমানকে অপেক্ষায় রাখা হয়েছিল। এরপর ইউএস বাংলার পাইলট জানতে চান, স্যার, আমরা কি অবতরণের অনুমতি পেয়েছি? কিছুক্ষণ নীরবতার পরই কন্ট্রোলের চিৎকার শোনা যায়, আমি আবার বলছি, ঘুরে যান। এরপরই ফায়ার ওয়ানকে ডাকা হয়, যার মানে একটি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরপর নেপালি একজন পাইলটের প্রশ্নের জবাবে রানওয়ে বন্ধ বলে জানানো হয়।

/এফইউ/

x