নেপালি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বিমানমন্ত্রীর বৈঠক, তদন্তে সহযোগিতার আশ্বাস

বিদেশ ডেস্ক ১৮:০৮ , মার্চ ১৪ , ২০১৮

ত্রিভুবন বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাম বাহাদুর থাপার সঙ্গে বৈঠক করেছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামাল। বুধবার (১৪ মার্চ) নেপালের সিংহ দরবারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দফতরে এ বৈঠক হয় বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম মাই রিপাবলিকা। বৈঠকে বিমান বিধ্বস্তে প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক জানানোর পাশাপাশি এ ঘটনার তদন্ত এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ-নেপাল সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করবে বলে একমত হয়েছেন তারা।  

রাম বাহাদুর থাপার সঙ্গে শাহজাহান কামালের বৈঠক
নেপালের স্থানীয় সময় ১২ মার্চ (সোমবার) দুপুর ২টা ১৮ মিনিটের দিকে ৭১ আরোহী নিয়ে ত্রিভুবন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের সময় ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫১ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে নেপালের বিভিন্ন হাসপাতালে। নেপালে বিমান বিধ্বস্তের ঘটনা নিয়ে বিস্তারিত জানতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামালের নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার (১৩ মার্চ) দুপুরে কাঠমান্ডু পৌঁছায়। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটিতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমসহ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা রয়েছেন।

মাই রিপাবলিকার খবরে বলা হয়, বুধবার বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী একেএম শাহজাহান কামালের সঙ্গে বৈঠকে গভীর বেদনা প্রকাশ করেছেন নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাম বাহাদুর থাপা। এরইমধ্যে ঘটনা তদন্তে নেপাল সরকার একটি তদন্ত দল গঠন করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। থাপা আরও জানান, দুর্ঘটনার পরপরই তিনি এবং নেপালি প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। যথাযথ সময়ের মধ্যে আহতদের উদ্ধারে যেন চেষ্টার কমতি না থাকে সে ব্যাপারে ত্রিভুবন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলে জানান থাপা। তার দাবি, ‘দ্রুত উদ্ধার এবং আহতদের দ্রুত চিকিৎসা দিতে নেপাল সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়েছে।’

মরদেহ দেশে পাঠানোর ব্যাপারেও কথা বলেছেন নেপালি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাহাদুর থাপা। তিনি জানান, বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ শনাক্তের কাজ এবং ময়নাতদন্ত চলছে। এসব কাজ শেষ হলে যত দ্রুত সম্ভব দেহাবশেষগুলো দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য সব প্রস্তুতি নেওয়া আছে বলেও জানান তিনি।  

বিমান বিধ্বস্তে প্রাণহানির ঘটনায় শাহজাহান কামালও গভীরভাবে শোক প্রকাশ করেছেন বলে জানিয়েছে মাই রিপাবলিকা। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নেপাল সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। নেপালের পক্ষ থেকে উদ্ধার অভিযানে কোনও ঘাটতি দেখা যায়নি বলেও উল্লেখ করেছেন শাহজাহান কামাল।  

মাই রিপাবলিকার প্রতিবেদনে বলা হয়, পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এ ঘটনায় তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন দুই মন্ত্রী। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারেও সম্মত হয়েছেন তারা।

বিমান বিধ্বস্তে আহত বাংলাদেশিদের কাঠমান্ডু মেডিক্যাল কলেজ, নরভিক ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতাল এবং ওম হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। বৈঠকের আগে আহত ১০ বাংলাদেশির সঙ্গে দেখা করেছেন বলে নেপালি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জানান বিমানমন্ত্রী। শাহজাহান কামাল নেপালি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বলেন, ‘ওএম হাসপাতালে চিকিৎসারত এক আহত বাংলাদেশির পরিবার তাকে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নিয়ে যেতে চাইছে। আবার বিমান বিধ্বস্তে আহতদের চিকিৎসায় সহায়তা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের অর্থোপেডিকস ও বার্ন ইনজুরি সংক্রান্ত বিশেষজ্ঞরা নেপাল আসতে চাইছেন।’ এসব ক্ষেত্রে যথাযথ পরিবেশ তৈরি করে দেওয়ার জন্য থাপার কাছ থেকে সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি। জবাবে নেপালি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, নেপালে অবস্থিত বাংলাদেশি দূতাবাস থেকে প্রক্রিয়া চালানো হলে নেপাল সহযোগিতা করতে প্রস্তুত আছে।

  

/এফইউ/চেক-এমওএফ/

x