রোহিঙ্গা ইস্যুকে জি-সেভেন সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে যুক্ত করছে কানাডা

বিদেশ ডেস্ক ১২:৪১ , এপ্রিল ১৭ , ২০১৮

 

আসন্ন জি-সেভেন দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকে রোহিঙ্গা ইস্যু ও ভেনিজুয়েলায় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধস নামার বিষয়টি আলোচ্যসূচিতে নিয়ে আসতে যাচ্ছে কানাডা। কানাডার প্রধান সম্মেলন আয়োজক পিটার বোয়েহম বলেন, বিষয়গুলোকে সিরিয়া, ইউক্রেন ও ইরানের মতো জি-সেভেনের ‘দীর্ঘমেয়াদি’ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলোর সঙ্গে যোগ করা হচ্ছে। কানাডার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সিবিসি এ খবর জানিয়েছে।

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়ার ফ্রিল্যান্ড

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড বলেছেন, কানাডা বিশেষ দূত বব রে’র প্রতিবেদনের সুপারিশগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য জি-সেভেনকে ব্যবহার করতে চায়। বব রে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

জি-সেভেনের এবারের সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুটির বিশেষ প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। কারণ সম্মেলনটির এবারের মূল ভাবনা হলো লৈঙ্গিক উন্নয়ন। টরোন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মেলন সংক্রান্ত সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে ফ্রিল্যান্ড বলেছিলেন, লৈঙ্গিক পরিপ্রেক্ষিতকে আমরা যা করি ও যে বিষয়ে কথা বলি তার সবকিছুর একটি প্রধান অংশ হিসেবে নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, আমাদের আশেপাশের অনেক বিষয়েরেই কেন্দ্রীয় অংশ হলো লিঙ্গ।

ফ্রিল্যান্ড বলেন, রোহিঙ্গা সহিংসতা নিয়ে তিনি সম্প্রতি একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে তিনি লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার অনেক গল্প শুনেছেন। মিয়ানমার থেকে পালাতে বাধ্য করতে ধর্ষণকে নারীদের ওপর যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, অনেক কন্যা শিশু এতিম হয়ে বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরগুলোতে পৌঁছেছে। তারা সেখানে এখনও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে রয়েছে। এই বিষয়গুলো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাটিকে আরও প্রকট করে তুলছে।

বব রে, সাবেক লিবারেল পররাষ্ট্রমন্ত্রী লয়েড অক্সওয়ারি এবং মানবাধিকার সংগঠন ও সংস্থাদের একটি জোট জি-সেভেন সম্মেলনের সভাপতিত্ব কাজে লাগিয়ে সংকটটি তুলে ধরতে কানাডার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এই সংকটের কারণে প্রায় ৬ লাখ ৮৮ হাজার রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এসব শরণার্থীদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

ফ্রিল্যান্ড বলেন, তিনি ইউরোপিয়ান দেশগুলোর কাছে ভেনিজুয়েলায় চলমান গণতন্ত্রবিরোধী অভিযানের নিন্দা করার আহ্বান জানান।

জি-সেভেন সম্মেলনে কানাডা ছাড়াও ফ্রান্স, জার্মানি, যুক্তরাজ্য, ইতালি, জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নেবেন।

 

/আরএ/

x