আসাদ বাহিনীর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের নিন্দা জি সেভেন-এর

বিদেশ ডেস্ক ১৮:৪৫ , এপ্রিল ১৭ , ২০১৮

সিরিয়ার পূর্ব ঘৌটার দৌমা শহরে আসাদ বাহিনীর রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারের নিন্দা জানিয়েছে শিল্পোন্নত দেশগুলোর জোট জি সেভেন। এবারের জি সেভেন সম্মেলনের আয়োজক দেশ কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো সোমবার সংস্থাটির পক্ষে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছেন, গত ৭ এপ্রিল সিরিয়ার পূর্ব ঘৌটায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপীয়  ইউনিয়ন এর তীব্র নিন্দা জানায়।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসাদ সরকার যেন ভবিষ্যতে  কোনও রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করতে না পারে সেজন্য গত ১৩ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়ার যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সের সব প্রচেষ্টার প্রতি আমাদের সমর্থন রয়েছে।

জি-সেভেন দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আসন্ন বৈঠকে সিরিয়া ইস্যু ছাড়াও রোহিঙ্গা নিধনযজ্ঞ এবং ভেনিজুয়েলায় গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ধস নামার মতো বিষয়গুলো আলোচ্যসূচিতে নিয়ে আসতে চাইছে কানাডা। কানাডার প্রধান সম্মেলন আয়োজক পিটার বোয়েহম বলেন, বিষয়গুলোকে সিরিয়া, ইউক্রেন ও ইরানের মতো জি-সেভেনের ‘দীর্ঘমেয়াদি’ আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ইস্যুগুলোর সঙ্গে যোগ করা হচ্ছে।

কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড বলেছেন, কানাডা বিশেষ দূত বব রে’র প্রতিবেদনের সুপারিশগুলোকে বাস্তবায়নের জন্য জি-সেভেনকে ব্যবহার করতে চায়। বব রে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় জড়িতদের বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।

জি-সেভেনের এবারের সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুটির বিশেষ প্রাসঙ্গিকতা রয়েছে। কারণ সম্মেলনটির এবারের মূল ভাবনা হলো লৈঙ্গিক উন্নয়ন। টরোন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মেলন সংক্রান্ত সাম্প্রতিক এক অনুষ্ঠানে ফ্রিল্যান্ড বলেছিলেন, লৈঙ্গিক পরিপ্রেক্ষিতকে আমরা যা করি ও যে বিষয়ে কথা বলি তার সবকিছুর একটি প্রধান অংশ হিসেবে নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, আমাদের আশেপাশের অনেক বিষয়েরেই কেন্দ্রীয় অংশ হলো লিঙ্গ।

ফ্রিল্যান্ড বলেন, রোহিঙ্গা সহিংসতা নিয়ে তিনি সম্প্রতি একটি গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে তিনি লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার অনেক গল্প শুনেছেন। মিয়ানমার থেকে পালাতে বাধ্য করতে ধর্ষণকে নারীদের ওপর যুদ্ধাস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। তিনি বলেন, অনেক কন্যা শিশু এতিম হয়ে বাংলাদেশে শরণার্থী শিবিরগুলোতে পৌঁছেছে। তারা সেখানে এখনও বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে রয়েছে। এই বিষয়গুলো দীর্ঘমেয়াদি সমস্যাটিকে আরও প্রকট করে তুলছে।

বব রে, সাবেক লিবারেল পররাষ্ট্রমন্ত্রী লয়েড অক্সওয়ারি এবং মানবাধিকার সংগঠন ও সংস্থাদের একটি জোট জি-সেভেন সম্মেলনের সভাপতিত্ব কাজে লাগিয়ে সংকটটি তুলে ধরতে কানাডার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে। এই সংকটের কারণে প্রায় ৬ লাখ ৮৮ হাজার রোহিঙ্গা জাতিগোষ্ঠীর মানুষ বাংলাদেশে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। এসব শরণার্থীদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

/এমপি/

x