সামাজিক ন্যায়বিচারের ডাক দিলেন ইরাকের প্রথম নির্বাচিত নারী কমিউনিস্ট নেতা

বিদেশ ডেস্ক ২১:৫২ , মে ১৬ , ২০১৮

ছিলেন স্কুল শিক্ষক ও নারী অধিকার কর্মী। দারিদ্র বিরোধি লড়াইয়ে শামিল হয়েছেন তিনি। ২০১৪ সালে নির্বাচনি প্রচারণা দলের অংশ হলেও এবারের নির্বাচনে ছাত্র আর সহকর্মীদের সমর্থনে প্রার্থী হয়ে জয়ী হয়েছেন কমিনিউস্ট নেতা সুহাদ আল খাতিব। নির্বাচনে জয়ী হয়ে তিনি ডাক দিয়েছেন সামাজিক ন্যায়বিচারের। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া বিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডলইস্ট আই এই খবর জানিয়েছে।সুহাদ আল খাতিব
গত ১২ মে (শনিবার) অনুষ্ঠিত হয়ে যাওয়া নির্বাচনে দুর্নীতি আর অযোগ্যতার প্রতিবাদে নতুন রাজনৈতিক ভিত্তি তৈরি করছে ইরাকিরা। ভোটদানে সক্ষম ভোটারদের মধ্যে মাত্র ৪৪.৫ শতাংশ ভোটার এদিন ভোট দিয়েছে। মিডলইস্ট আই লিখেছে এই নির্বাচনে বড় বিজয় হয়েছে বয়কট আন্দোলনের। আর যারা ভোট দিয়েছে তারা বেশিরভাগই শিয়া নেতা মুক্তাদা আল সদরের সাইরুন জোটকে ভোট দিয়েছে। ইরাকি কমিউনিস্ট পার্টি (আইসিপি) ও অপেক্ষাকৃত ছোট দল ইরাকি রিপাবলিকান পার্টিকে নিয়ে গড়া এই জোটের প্রার্থী হিসেবে জিতেছেন সুহাদ আল খাতিব।

কয়েক বছর আগেও শিয়াদের সঙ্গে কমিউনিস্টদের জোটের কথা কেউ চিন্তাও করেনি। তবে আইসিপি নেতারা বলছেন, আদর্শগত ইস্যুতে জোর না দিয়ে স্থানীয় ইস্যুগুলোতেই মনোযোগী হয়েছেন তারা। আইসিপির সাধারণ সম্পাদক রাইদ জাহিদ ফাহমি মিডলইস্ট মনিটরকে বলেছেন, বেকারত্ব ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই এবং ইরাকে বাইরের শক্তির প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে জোর দিয়ে জোট গঠনে সম্মত হয়েছেন তারা। দূরে সরিয়ে রেখেছেন নারী অধিকার ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিকে। 

এই জোটের হয়ে নাজাফের আসন থেকে প্রায় দশ হাজার ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন নারী অধিকার ও দারিদ্র বিরোধী কর্মী খাতিব।শিক্ষক হিসেবে কর্মরত এই নারী আগের কোনও সংসদ নির্বাচনে অংশ নেননি।

মিডলইস্ট আইকে তিনি বলেন, আমি ২০১৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নিলেও নাজাফে মানুষের কাছে ভোট চাইতে যাওয়া দলের অংশ ছিলাম। আমরা নাজাফের ঘিঞ্চি বস্তিতে তাদের কাছে গিয়ে সমস্যার কথা শুনে তাদের সাহায্য করেছি। নির্বাচনে অংশ নেওয়ার কথা আমি ভাবিনি।

তবে নিজের ছাত্র আর সহকর্মীদের কাছ থেকে সমর্থন পেয়ে তিনি এবার সাইরুন জোটের টিকেটে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন।

খাতিব বলেন, মানুষ আমার স্কুলে দেখা করতে আসতো। তারা আমার দিকে তাকিয়ে থাকতো আর দেখতো একজন রাজনীতিবিদের অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত কেমন হতে পারে। আমার সহকর্মী যারা অন্য রাজনৈতিক দল সমর্থন করতো তারাও আমাকে শ্রদ্ধা আর সমর্থন করতো।

তিনি বলেন, কেউ যদি তার কাজে সফল হয় সেটা স্কুল চালানোর মতো হলেও তাহলে সে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চালাতেও সফল হবে।

খাতিব বলেন, এই অঞ্চলের ইরাক, ইয়েমেন, বাহরাইন নিয়ে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাত আছে তবে আমরা ইরাকিরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কাছ থেকে আমাদের স্বাধীনতা ফিরে পেতে চাই। দেশ দুটি তাদের নিজেদের সংঘাতের কারণে ইরাকের ক্ষতি করতে পারে।

খাতিব আল ফাতাহ বলেন, সাইরুন বিভিন্নভাবে মানুষকে সমর্থন করে। এই জোট ইরাকিদের প্রতিনিধিত্ব করে। ইরাকের কমিউনিস্ট পার্টির সততার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। আমরা বিদেশি দখলদারদের এজেন্ট নই। আমরা সামাজিক ন্যায়বিচার, নাগরিকত্ব ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে। আর ইরাকিরাও তাই চায়।

 

/জেজে/

x