কোরীয় উপদ্বীপে স্থায়ী শান্তি আবারও অনিশ্চিত

বিদেশ ডেস্ক ২১:১৫ , মে ১৭ , ২০১৮

উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে জরুরিভিত্তিতে টেলিফোনে আলোচনা করছেন যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক বাতিল করে দিয়ে পিয়ংইয়ং সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিতব্য ট্রাম্প-কিম বৈঠকও বর্জনের হুমকি দিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে আবারও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে কোরীয় উপদ্বীপে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিতের প্রক্রিয়া।

উত্তর কোরিয়ার ‘কমিটি ফর পিসফুল রিইউনিফিকেশন অফ দ্য কান্ট্রির’ চেয়ারম্যান রি সন গোনে বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারকে  ‘অজ্ঞ’ ও ‘অযোগ্য’ আখ্যায়িত করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে চলমান বার্ষিক সামরিক মহড়ার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে উত্তর কোরিয়ার ওই কর্মকর্তা বলেছেন, এমনভাবে চলতে থাকলে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে সব আলোচনা বন্ধ করে দেবেন তারা। মহড়ার প্রসঙ্গ ছাড়াও উত্তর কোরিয়ার পক্ষত্যাগী কূটনীতিককে সংসদে বক্তব্য রাখতে দেওয়ার জন্যও দক্ষিণ কোরিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ উত্তর কোরিয়া।

রির ভাষ্য, ‘যৌথ সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে উদ্ভূত পরিস্থিতির সন্তোষজনক সমাধান না হলে স্থগিত থাকা দুই কোরিয়ার সংলাপ ভবিষ্যতে চালিয়ে নেওয়া কষ্টকর হয়ে যাবে। দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান সরকারের সঙ্গে মুখোমুখি বসা আর কখনও সহজ হবে না। দক্ষিণ কোরিয়ার বর্তমান সরকার পরিস্থিতি অনুধাবনের ক্ষেত্রে স্পষ্টভাবেই অজ্ঞতা ও অযোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছে।’

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত দেশটির একজন কূটনীতিক ২০১৬ সালে নিজ দেশের পক্ষ ত্যাগ করে দক্ষিণ কোরিয়ার পক্ষে চলে গিয়েছিলেন।  সোমবার স্মৃতিকথা প্রকাশকে কেন্দ্র করে থায়ে ইয়োং হো নামের ওই কূটনীতিককে দক্ষিণ কোরিয়া দেশটির সংসদে বক্তব্য রাখার সুযোগ দিয়েছে। ‘পাসওয়ার্ড ফ্রম দ্য থার্ড ফ্লোর’ নামের স্মৃতিকথায় থায়ে উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনকে ‘ধৈর্য্যহীন, হিতাহিত জ্ঞানহীন এবং হিংস্র’ আখ্যায়িত করেছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ফোনালাপের বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার সরকারি সংবাদমাধ্যম ইয়োনহাপ জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্যাং পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেওকে পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে অবহিত করেছেন। এ বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার অবস্থান তুলে ধরতে তিনি পম্পেওকে বলেছেন, এপ্রিলের ২৭ তারিখে উন ও মুনের মধ্যে যে সমঝোতা হয়েছে তা বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ দক্ষিণ কোরিয়া। উত্তর করিয়াকে সম্পূর্ণভাবে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করতে এবং কোরীয় উপদ্বীপে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিতে তারা একযোগে কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী। আল জাজিরা লিখেছে, দক্ষিণ কোরিয়া ১২ জুনে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার বৈঠকের মধ্যস্থতা করতে চায়।

এদিকে জাপানের সংবাদমাধ্যম আশাহি শিমবুন বৃহস্পতিবার লিখেছে, যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও ৬ মাসের মধ্যে উত্তর কোরিয়াকে কিছু পারমাণবিক বোমা, ক্ষেপণাস্ত্র এবং অন্যান্য পারমাণবিক বোমা সংশ্লিষ্ট জিনিসপত্র যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়ে দিতে বলেছেন। ওয়াশিংটন ইঙ্গিত দিয়েছে, এর প্রতিদানে ‘সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা দেওয়া দেশের তালিকা’ থেকে উত্তর কোরিয়ার নাম সরিয়ে নেওয়া হবে। কিন্তু বুধবার দুই কোরিয়ার মধ্যে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠক বাতিল হয়ে যাওয়ায় শান্তি প্রক্রিয়ার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে উঠল।

/এএমএ/

x