মহড়া বন্ধের বিষয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা ট্রাম্পের

বিদেশ ডেস্ক ১৮:৩০ , জুন ১৩ , ২০১৮

দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক মহড়া বন্ধের বিষয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রী জিম ম্যাটিসের সঙ্গে আলোচনা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মার্কিন প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন থেকে এ আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে তুরস্কভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পমঙ্গলবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন পেন্টাগনের মুখপাত্র ডানা হোয়াইট। এ সময় সাংবাদিকরা তার কাছে জানতে চান, ট্রাম্পের মহড়া বন্ধের ঘোষণায় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী অবাক হয়েছেন কিনা? উত্তরে ডানা হোয়াইট বলেন, তিনি অবাক হননি। বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। প্রেসিডেন্টের পাশাপাশি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও’র সঙ্গেও এ ব্যাপারে তার বিস্তারিত কথা হয়েছে।

ডানা হোয়াইট বলেন, কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রতিরক্ষামন্ত্রী একমত পোষণ করেন।

এর  আগে সিঙ্গাপুরে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, তিনি বলেছেন, ‘কোরীয় উপদ্বীপের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়াকে নির্বিঘ্ন করতে ব্যয়বহুল ও খুবই উসকানিমূলক মহড়ার অবসান ঘটানো হবে।’ দীর্ঘদিন ধরে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে এ সামরিক মহড়া চালিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু মঙ্গলবার ট্রাম্প-কিম বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মেলনে এ ইস্যুতে দীর্ঘদিনের অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

সিঙ্গাপুর বৈঠক থেকে পরমাণু নিরস্ত্রীকরণের প্রশ্নে যৌথ ঘোষণা এলেও তাকে ছাপিয়ে আলোচনার কেন্দ্র দখল করেছে ট্রাম্পের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া এ ঘোষণা। ট্রাম্প অবশ্য সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেননি। তা সত্ত্বেও মহড়া বন্ধের ঘোষণাতেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এশীয় মিত্ররা। তবে মিত্রদের নিরাপত্তার প্রশ্নে যুক্তরাষ্ট্র তার প্রতিশ্রুতি রক্ষায় অটল থাকবে বলে  আশ্বস্ত করেছে পেন্টাগন।

দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০ হাজার সেনা রয়েছে। প্রতি বছর তাদের পরিবর্তন করা হয়ে। প্রশান্ত মহাসাগরের গুয়াম ঘাঁটি থেকে তারা বড় ধরনের সামরিক মহড়া চালায়। উত্তর কোরিয়া এই বার্ষিক মহড়াকে দেশটিতে আগ্রাসনের প্রস্তুতি হিসেবে বিবেচনা করে। আর দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি, এটা তাদের আত্মরক্ষামূলক কার্যক্রম। ট্রাম্প বলেন, এই মহড়া বন্ধ করলে ‘বিপুল অর্থ বাঁচবে’। তবে উত্তর কোরিয়া যদি সহযোগিতামূলক আচরণ বন্ধ করে দেয় তবে ফের মহড়া শুরু করবে ওয়াশিংটন।

/এমপি/

x