উ. কোরিয়াকে ‘পরমাণু ‍হুমকি’ মনে করেন না ট্রাম্প

বিদেশ ডেস্ক ১৫:১৪ , জুন ১৪ , ২০১৮

উত্তর কোরিয়াকে আর পরমাণু হুমকি মনে করেন না মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার এক টুইটবার্তায় তিনি বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে আর পরমাণু হুমকি নেই। আমি যেদিন দায়িত্ব নিয়েছিলাম তখন থেকে আজকের দিনটি অনেক বেশি নিরাপদ।’

১২ জুন সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ট্রাম্প-কিম ঐতিহাসিক বৈঠক শেষে সমঝোতার যৌথ ঘোষণায় কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হয়। বিবিসি জানিয়েছে, নথিতে পিয়ংইয়ং কখন ও কিভাবে অস্ত্র ত্যাগ করবে তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু না থাকায় সমালোচনার মুখে পড়েছে।

তবে ট্রাম্প বেশ খোশমেজাজে আছেন। বৈঠক শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে বুধবার রাতে তিনি বলেন, ‘মাত্র আসলাম, কিন্তু সবাই নিরাপদ বোধ করছে। আমি যখন প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেই সেদিন এমনটা ছিল না।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘উত্তর কোরিয়ার কাছ থেকে এখন কোনও পরমাণু হুমকি নেই। কিম জংয়ের সঙ্গে দেখা করার বিষয়টি ভালো ছিল। আমার বেশি ইতিবাচক অভিজ্ঞতা হলো। উত্তর কোরিয়ার ভবিষ্যত দারুণ সম্ভাবনাময়।’

বেশি কিছুদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় চলছিলো। তৈরি হয়েছিল যুদ্ধ পরিস্থিতি। তবে সিঙ্গাপুরে ঐতিহাসিক বৈঠকের পর দুজনেরই সুর পাল্টে গেছে। বেশ ইতিবাচক মনে হয়েছে দুজনকে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, উত্তর কোরিয়ার কাছে ১২ থেকে ৬০ পরমাণু বোমার সরঞ্জাম থাকতে পারে। গত বছর তারা এমন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল তা যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত আনতে সক্ষম।

সিঙ্গাপুরে অনুষ্ঠিত ট্রাম্প-কিম ঐতিহাসিক বৈঠক শেষে সমঝোতার যৌথ ঘোষণায় কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ ও সেখানে শান্তি প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার করা হয়। তবে সমঝোতায় স্মারকে বিস্তারিত উল্লেখ নেই। ট্রাম্প অবশ্য দাবি করেছেন, চূড়ান্ত চুক্তিতে সব বিস্তারিত উল্লেখ থাকবে।

হোয়াইট হাউস কাউন্সিলর কেলিয়ানে কনওয়ে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট চান উত্তর কোরিয়ার পূর্ণাঙ্গ পরমানু নিরস্ত্রীকরণ। তারা চান উত্তর কোরিয়ার পূর্ণাঙ্গ-পরীক্ষণযোগ্য এবং চিরস্থায়ী নিরস্ত্রীকরণ।এর জন্য একটু সময় প্রয়োজন।

বৈঠক শেষে দেশে ফিরেছেন ট্রাম্প ও কিম। তবে দুজনের অভ্যর্থনা ভিন্ন ছিল। পিয়ংইয়ংয়ে উত্তর কোরিার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো কিমকে প্রশংসায় ভাসিয়েছে এবং একে জয় বলে উল্লেখ করেছে।

অন্যদিকে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগে উত্তর কোরিয়াকে অনেক কিছু দিয়েছেন তিনি। তবে প্রাপ্তি খুবই কম। এছাড়া এশীয় নিরাপত্তা হুমকিতে ফেলে সামরিক মহড়া বন্ধেরও ঘোষণারও সমালোচনা করা হয়েছে।

 

/এমএইচ/

x