সিএনএন-এর প্রতিবেদন ‘সামরিক মহড়া স্থগিত’র ঘোষণা কার্যকরে তৎপর ট্রাম্প প্রশাসন

বিদেশ ডেস্ক ১৫:৩২ , জুন ১৪ , ২০১৮

এশীয় মিত্রদের নিরাপত্তা প্রশ্নে মার্কিন প্রতিশ্রুতির পুনরুচ্চারণের সমান্তরালে কোরীয় উপদ্বীপে আগস্টে অনুষ্ঠিতব্য সামরিক মহড়া স্থগিতের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। হোয়াইট হাউসের বিভিন্ন পদক্ষেপের ব্যাপারে অবগত কয়েকজন কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবারই (১৪ জুন) ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। মঙ্গলবার (১২ জুন) সিঙ্গাপুরে উ. কোরীয় নেতা কিমের সঙ্গে সমঝোতা চুক্তির পর সামরিক মহড়ার নামে কোরীয় উপদ্বীপে ‘যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা’ বন্ধের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। সংবাদ সম্মেলনে মহড়াকে ব্যয়বহুল ও উত্তর কোরিয়ার জন্য অমর্যাদাকর ঘোষণা করেন তিনি। ট্রাম্পের এই ঘোষণা তার এশীয় মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগের জন্ম দেয়। তবে পেন্টাগনসহ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের আশ্বস্ত করা হয়, ওয়াশিংটন মিত্রদেরকে দেওয়া নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি রক্ষার প্রশ্নে অটল।

সামরিক মহড়া (ফাইল ফটো)
১২ জুন সিঙ্গাপুরে উত্তর কোরীয় নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন, তিনি ‘যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা’ বন্ধ করবেন। এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘আমরা যেহেতু একটি সমন্বিত ও পূর্ণাঙ্গ চুক্তি নিয়ে আলোচনা করছি সেক্ষেত্রে আমি মনে করি যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা অযথার্থ।’ মহড়া বন্ধের ঘোষণা দিলেও কোরীয় উপদ্বীপ থেকে এক্ষুণি সেনা প্রত্যাহারের কোনও সম্ভাবনা নেই বলেও জানান ট্রাম্প। তা সত্ত্বেও ট্রাম্পের অবস্থান তার আঞ্চলিক মিত্রদের ভেতরে উদ্বেগ ও অস্বস্তির জন্ম দেয়। এমন সময় সেই ঘোষণা বাস্তবায়নে আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপের খবর জানা গেল। হোয়াইট হাউসের এমন পদক্ষেপের ব্যাপারে অবগত নাম প্রকাশে অনিচ্চুক কর্মকর্তাদের সূ্ত্রে সে দেশের সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, সিঙ্গাপুরের বৈঠকে ট্রাম্প যে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন সেটি কিভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে তা নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা দফতর পরিকল্পনা করছে।

আগস্টে উলচি ফ্রিডম গার্ডিয়ান নামের সামরিক মহড়াটি করার দিনক্ষণ আগেই নির্ধারণ করে রাখা হয়েছিল। এ নিয়ে কয়েকটি দেশের সামরিক বাহিনীর সঙ্গে চূড়ান্ত পর্যায়ের পরিকল্পনা চলছিলো। ২০১৭ সালে বার্ষিক মহড়ায় সাড়ে ১৭ হাজার মার্কিন সেনা অংশ নিয়েছিল। এরমধ্যে ৩ হাজার সেনা দক্ষিণ কোরিয়ার বাইরে থেকে এসেছিল। অতীতে অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, কলম্বিয়া, ডেনমার্ক, নিউ জিল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্য এসব মহড়ায় অংশ নিয়েছিল। সিএনএন জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার আগস্টে নির্ধারিত সামরিক মহড়াটি স্থগিতের ঘোষণা দিতে পারে হোয়াইট হাউস।

ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে থেকে যৌথ সামরিক মহড়া স্থগিতের ধারণাটি পেয়েছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। তবে এ ব্যাপারে অবগত এক সূত্র সিএনএনকে সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছে। ওই সূত্রের দাবি, ট্রাম্প কারও কাছে এ সংক্রান্ত ধারণা পেয়ে থাকলে তা চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর কাছ থেকে পেয়েছেন। কারণ, তিনি এ ব্যাপারে খুব সরব ছিলেন এবং এ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে তার আলাপ হয়েছে।  ওই সূত্র আরও জানায়, উত্তর কোরীয় নেতা কিমের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ট্রাম্প যেসব প্রস্তাব নিয়ে গেছেন, তার অন্যতম হলো যৌথ মহড়া স্থগিত করা। তবে আর কী কী বিষয়ে উত্তর কোরিয়াকে ছাড় দেওয়া হবে, সে ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে যাননি ট্রাম্প। বৈঠকে কিমের মতিগতি বুঝেই পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার। সিঙ্গাপুরে যাওয়ার আগে উপদেষ্টাদের তিনি বলেছিলেন, বৈঠক কোথায় গড়ায় সেটা তিনি দেখতে চান। তবে বৈঠকের শেষে ট্রাম্প উপলব্ধি করেন কিম এ ব্যাপারে আন্তরিক। এরপর চুক্তির ব্যাপারে আগ্রহবোধ করেন ট্রাম্প। ওই সূত্র বলেন: ‘ওটা খেলা চলাকালীন নেওয়া সিদ্ধান্ত ছিল।’

দক্ষিণ কোরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৩০ হাজার সেনা রয়েছে। প্রতি বছর তাদের পরিবর্তন করা হয়ে। প্রশান্ত মহাসাগরের গুয়াম ঘাঁটি থেকে তারা বড় ধরনের সামরিক মহড়া চালায়। উত্তর কোরিয়া এই বার্ষিক মহড়াকে আগ্রাসনের প্রস্তুতি বলে বিবেচনা করে। আর দক্ষিণ কোরিয়ার দাবি এটা তাদের আত্মরক্ষামূলক কার্যক্রম। সিঙ্গাপুরের সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, এই মহড়া বন্ধ করলে ‘অনেক টাকা বাঁচবে’। তবে উত্তর কোরিয়া যদি সহযোগিতামূলক আচরণ বন্ধ করে দেয় তবে আবারও মহড়া চালাবেন তারা।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তে ওই অঞ্চলে থাকা মার্কিন মিত্ররা বিস্মিত। ভাবা হচ্ছে সিদ্ধান্তটি অনেকটাই উত্তর কোরিয়ার পক্ষে গেছে। তবে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক মিত্রদের নিরাপত্তা প্রতিশ্রুতি রক্ষার ব্যাপারে আশ্বস্ত করা হয়েছে। বুধবার (১৩ জুন) বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পেন্টাগন মুখপাত্র জানান, ‘আমাদের জোট এখনও অটল। আমরা ওই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে চাই।’ কেউ বলছেন এই সিদ্ধান্তে আদতে লাভ হয়েছে উত্তর কোরিয়ার। আর ট্রাম্পের দাবি, এখনও কিছুই ছেড়ে দেননি তিনি। ডেমোক্র্যাটরা এই ঘোষণাকে নেতিবাচকভাবে নিলেও রিপাবলিকান মহলে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। 

/এফইউ/

x