একটু দেরি হলেই বড় বিপদের আশঙ্কা ছিল

বিদেশ ডেস্ক ১৩:০৩ , জুলাই ১১ , ২০১৮

কেউ কউ বলছেন এটি ছিল ‘মিশন ইম্পসিবল’ ধারার এক অভিযান। সফলভাবে ১২ কিশোর আর তাদের কোচকে বের করে আনার পর আনন্দের বন্যায় ভাসছে থাইল্যান্ড। তবে উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, তাদের বের করে আনতে একটু দেরি হলেই বড় ধরনের বিপদের আশঙ্কা ছিল। উদ্ধার তৎপরতায় জড়িতদের উদ্ধৃত করে প্রভাবশালী ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, সবশেষ কিশোর বের হয়ে আসার পরপরই গুহার নিষ্কাশন ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পানি বাড়তে শুরু করেছিল। উল্লেখ্য, ওই কিশোরদের অনেকেই সাঁতার জানত না। 


গত ২৩ জুন ফুটবল অনুশীলন শেষে ২৫ বছর বয়সী কোচসহ ওই ১২ কিশোর ফুটবলার গুহাটির ভেতরে ঘুরতে গিয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে গুহার প্রবেশমুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আর বের হতে পারেনি। রবিবার (৮ জুলাই) থাইল্যান্ড সরকার শিশুদের উদ্ধারে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তিন দিনের সফল অভিযানে উদ্ধার হয় কোচসহ ১২ খুদে ফুটবলার।

দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, গুহাটির প্রায় এক মাইল দীর্ঘ অংশে পানি জমে ছিল। আটকে পড়াদের অনেকেই সাঁতার না জানার কারণে তাদের ডুবুরিরা প্রশিক্ষণ দিয়ে উদ্ধারের জন্য তৈরি করেন। উদ্ধার অভিযানের অংশ হিসেবে পাম্প করে পানি কমানোর ফলে উঁচুনিচু গুহার কিছু জায়গায় হাঁটার মতো অবস্থা তৈরি হয়েছিল। বুধবারের (১১ জুলাই) উদ্ধার অভিযানে অংশগ্রহণকারী তিন অস্ট্রেলীয় ডুবুরিকে উদ্ধৃত করে দ্য গার্ডিয়ান জানায়, মঙ্গলবার (১০ জুলাই) সর্বশেষ শিশুটি উদ্ধার হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মূল পাম্পটি অকার্যকর হয়ে পড়ে। আর তাতে দ্রুত পানির উচ্চতা বাড়তে শুরু করে। আর তখনও পবেশপথ থেকে দেড় কিলোমিটার দূরত্বে স্থাপিত ‘তৃতীয় চেম্বারে’ কয়েকজন ডুবুরি ও উদ্ধারকারী সরঞ্জামাদি গুছানোর কাজে ব্যস্ত ছিলেন।

উদ্ধার অভিযানে অংশ নেওয়া কয়েকজন ডুবুরি
উল্লেখ্য, গুহার প্রবেশপথ থেকে ‘তৃতীয় চেম্বার’ বা অভিযান পরিচালনার অঞ্চলে যেতে হলে দেড় কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হয়েছে উদ্ধারকারীদের। ‘তৃতীয় চেম্বার’ থেকে শিশুদের কাছে পৌঁছাতে যেতে হয়েছে আরও ১.৭ কিলোমিটার। গত কয়েক দিন ধরে আটকে পড়া শিশুদের গুহার ভেতরে সঙ্গ দিচ্ছিলেন তিন থাই নেভি সিল সদস্য ও এক চিকিৎসক। মঙ্গলবার (১০ জুলাই) পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা অকার্যকর হয়ে পড়ার সময় তখনও দেড় কিলোমিটারের মধ্যে (তৃতীয় চেম্বারে) পৌঁছাতে পারেননি তারা। দ্য গার্ডিয়ানের খবর অনুযায়ী, তৃতীয় চেম্বারে থাকা কয়েকজন ডুবুরি হঠাৎ চিৎকার শুনতে পান এবং গুহার গভীর থেকে হেড টর্চের আলো দেখেন। দেখতে পান, কয়েকজন উদ্ধারকারী ধীরে ধীরে শুকনা জায়গায় জড়ো হচ্ছেন। এরপর একে একে তারা গুহা থেকে বের হয়ে আসেন। অপেক্ষমাণ উদ্ধারকারীরা তাদের করতালি দিয়ে স্বাগত জানান।

অভিযানের প্রথম দিন ৮ জুলাই রবিবার চার শিশুকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তাদের দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ৯ জুলাই উদ্ধার হয় ওয়াইর্ল্ড বোয়ার্স নামের ওই ফুটবল দলের আরও চার শিশু। তাদের সবাইকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। গুহায় আটকে পড়ার ১৮ দিনের মাথায় ১০ জুলাই মঙ্গলবার শেষ হয় তিন দিনের উদ্ধার অভিযান। আগের দিন রাতে ভারী বর্ষণ সত্ত্বেও এদিন চার খুদে ফুটবলার ও তাদের কোচকে উদ্ধার করা হয়। সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে হাসপাতালে সাতদিন পর্যন্ত তাদের আলাদা করে রাখা হবে।

/এফইউ/বিএ/চেক-এমওএফ/

x