কান্না আটকাতে পারলেন না উদ্ধারকৃত কিশোরদের বাবা-মা (ভিডিও)

বিদেশ ডেস্ক ১৬:৫২ , জুলাই ১২ , ২০১৮

অন্ধকার গুহায় পার করতে হয়েছে প্রায় তিনটি সপ্তাহ। উদ্ধার হওয়ার পর সংক্রমণ এড়াতে তাদের রাখা হয়েছে হাসপাতালের সুরক্ষিত কক্ষে। নাটকীয় অভিযানে বের হয়ে আসা ওই খুদে ফুটবলারদের তাই এখনও বুকে জড়িয়ে ধরতে পারেননি স্বজনরা। তবে স্বচ্ছ কাঁচের দেয়াল ঘেরা কক্ষের বাইরে থেকে সন্তানদের দেখেছেন তাদের মা-বাবা। হাসপাতালের মাস্ক আর গাউন পরে বিছানায় শুয়ে থাকা কিশোররা হাত নেড়ে স্বজনদের জানিয়ে দিয়েছে, ভালো আছে তারা। আনন্দময় এই পরিস্থিতিতে কান্না আটকাতে পারেনি ওই কিশোরদের বামা-মা। বুধবার (১১ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে সেই দৃশ্যের ভিডিও প্রকাশ করেছে থাই কর্তৃপক্ষ।

গত ২৩ জুন ফুটবল অনুশীলন শেষে ২৫ বছর বয়সী কোচসহ ওই ১২ কিশোর ফুটবলার থাম লুয়াং নামের গুহাটির ভেতরে ঘুরতে গিয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টিতে গুহার প্রবেশমুখ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা আটকা পড়ে। টানা ৯ দিন নিখোঁজ থাকার পর গত ২ জুলাই গুহার ভেতরে জীবিত অবস্থায় ১২ কিশোর ফুটবলারসহ তাদের কোচকে শনাক্ত করেন ডুবুরিরা। রবিবার (৮ জুলাই) থাইল্যান্ড সরকার তাদের উদ্ধারে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে স্মরণকালের সবচেয়ে বড় উদ্ধার অভিযান শুরু করে। ৩ দিনের সফল অভিযানের মধ্য দিয়ে সবাইকে বের করে আনা হয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযানে দুর্গম গুহা থেকে বের হয়ে আসার পর হাসপাতালের সুরক্ষিত কক্ষে থাকা ওই কিশোরদের প্রথমবারের মতো দেখেছেন তাদের বাবা-মা। সিএনএন জানিয়েছে, পরিবারের সদস্যরা তাদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পারেননি। বুধবার (১১ জুলাই), এক সংবাদ সম্মেলনে থাই কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত  ভিডিওতে দেখা যায়, ১১ থেকে ১৬ বছর বয়সী ওই শিশু ফুটবলাররা হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে আছে। কাঁচের দেয়ালের ওপাশ থেকে তাদেরকে দেখছেন মা-বাবা। সন্তানরা তাদের দিকে হাত নাড়াচ্ছে আর মা-বাবার চোখে অশ্রু।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রথম ধাপে গুহা থেকে যে চার শিশু বের হয়ে আসে তাদেরকে কাঁচের দেয়ালের ওপাশ থেকে দেখার সুযোগ পেয়েছেন স্বজনরা। টেলিফোনে তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। শিগগিরই তারা একে অপরের সঙ্গে একত্রিত হতে পারবে। তবে তখনও সংক্রমণ ঠেকাতে প্রটেক্টিভ পোশাক পরেই শিশুদের সঙ্গে দেখা করতে হবে তাদের। দ্বিতীয় ধাপে উদ্ধার হওয়া শিশুদের মা-বাবারাও কাঁচের দেয়ালের অপর পাশ থেকে সন্তানদের দেখতে পেয়েছেন। তবে তৃতীয় দলটিকে এখনও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন থাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শক তোংচাই লের্তভিরাইরাতানাপং। রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার স্বাভাবিকতা ফেরাতে অন্তত ওই শিশুদেরকে এক সপ্তাহ হাসপাতালে থাকা লাগবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

১১ বছর বয়সী সন্তান তিতুনকে এক নজর দেখার পর বাবা তানাওয়াত ভিবুনরুংরুয়াং এর চোখে মুখে দেখা গেলো স্বস্তির ছায়া। তবে গ্লাসের ওপাশ থেকেই শুধু ছেলেকে দেখতে পেয়েছেন। তাকে স্পর্শ করতে পারেননি। তানাওয়াত জানান, ছেলেকে জড়িয়ে ধরতে ইচ্ছে করছিলো তার। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে তিনি বলেন, ‘আমি কাঁদতে শুরু করেছিলাম, প্রত্যেকে কাঁদতে শুরু করেছিল। যারা আমার সন্তানকে উদ্ধার করেছে, তাকে নতুন জীবন পেতে সহায়তা করেছে তাদেরকে ধন্যবাদ দিতে চাই। এ যেন তার পুনর্জন্ম।’

/এফইউ/বিএ/

x