উত্তর কোরিয়ার এক পঞ্চমাংশ শিশুই অপুষ্টির শিকার

বিদেশ ডেস্ক ১৮:১৩ , জুলাই ১২ , ২০১৮

উত্তর কোরিয়ার শিশুদের প্রায় এক পঞ্চমাংশই অপুষ্টির শিকার উল্লেখ করে উদ্বেগ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লৌকক। সেখানকার হাসপাতালগুলোতেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরবরাহ নেই বলে জানিয়েছেন তিনি। উত্তর কোরিয়া সফরের প্রথম দিনে কয়েকটি স্থান পরিদর্শনের পর সেখানকার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানান লৌকক।  

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন
সাধারণ মানুষের দুর্দশাপূর্ণ অবস্থা নিয়ে সচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে উত্তর কোরিয়া সফর শুরু করেন লৌকক। রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর কোরিয়ার অফিসিয়্যাল হেড অব স্টেট কিম ইয়ং চোল ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জ্যাং জুন-স্যাং-এর সঙ্গে দেখা করেন তিনি। পরে জাতিসংঘের ওয়েবসাইট ও লৌককের টুইটার অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করা হয়। সেখানে লেখা হয়: ‘আমরা একটি জিনিস স্পষ্টভাবে দেখছি, তাহলো এখানে মানবিক সহায়তা প্রয়োজন। আমরা যে এলাকাগুলোতে গিয়েছি সেগুলোসহ গ্রাম্য এলাকাগুলোতে থাকা শিশুদের অর্ধেকেরও বেশি বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত।’  ২০১১ সালেও উত্তর কোরিয়া সফরে গিয়েছিলেন লৌকক। এবারের সফরের পর তার উপলব্ধি হলো, শিশুদের নিয়ে খানিকটা অগ্রগতি হয়েছে। তবে এখনও উত্তর কোরিয়ার ২০ শতাংশ শিশু অপুষ্টিতে ভুগছে আর এ সংখ্যাটা অনেক বলেই মনে করেন তিনি। 

পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষার সাজা হিসেবে উত্তর কোরিয়ার ওপর জাতিসংঘ অবরোধ আরোপ করলেও এর আওতা থেকে মানবিক সহায়তাকে বাদ রাখা হয়েছে। তবে কর্মকর্তাদের দাবি, বাণিজ্যে বিধি-নিষেধের কারণে সহায়তা পৌঁছাতে দেরি হচ্ছে।

জাতিসংঘের সহায়তা পায় না এমন একটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন লৌকক। সেখানে যক্ষ্মা রোগে আক্রান্ত ১৪০ জন রোগি ভর্তি হয়েছে। কিন্তু হাসপাতালটিতে মাত্র ৪০ জনের জন্য পর্যাপ্ত ওষুধ আছে। দেশজুড়ে হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা সরবরাহ ও সরঞ্জামাদির ঘাটতি রয়েছে। বেশিরভাগ হাসপাতাল প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতে পারে না।

লৌকক মনে করেন, উত্তর কোরিয়ায় ত্রাণকর্মীদের প্রবেশাধিকার দেওয়ার ক্ষেত্রে উন্নতি হচ্ছে। তবে এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, জনগণের মৌলিক চাহিদা পূরণে উত্তর কোরিয়া সক্ষমতা না থাকার পরও পারমাণবিক অস্ত্র পরীক্ষা থেকে সরে আসতে রাজি নয় উত্তর কোরিয়া। মানবিক সহায়তা ও অর্থনৈতিক খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণের বদলে কোরীয় উপদ্বীপে নিজেদের নিরাপত্তা প্রশ্নকেই বেশি করে সামনে নিয়ে আসে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান

 

 

/এফইউ/

x