বাংলাদেশের নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্রে লবিস্ট নিয়োগ!

ব্রজেশ উপাধ্যায়, যুক্তরাষ্ট্র ১৫:৪৮ , সেপ্টেম্বর ১৪ , ২০১৮

বাংলাদেশের সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি’র পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি লবিং ফার্মকে ভাড়া করা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনে তদবির চালানো এবং নির্বাচনের সময় দলটির আন্তর্জাতিক প্রসারে কাজ করবে ফার্মটি।

হোয়াইট হাউস
যুক্তরাষ্ট্রের জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের কাছ থেকে পাওয়া নথিতে দেখা গেছে, ওয়াশিংটনভিত্তিক ব্লু স্টার স্ট্রাটেজিস ফার্মের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর করেছেন আব্দুল সাত্তার নামে এক ব্যক্তি। সাত্তারকে ‘বিএনপির প্রতিনিধি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে নথিতে।

চুক্তিতে বিএনপি’র পক্ষে মুখ্য স্বাক্ষরদাতা সাত্তার যুক্তরাজ্যে বসবাস করেন। নথিতে রাজনৈতিক দলটির ঠিকানায় উল্লেখ আছে- বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল, ২৮, ১ ভিআইপি রোড, ঢাকা-১২০৫, বাংলাদেশ। চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম মাসের (আগস্ট ২০১৮) জন্য লবিং ফার্মটিকে ২০ হাজার মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হবে। পরবর্তী মাসগুলোর (সেপ্টেম্বর-ডিসেম্বর ২০১৮) প্রত্যেকটির জন্য ৩৫ হাজার মার্কিন ডলার করে দেওয়া হবে। নির্বাচনে বিএনপির পক্ষে বার্তা তৈরি করে তা যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসসহ প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছে দেবে ব্লু স্টার। আর ব্লু স্টারকে এ কাজে সহযোগিতা করবে রাস্কি পার্টনার্স নামে ওয়াশিংটনভিত্তিক অন্য একটি কমিউনিকেশন ফার্ম।

চুক্তিনামায় বলা হয়েছে, ‘ব্লু স্টার স্ট্রাটেজিস বার্তা তৈরি ও বর্ণনা করবে; সেগুলো পাঠানো হবে নির্বাচিত ও নিয়োগকৃত মার্কিন নির্বাহী শাখার কর্মকর্তার কাছে; কংগ্রেসের কাছে; বাণিজ্য, শ্রম, মানবাধিকার, নারীর ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন ও নির্বাচন পর্যবেক্ষণ সংস্থার কাছে, যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি নীতিমালা সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে, সাবেক মার্কিন কর্মকর্তা ও রাষ্ট্রদূত এবং বেসরকারি খাত ও ডায়াসপোরা কমিউনিটির কাছে।’

ব্লু স্টার স্ট্রাটেজিস ফার্মের ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়েছে, ‘পররাষ্ট্র নীতি, নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক নীতিমালার অগ্রাধিকারের জায়গাগুলোকে এগিয়ে নিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক দল ও সরকার আমাদের বেছে নেয়।’

ওয়েবসাইটে নিজেদের বেশ কিছু কাজ ও সফলতার তালিকা যুক্ত করেছে ব্লু স্টার। সেখানে পূর্বাঞ্চলীয় ইউরোপের একটি দেশের এক রাজনৈতিক দলকে নিয়ে কাজ করার কথাও উল্লেখ আছে। এক দশক ধরে দলটি ক্ষমতায় যেতে পারছিল না। ওই দল সম্পর্কে ওয়েবসাইটে লেখা হয়েছে, ‘তারা ভয় পাচ্ছিলো যে বড় একটি রাজনৈতিক দল এরকম পরিস্থিতিতে সহজেই নির্বাচন প্রক্রিয়াকে নিজেদের জন্য সুবিধাজনক অবস্থায় নিয়ে যেতে পারবে।’

ব্লু স্টারের দাবি, ওই নির্বাচনের প্রতি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা যেন মনোযোগ দিতে শুরু করে তা নিশ্চিত করতে কাজ করেছে তারা। নির্বাচনের দিন নিজেদের ক্লায়েন্ট বেশি ভোট পেয়েছিল বলেও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্লু স্টারের দাবি, ওই নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণ করতে মার্কিন কংগ্রেসের তিন সদস্য ও একজন উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটি সফর করেছেন। নির্বাচনের চ্যালেঞ্জগুলোকে স্বীকার করে একটি প্রস্তাব পাস করেছিল মার্কিন সিনেট।

মার্কিন জনগণের কাছে বিতর্কিত বিষয় হলেও লবিং করা কিংবা লবিং কোম্পানিকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সমর্থন করার মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতিকে প্রভাবিত করতে পারে বিদেশি রাষ্ট্র। আইনগতভাবে এটি পুরোপুরি বৈধ। যুক্তরাষ্ট্রের আইনে আরও বলা আছে, বিদেশি রাষ্ট্র ও লবিং ফার্মের মধ্যকার চুক্তির কথা প্রকাশ করবে জাস্টিস ডিপার্টমেন্ট।

জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের নথি থেকে জানা গেছে, বর্তমান বাংলাদেশ সরকারও ২০১৬ সালের এপ্রিল থেকে ২০১৭ সালের মার্চ পর্যন্ত ওয়াশিংটনভিত্তিক লবিং গ্রুপ বিজিআর পাবলিক রিলেশন্সকে ভাড়া করেছিল। তখন কৌশলগত জনসংযোগ ও সরকারকে পরামর্শ দেওয়ার কাজ হয়েছিল। মার্কিন জাস্টিস ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, এ কাজের জন্য ২৫ হাজার মার্কিন ডলার পেয়েছে বিজিআর ফার্ম।

/এফইউ/এমওএফ/

x