মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় শেষ পর্যন্ত ইরানি তেল আমদানি কমিয়েছে ভারত

বিদেশ ডেস্ক ১৯:৪৫ , সেপ্টেম্বর ১৪ , ২০১৮

ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে স্বীকৃতি না দিলেও দেশটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের কাছে আরও গ্রহণযোগ্য হয়ে উঠতে ভারত ইরান থেকে তেল আমদানি হ্রাসের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে। ভারতীয় তেল পরিশোধনাগারগুলো সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাসে ইরান থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত তেলের পরিমাণ আগের তুলনায় অর্ধেকে নামিয়ে আনবে। অন্যদিকে ভারত চেষ্টা করছে ইরানি তেল কেনার ক্ষেত্রে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার থেকে অব্যাহতি পেতে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, গত ৭ মে মাসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাভেদ জারিফকে ইরান থেকে তেল মাদানি না কমানোর সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছিলেন। তবে জিন মাসেই আবার ভারতীয় জ্বালানিমন্ত্রী ইরানি তেল আমাদানি হ্রাসের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন।

২০১৫ সালে পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের জন্য ইরানের সঙ্গে বিশ্বের শক্তিশালী কয়েকটি দেশের চুক্তি হয়েছিল। ওই চুক্তিতে, ইরান শুধু শান্তিপূর্ণ প্রকল্পে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তার বদলে বিশ্ব শক্তিগুলো ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে রাজি হয়। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নেন এবং দেশটির ওপর আবার নিষেধাজ্ঞা আরোপের ঘোষণা দেন। আগস্টের ছয় তারিখে ইরানের ওপর যেসব মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে তাদের বেশ কয়েকটি আগামী নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে। মে মাসে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ বলেছিলেন, ভারত শুধুমাত্র জাতিসংঘের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞাকেই সমর্থন করবে। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে ভারতের পক্ষে সেখানকার আর্থিক ব্যবস্থায় গ্রহণযোগ্যতা পেতে প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হবে।

ইরানের কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি তেল কেনে চীন। আর ভারত তার দ্বিতীয় বৃহত্তম তেল আমদানিকারক দেশ। মার্কিন অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় আরও বেশি গ্রহণযোগ্যতা পেতে ভারত সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মেয়াদে প্রতি মাসের জন্য এক কোটি ১২ লাখ ব্যারেল তেল কম কেনার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। জুন মাসের ভারতের জ্বালানিমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, নভেম্বর থেকে ইরানি তেলের আমদানি বিপুলভাবে হ্রাস পেতে পারে। এমন পরিস্থিতির আঁচ করতে পেরে এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে ভারত ইরানি তেল আমদানি বাড়িয়ে দিয়েছিল। গত এপ্রিল থেকে আগস্ট মাস পর্যন্ত ভারত ইরানের কাছ থেকে প্রতিদিন গড়ে ছয় লাখ ৫৮ হাজার ব্যারেল তেল আমদানি করেছে। সেপ্টেম্বর–অক্টোবর মাসে ইরানি তেল আমদানির হ্রাসের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে তাতে ইরান থেকে ভারতের তেল আমদানি ৪৫ শতাংশ কমে দাঁড়াবে প্রায় তিন লক্ষ ছয় হাজার হাজার ব্যারেলে। এনার্জি আস্পেক্টের প্রধান গবেষক অমৃতা সেন বলেছেন, ‘ভারতীয় তেল পরিশোধনাগারগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণ তেল সংগ্রহ করে রেখেছে যাতে করে ইরান থেকে তেল আমদানি শূন্যতে নেমে গেলেও সমস্যা না হয় বা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যহতি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন চালু রাখা যায়।’

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও গত সপ্তাহে নয়া দিল্লিতে মন্তব্য করেছেন, ভারতের মতো যেসব দেশ ইরানের কাছে থেকে তেল কিনছে তাদেরকে নিষেধাজ্ঞা মান্য করার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া যেতে পারে। তবে এসব দেশকে ক্রমান্বয়ে ইরান থেকে তেল আমদানি শূন্যতে নামিয়ে আনতে হবে। ভারতের মুদ্রা রুপির মান পড়তির দিকে। তাছাড়া জ্বালানি তেলের দাম সেখানে ক্রমেই বাড়ছে। এমন অবস্থায় ভারত ইরান থেকে তেল আমদানি বন্ধ করতে চায় না। তাছাড়া মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে থাকা ইরান ভারতের কাছে হ্রাসকৃত মূল্যে তেল বিক্রি করে।

ভারতীয় সরকারি সূত্রগুলো মার্কিন পক্ষকে এ বিষয়ে জানিয়েছে। ইরানের ওপর আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা থেকে অব্যাহতি পেতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেনদরবার চালাচ্ছে ভারত। দেশটির একজন কর্মকর্তা বলেছেন, ‘ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশের সঙ্গেই আমাদের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। আমরা চেষ্টা করছি দুটি সম্পর্ককেই একটি ভারসাম্যের সৃষ্টির মাধ্যমে রক্ষা করতে। আমাদেরকে তেল পরিশোধনাগার ও সাধারণ ক্রেতাদের স্বার্থের কথাও মাথায় রাখতে হচ্ছে।’ রয়টার্স লিখেছে, শেষ পর্যন্ত ওয়াশিংটন যদি ভারতকে ইরানের ওপর আরোপকৃত নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকার সুযোগ না দেয়, তাহলে নয়া দিল্লিকে তেহরানের কাছ থেকে তেল আমদানি বন্ধই করে দিতে হবে।

/এএমএ/

x