আমরা যুক্তরাজ্যে শুধু ঘুরতে গিয়েছিলাম: অভিযুক্ত রাসায়নিক হামলাকারী

বিদেশ ডেস্ক ২১:৫৭ , সেপ্টেম্বর ১৪ , ২০১৮

পক্ষত্যাগী সাবেক রুশ গোয়েন্দা সের্গেই স্ক্রিপাল ও তার মেয়ে ইউলিয়াকে রাসায়নিক প্রয়োগ করে হত্যা চেষ্টার অভিযোগে যে দুইজন সন্দেহভাজনের ছবি প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য, তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেছে। রুশ টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অভিযুক্তরা সাক্ষাৎকার দিয়ে বলেছে, তারা ‘সুন্দর ব্রিটিশ শহরে’ নিছকই ভ্রমণের জন্য গিয়েছিল। ঘুরতে ঘুরতে সের্গেই স্ক্রিপালের বাড়ির কাছে তারা গিয়ে থাকতে পারে। কিন্তু বাড়িটি কোথায় তা তারা নিজেরাও জানে না। বার্তা সংস্থা রয়টার্স লিখেছে, অভিযুক্ত রুশ নাগরিকদের সাক্ষাৎকারে দেওয়া তথ্যকে ‘নিশ্চিতভাবেই অসত্য’ আখ্যা দিয়েছে যুক্তরাজ্য।

যুক্তরাজ্যের সালসব্যুরিতে গত ৪ মার্চ একটি বিপণিকেন্দ্রের বেঞ্চে সের্গেই স্ক্রিপাল এবং তার ৩৩ বছরের মেয়ে ইউলিয়াকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। পরে জানা যায় তারা নোভিচক নামের রাসায়নিকের হামলার শিকার। তাদের বাড়ির দরজাতেও মেলে নোভিচক নামক রাসায়নিকের উপস্থিতি। আক্রান্ত সাবেক রুশ গুপ্তচর ও তার মেয়েকে অত্যন্ত সঙ্কটাপন্ন অবস্থায় একটি পার্ক থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারে যাওয়া একজন ব্রিটিশ পুলিশ কর্মকর্তা রাসায়নিকের প্রভাবে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। নোভিচক একটি উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিষাক্ত রাসায়নিক, যা স্নায়ুতন্ত্রকে বিকল বা অকার্যকর করে দিতে পারে। এতে দৈহিক কর্মক্ষমতা বন্ধ হয়ে যায়। এটি ‘নার্ভ এজেন্ট’ নামেও পরিচিত।

যুক্তরাজ্য এ হামলার জন্য রাশিয়াকে দায়ী করে আসছে। আর রাশিয়াও বারবারই অভিযোগ অস্বীকার করছে। কিন্তু নিজের দাবিতে অনড় যুক্তরাজ্য সন্দেহভাজন দুই রুশ নাগরিকের ছবি প্রকাশ করেছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ব্রিটিশ দাবি নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, ওই দুই রুশ ব্যক্তি হামলার জন্য দায়ী নয়। অভিযুক্তরাও রাশিয়ার টেলিভিশন চ্যানেল আরটিতে উপস্থিত হয়ে দাবি করেছে, তারা নির্দোষ। আর সেটা প্রমাণ করতেই টেলিভিশন চ্যানেলে এসেছে।

বৃহস্পতিবার প্রচারিত ওই সাক্ষাৎকারে ওই দুই রুশ ব্যক্তি নিজেদেরকে আলেকজান্দার পেত্রভ ও রুসলান বসিরভ হিসেবে পরিচয় দিয়ে দাবি করেছে, ভ্রমণের উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিল তারা। চৌঠা মার্চ স্ক্রিপালের বাসার কাছে তার হয়তো ঘুরতে ঘুরতে চলে গিয়েছিল। কিন্তু স্ক্রিপালের ওপর হামলার সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। গার্ডিয়ান লিখেছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের আহ্বানে প্রকাশ্যে আসা ওই ব্যক্তিদের ভীত মনে হচ্ছিল। তারা প্রায় ২৫ মিনিট ধরে যুক্তরাজ্য ভ্রমণের বর্ণনা দিয়েছে।

সালসব্যুরিতে ভ্রমণে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে পেত্রভ বলেছে, ‘আমাদের বন্ধুরা অনেকদিন ধরেই সালসব্যুরি ঘুরে আসার পরামর্শ দিচ্ছিলেন। সালসব্যুরি ক্যাথিড্রাল শুধু ইউরোপে নয়, পুরো বিশ্বেই বিখ্যাত। এর মিনারের উচ্চতা ১২৩ মিটার। ক্যাথিড্রালটি তার ঘড়ির জন্যও বিখ্যাত। এই ধরণের ঘড়ি ওটাই প্রথম এবং এখনও তা কাজ করছে।’

কিন্তু গার্ডিয়ান জানিয়েছে, সালসব্যুরি ক্যাথিড্রাল, ওল্ড সারাম এবং স্টোনহেঞ্জের মতো যেসব দর্শনীয় স্থানের কথা তারা বলেছে, সেসব স্ক্রিপালের বাড়ির আশেপাশে অবস্থিত নয়। সালসব্যুরির ক্যাথিড্রাল তো স্ক্রিপালের বাড়ি থেকে দুই মাইল দূরে। ব্রিটিশ পুলিশ জানিয়েছে, পেত্রভ ও রুসলান তেসরা মার্চে সালসব্যুরিতে উপস্থিত হয়েছিল। হামলার আগে শহরটি ভালোভাবে দেখে নেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাদের ওই আগাম সফর। তেসরা মার্চে একবার সালসব্যুরিতে যাওয়ার কথা স্বীকার করে নিয়ে পেত্রভ ও রুসলান বলেছ, তেসরা মার্চে সালসব্যুরিতে বরফ পড়ায় তার ওই দিন দর্শনীয় স্থানগুলোতে যেতে পারেনি।

সাক্ষাৎকারে উপস্থাপিকা সিমোনিয়ান পরোক্ষভাবে জানতে চেয়েছিলেন, তারা সমকামী কি না। তার প্রশ্ন ছিল, ‘স্ট্রেইট পুরুষ হওয়ার পরও আপনাদের দুইজনকে সব ফুটেজেই এক সঙ্গে দেখা গেছে। আপনাদের মধ্যে এমন কি আছে যে আপনারা এত সময় একসঙ্গে কাটান?’ আরও অনেক প্রশ্নের মতো তারা এ প্রশ্নের উত্তর দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছে। পরে উপস্থাপিকা টুটারে লিখেছেন, তার গে হতে পারে।

যুক্তরাজ্য দাবি করেছে, নিনা রিচি নামের নারীদের সুগন্ধির বোতলে নোভিচক যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে প্রশ্ন করলে বসিরভ বলেছে, একজন পুরুষের কাছে নারীদের সুগন্ধি থাকাটা কি দোষের কিছু। শুল্ক বিভাগ তো সব কিছুই পরীক্ষা করে। যদি তাদের নারীদের জন্য তৈরি সুগন্ধির বোতলে কোনও আপত্তি থাকে তাহলে তারা সেটা বলবে। আর আমাদের কাছে এমন কিছু ছিলও না।’

যুক্তরাজ্য এই দুই সন্দেহভাজনের দেওয়া তথ্যকে সম্পূর্ণ অসত্য বলে মনে করে। এমন কি তাদের নাম আসল কি না তা নিয়েও ব্রিটিশ পুলিশের সন্দেহ রয়েছে। কারণ নাত তারা নিকেদের বিষয়ে বিস্ত্রতারিত পরিচয় দিয়েছে আর নাত পাসপোর্ট দেখিয়েছে নিজেদের দাবির সত্যতা প্রমাণের জন্য। যুক্তরাজ্য চায় ওই দুই ব্যক্তিকে বিচারের মুখোমুখি করতে। তবে তারা রাশিয়ার কাছে প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানাবে না। যুক্তরাজ্যের ভাষ্য, রাশিয়া প্রত্যর্পণের অনুরোধে সাড়া দেয় না।

/এএমএ/

x