আমার চুক্তি না মানলে হয় ‘নো ডিল ব্রেক্সিট,’ নয় তো ব্রেক্সিট বাতিল: থেরেসা মে

বিদেশ ডেস্ক ২০:০০ , ডিসেম্বর ০৬ , ২০১৮

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বৃহস্পতিবার (০৬ ডিসেম্বর) বলেছেন, তিনি যুক্তরাজ্যের বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে যে খসড়া চুক্তি করেছেন তা যদি সংসদ সদস্যরা মেনে নিতে না চান, তাহলে তারা নো ডিল ব্রেক্সিটকেই ডেকে আনবেন। আর যদি ‘নো ডিল ব্রেক্সিটও’ না চান, তাহলে তারা কার্যত ব্রেক্সিট বাতিলের দিকেই ঠেলে দেবেন যুক্তরাজ্যকে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ব্রেক্সিট বাতিল হয়ে যাওয়াটা মের কাম্য নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যে গণভোটের মাধ্যমে ব্রেক্সিটের সিদ্ধান্ত হয়েছিল তাকে সম্মান করা উচিত।

ব্রিটিশদের মধ্যে ব্রেক্সিট নিয়ে রয়েছে প্রবল ভিন্নমত। জরিপে ব্রেক্সিট গণভোট পরবর্তী সময়ে দেশটির জনগণের মনোভাব পাল্টে যাওয়ার চিত্র দেখা গেছে। অন্যদিকে তেমনি ব্রেক্সিটবিরোধীদের অনেকে দাবি তুলেছেন আরেকটি গণভোটের। ব্রেক্সিট চুক্তি চূড়ান্ত করা নিয়ে মতবিরোধের জেরে পদত্যাগ করেছেন দুই দুইজন ব্রেক্সিটবিষয়ক মন্ত্রী। অন্য মন্ত্রণালয়েরও কয়েকজন সরে দাঁড়িয়েছেন। এদের মধ্যে সর্বশেষ হচ্ছেন বিজ্ঞান ও বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী। এসবের পাশাপাশি, থেরেসা মেকে ব্রিটিশ কনজারভেটিভ পার্টির সংসদীয় প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে দিতে আস্থা ভোটের দাবি জানিয়ে চিঠি দিয়েছেন দলটির বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্য। ৪৮ জন দাবি করলেই ডাকা হবে আস্থা ভোট।

মে জানিয়েছেন, তিনি তার খসড়া ব্রেক্সিট প্রস্তাবকে সমর্থন করার বিষয়ে সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি মনে করেন ‘নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড ব্যাকস্টপের’ বিষয়ে সংসদ আরও বেশি কিছু করতে পারে। নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে যুক্তরাজ্যের শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর হবে না কি ইইউ সদস্য রাষ্ট্র আয়ারল্যান্ডের মতো ইইউয়ের শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর হবে তা নিয়ে মতবিরোধ রয়েছে। যদি নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে যুক্তরাজ্যের শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর হয় তাহলে সমস্যা দেখা দেয়, স্বাধীন দেশ আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে তার সীমান্ত ব্যবস্থা কার্যকর করা নিয়ে। কোনও পক্ষই কোনও ‘হার্ড বর্ডার’ চায় না। অন্যদিকে, যদি ইইউয়ের শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর হয় নর্দার্ন আয়ারল্যান্ডে, তাহলে যুক্তরাজ্যের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে তার একরকম সীমান্ত তৈরি হয়ে যাবে।

মে বলেছেন, ‘আমরা যদি ব্যাকস্টপ কার্যকর করতে চাই, তাহলেও তা অটোমেটিক হবে না। প্রশ্নটা হচ্ছে, আমাদের কী ব্যাকস্টপ কার্যকর করা উচিত হবে? সেক্ষেত্রে কী ইমপ্লিমেন্টেশনের সময় আরও বাড়ানো দরকার?’ গত বুধবার মে তার ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে সরকারি ও বিরোধী উভয় পক্ষের কাছ থেকে সমালোচনার শিকার হয়েছেন। তাদের চাপে আইরিশ ব্যাকস্টপ বিষয়ক অভ্যন্তরীণ পরামর্শের নথি প্রকাশ করতে বাধ্য হয় সরকার। সেখানে দেখা যায়, যথাযথ ধারা ব্যতিরেকে আইরিশ ব্যাকস্টপ কার্যকর করলে যুক্তরাজ্য অনির্দিষ্টকালের জন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের কাছে বাধা পড়ে থাকবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

থেরেসা মে বলেছেন, ‘এখন তিনটি পথ আছে: ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন থেকে কোনও চুক্তি ছাড়াই বেরিয়ে যাওয়া, সংসদে চুক্তি পাস করিয়ে ব্রেক্সিট কার্যকর করা অথবা ব্রেক্সিটের পরিকল্পনাই বাদ দেওয়া।’ কিছু সংসদ সদস্য ব্রেক্সিট বাতিল করানোর চেষ্টা করছেন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেছেন, গণভোটের ফলাফল উপেক্ষা করাটা ঠিক হবে না। রয়টার্স লিখেছে, যুক্তরাজ্যের সংসদে যে ১১ ডিসেম্বর ব্রেক্সিটের খসড়া প্রস্তাব নিয়ে যে ভোটাভুটি হওয়ার কথা তা পিছিয়ে দেওয়ার কথা ভাবছেন কি না সে প্রশ্ন বারবার এড়িয়ে গেছেন মে।

 

/এএমএ/

x