উচ্চ আদালতেও দুই রয়টার্স সাংবাদিকের ৭ বছরের কারাদণ্ড বহাল

বিদেশ ডেস্ক ১৪:৫৬ , জানুয়ারি ১১ , ২০১৯

মিয়ানমারে দাফতরিক গোপনীয়তা আইন ভঙ্গের দায়ে দণ্ডিত দুই রয়টার্স সাংবাদিকের আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছে সেদেশের হাইকোর্ট। শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) দুই সাংবাদিকের আপিলের রায় দিতে গিয়ে বিচারপতি বলেন, নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি বিবাদী পক্ষ। এর মধ্য দিয়ে রয়টার্স সাংবাদিকদ্বয়কে নিম্ন আদালতের দেওয়া সাত বছর করে কারাদণ্ড বহাল থাকছে। তবে রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টেও আপিল আবেদন করার সুযোগ থাকছে তাদের। রয়টার্সের এক প্রতিবেদন থেকে এসব কথা জানা গেছে।

দুই রয়টার্স সাংবাদিক (ফাইল ফটো)
২০১৭ সালের ডিসেম্বরের এক সন্ধ্যায় পুলিশ সদস্যদের আমন্ত্রণে রেস্টুরেন্টে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন মিয়ানমারে কর্মরত রয়টার্সের দুই সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়ে ও। পরে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ দাফতরিক গোপনীয়তা আইন ভঙ্গের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার দেখায়। রাখাইনের ইন দিন গ্রামে সেনা অভিযানের সময় রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো গণহত্যার ওপর অনুসন্ধান চালাতে গিয়েই মামলার কবলে পড়েন তারা। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের বিরুদ্ধে সাত বছর করে কারাদণ্ড ঘোষণা করে ইয়াঙ্গুনের একটি জেলা আদালত। নভেম্বরের শুরুতে ইয়াঙ্গুনের হাইকোর্টে দুই সাংবাদিকের পক্ষে আপিল করেন তাদের আইনজীবীরা। ডিসেম্বরে শেষ হয় আপিল শুনানি। আর শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) দেওয়া হয় রায়। এতে আপিল খারিজ করে দিয়ে নিম্ন আদালতের সাজা বহাল রাখা হয়।

শুক্রবার হাইকোর্টের বিচারপতি অং নাইং বলেন, ‘এটি যথাযথ সাজা’। আদালতের এমন সিদ্ধান্তে অসন্তোষ জানিয়েছে রয়টার্স কর্তৃপক্ষ। এক বিবৃতিতে বার্তা সংস্থাটির এডিটর-ইন চিফ স্টিফেন জে. এডলার বলেন, ‘ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়ে ও-এর সঙ্গে আরও একটি অবিচার করা হলো। তাদেরকে জেলে রাখার পেছনে কারণ একটাই। তাহলো, ক্ষমতাশালীরা সত্যকে ধামাচাপা দিতে চায়।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘সাংবাদিকতা কোনও অপরাধ নয়। মিয়ানমার যতদিন পর্যন্ত ভয়াবহ মিথ্যাকে সত্য বলে প্রতিষ্টা করার চেষ্টা করবে ততদিন মিয়ানমারে সংবাদমাধ্যমগুলো স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে না। মিয়ানমার আইনের শাসন ও গণতন্ত্র চর্চার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তা আদৌ পূরণ হচ্ছে কিনা সে ব্যাপারে সন্দেহ আছে।’

শুক্রবার আপিলের রায় ঘোষণার সময় দুই সাংবাদিক আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। রায়ের পর তাদের আইনজীবী থান জ অং জানিয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে এবার সুপ্রিম কোর্টে আপিল করবেন কিনা সে ব্যাপারে তিনি তার মক্কেলদের সঙ্গে কথা বলবেন। 

২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।  হত্যা-ধর্ষণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ছয় লাখেরও বেশি মানুষ। বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন এ ঘটনায় খুঁজে পেয়েছে গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের আলামত। তবে শুরু থেকে ও পর্যন্ত এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে মিয়ানমার।

জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ইন দিন গ্রামে সংঘটিত এক গণহত্যার চিত্র তুলে এনেছিলেন রয়টার্সের দণ্ডিত দুই সাংবাদিক। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ১০ রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য হয়। আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ওই ঘটনার দায়ে সেনা-সদস্যদের সাজা দিলেও দাফতরিক গোপনীয়তা আইনে রয়টার্স সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তাদের মুক্তির দাবিতে ক্রমেই জোরালো হচ্ছে আন্তর্জাতিক চাপ। এরইমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র,কানাডা,ব্রিটেনসহ বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ,জাতিসংঘ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কর্মকর্তারাও রয়টার্স সাংবাদিকদের মুক্তি দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

/এফইউ/

x