ক্রোয়েশিয়ার কাছে ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান বিক্রি আটকে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

বিদেশ ডেস্ক ১৭:৫৯ , জানুয়ারি ১১ , ২০১৯

ক্রোয়েশিয়া জানিয়েছে, তাদের কাছে ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান বিক্রির বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অনুমতি না পাওয়ায় ইসরায়েলের কাছ থেকে তারা এফ সিক্সটিন যুদ্ধবিমান কিনতে পারেনি। ক্রোয়েশিয়ার কাছে ৫০ কোটি ডলারে ১২টি যুদ্ধাবিমান বিক্রির আশা করেছিল ইসরায়েল। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মিডিল ইস্ট মনিটর জানিয়েছে, মার্কিন প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্যই যুক্তরাষ্ট্র এই বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে মনে করে ক্রোয়েশিয়ার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো।

ইসরায়েল ও ক্রোয়েশিয়ার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, তাদের নিজেদের মধ্যে কোনও সমস্যার কারণে বিমান বিক্রির সিদ্ধান্ত বাতিল হয়নি। ক্রোয়েশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী দামির ক্রিস্টিসেভিক ইসরায়েলি একজন কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তার ভাষ্য, ‘ইসরায়েল আমাদেরকে জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিমান বিক্রির বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অনুমতি সংগ্রহ করতে পারেনি।’

যুক্তরাষ্ট্র কেন ইসরায়েলের ব্যবহৃত এফ সিক্সটিন বিমান ক্রোয়েশিয়ার কাছে বিক্রিতে বাধা দিয়েছে তা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও পক্ষই উল্লেখ করেনি। যুক্তরাষ্ট্র শাট ডাউন চলার কারণে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য জানা যায়নি। কিন্তু ক্রোয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যমগুলো উল্লেখ করেছে, সংশ্লিষ্ট বিমানগুলোতে যুক্ত করা রয়েছে ইসরায়েলি প্রযুক্তি। ক্রোয়েশিয়া ওই বিমানগুলোর কিনলে সেগুলোর রক্ষণাবেক্ষণের কাজ হাতছাড়া হয়ে যাবে মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর। সমস্যা সেখানেই।

নিজেদের বিমানবাহিনীকে আধুনিক করার জন্য ক্রোয়েশিয়ার সরকার ইসরায়েলের কাছ থেকে এফ সিক্সটিন যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়ে অত্যন্ত আগ্রহী ছিল। গত মার্চ মাসে দেশটির প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, ক্রোয়েশিয়া শুধু ইসরায়েলের দেওয়া প্রস্তাবটিই গ্রহণ করবে; অন্য কোনও প্রস্তাব নয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বাধার মুখে তিনি গত বৃহস্পতিবার বলেছেন, বিমান কেনার বিষয়ে কোনও চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়নি, অর্থও খরচ হয়নি। সুতরাং বাজেটে কোনও প্রভাব পড়বে না।

ক্রোয়েশিয়া ২০০৯ সালে ন্যাটোতে এবং ২০১৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগ দিয়েছে। দেশটির বিমান বাহিনী বর্তমানে নির্ভর করে মিগ টোয়েন্টি ওয়ান যুদ্ধ বিমানের ওপর, যা পুরাতন প্রযুক্তির। তাছাড়া এসব বিমানের মধ্যে মাত্র তিনটি এখন ব্যবহারযোগ্য অবস্থায় রয়েছে। ক্রোয়েশিয়ার কাছে বিমান বিক্রির ক্ষেত্রে ইসরায়েলের প্রতিদ্বন্দ্বী অনেকে। এদের মধ্যে সবচেয়ে বড় সুইডেনের সাব। তারা নতুন যুদ্ধবিমান বিক্রি করতে চেয়েছে, যদিও সেগুলোর দাম অনেক বেশি।

/এএমএ/

x