সৌদি তরুণী রাহাফের আশ্রয় পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা

বিদেশ ডেস্ক ১৮:৫৬ , জানুয়ারি ১১ , ২০১৯

সৌদি আরবের তরুণী রাহাফ মুহাম্মেদ আল কুনুনের (১৮) শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তারওপর রাহাফ তার টুইটার অ্যাকাউন্ট বাতিল করে রেখেছেন। সব মিলিয়ে তার পরিস্থিতিতে নিয়ে জেগেছে প্রশ্ন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, রাহাফকে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ থেকে আশ্রয় দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছিলেন থাইল্যান্ডের অভিবাসন পুলিশের প্রধান। কিন্তু পরে তিনি সে বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিয়েছেন।

কুয়েত থেকে পালানো ও অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয়প্রার্থী সৌদি তরুণী রাহাফ মোহাম্মেদ আল কুনুনকে ট্রানজিটের সময় আটকে দেয় থাইল্যান্ডের অভিবাসন কর্মকর্তারা। তারা রাহাফকে জোর করে কুয়েতেগামী বিমানে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল। রাহাফ তার পরিবারের বিরুদ্ধে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ করেন। চুল কাটার জন্য তাকে ছয় মাস ঘরে বন্দি করে রাখা হয়েছিল। তাছাড়া, ইসলাম ত্যাগের কারণে তার এক জ্ঞাতি ভাই তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে।

০৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার তত্ত্বাবধানে তাকে থাইল্যান্ডে রাখার ব্যাপারে সম্মত হয় সে দেশের অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। এর মধ্য দিয়ে রাহাফ প্রত্যর্পণ ও পরিবারের সদস্যদের হাতে অনার কিলিংয়ের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থেকে মুক্ত হন। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা তাকে বৈধ শরণার্থীর স্বীকৃতি দিয়েছে।
থাইল্যান্ডের অভিবাসন পুলিশের প্রধান বক্তব্য প্রত্যাহার করে নেওয়ায় রাহাফের পরিস্থিতি নিয়ে জাগে প্রশ্ন। উৎকণ্ঠা আরও বাড়িয়ে দেয়, তার টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ হয়ে যাওয়ায়। তবে সাংবাদিক সোফি ম্যাকনিল টুইটারে জানিয়েছেন, রাহাফ নিরাপদে আছেন। টুইটারে তাকে অনেকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। তাই আপাতত তার টুইটার অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হয়েছে।

অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাহাফের বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে গত বুধবার অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছিল, সব শরণার্থীর আবেদন যে রকম প্রক্রিয়ায় বিবেচনা করা হয়, রাহাফের আবেদনও সেভাবেই বিবেচনা করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পিটার ডাটন মন্তব্য করেছিলেন, বিশেষ কোনও বিবেচনা কাজ করছে না তার বিষয়ে। তবে একজন তরুণীকে মানসিক চাপের মধ্যে থাকুক, তা কেউই চায় না।
সিএনএন লিখেছে,আবেদন করলেই আশ্রয় পাওয়াটা নিশ্চিত নয়। জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, বিশ্বজুড়ে আশ্রয় প্রার্থনা করা শরণার্থীদের মাত্র এক শতাংশ শেষ পর্যন্ত আশ্রয় পেয়েছে। অনেক সময় শরণার্থীদের দীর্ঘ সময় তৃতীয় কোনও দেশে অপেক্ষায় থাকতে হয় অনুমতির জন্য। এসময় ৯ মাস থেকে শুরু করে কয়েক বছর পর্যন্ত হতে পারে।

গত বুধবার কানাডার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র সিএনএনকে বলেছিলেন, কানাডা রাহাফের বিষয়টি নিয়ে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তার ভাষ্য, ‘কানাডা সবসময় মানবাধিকার প্রশ্নে অবস্থান নেবে। নারীর অধিকার নিশ্চিতে তো অবশ্যই।’ তবে রাহাফের বিষয়ে কানাডার তরফ থেকেও এখনও কোনও কিছু নিশ্চিতভাবে জানতে পারেনি সিএনএন।

/এএমএ/

x