সড়কের গোলচত্বরেই ঘাঁটি গেড়েছেন ফ্রান্সের ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনকারী

বিদেশ ডেস্ক ০৫:১৩ , জানুয়ারি ১২ , ২০১৯

জ্বালানি তেলের কর বৃদ্ধি প্রতিবাদে শুরু হওয়া ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনের কর্মীরা ফ্রান্সের বিভিন্ন সড়কের গোলচত্বরে ঘাঁটি গেড়েছেন। দীর্ঘদিন আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় বয়কট করেছেন তারা। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ‘দাবি পূরণের’ ঘোষণায় কোনও ভরসা নেই এসব আন্দোলনকারীদের। মহাসড়কের ওপর অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীদের অর্থ-খাদ্য দিয়ে সহায়তা করছেন সমর্থকরা। বার্তাসংস্থা এসোসিয়েটেড প্রেস ফ্রান্সের সঁলিসের এমনই এক গোলচত্বরে অবস্থান নেওয়া আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছে তাদের বক্তব্য।

ফ্রান্সের মোটরযান আইন অনুযায়ী, বেশি আলো প্রতিফলিত করে এমন এক ধরনের বিশেষ নিরাপত্তামূলক জ্যাকেট গাড়িতে রাখতে হয় চালকদের। এর রঙ সবুজাভ হলুদ (ইয়েলো)। আন্দোলনকারীরা এই জ্যাকেট (ভেস্ট) পরে বিক্ষোভের সূচনা করেছিল বলে আন্দোলনটি পরিচিতি পায় ‘ইয়েলো ভেস্ট’ নামে। এই আন্দোলনের কোনও ঘোষিত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নেই। গত নভেম্বরে শুরু হওয়া তাদের কর্মসূচিতে উত্তাল হতে শুরু করে প্যারিসসহ ফ্রান্সের বড় বড় সব শহর। জ্বালানি তেলের ওপর কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসে সেইসব মানুষ, অর্থনৈতিক চাপে যারা এমনিতেই পর্যদুস্ত।

উত্তর ওয়াজ অঞ্চলে সঁলিসের সংশ্লিষ্ট গোলচত্বরটিকে নিজেদের আস্তানা বানিয়ে ফেলেছেন আন্দোলনকারীরা। সেখানে যেমন রয়েছে প্রয়োজনীয় মুদি পণ্য, তেমন রয়েছে স্থায়ী বিছানা। রান্নার দায়িত্ব পালন করছেন কেউ, কেউ বা সামলাচ্ছেন মুদি পণ্যের হিসেব। আন্দোলনকারীদের প্রতি সমর্থনের সূচক হিসেবে হর্ন বাজিয়ে গোলচত্বর পার হন ট্রাক চালকরা। অন্যান্য সমর্থনকারীরা দিয়ে যান খাবার, অর্থ। এতটা জনসমর্থন থাকলেও গোলচত্বরে আবস্থান নেওয়া বেশিরভাগ আন্দোলনকারী নিজেদের নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি। নাম প্রকাশ হলে ধরে নিয়ে যাবে ফরাসি পুলিশ। দুইজনকে ধরে নিয়েও গেছে ইতোমধ্যে।

ফ্রান্সে এখন প্রবল শীত। ঠাণ্ডা উপেক্ষা করে ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলনকারীরা রাস্তায় রয়েছেন। শীত কাটাতে জ্বালানো হয়েছে আগুন। একজন নারী আন্দোলনকারী বলেছেন, ‘তারা আমার অবসরভাতা ৩০ ইউরো কমিয়ে দিয়েছে। এটা কোনও মেনে নেওয়ার মতো ঘটনা না। আমি ৪১ বছর কাজ করেছি। আমি ডাকাতি করে তো কিছু নিচ্ছি না। আমি আমার পাওনা অর্থ চাইছি।’

২৯ বছর বয়সী ট্রিস্টান বলেছেন, ‘ওভারটাইমের মজুরির ক্ষেত্রে কর মওকুফের ঘোষণায় আমি খুশি। কিন্তু আমি আমার দাদির জন্য আন্দোলন করছি, যিনি জীবন ধরনের জন্য নূন্যতম প্রয়োজনগুলো মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন। আমি আমার বোনের জন্য আন্দোলন করছি, যার তিনটি সন্তান রয়েছে। অথচ বলা হয়েছে, তার বেতন কমিয়ে দেওয়া হবে। আমি আমার মায়ের জন্য আন্দোলন করছি, যাকে জোর করে তার অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। আমি আমার বন্ধুদের জন্য আন্দোলন করছি, যারা তাদের নূন্যতম মজুরির অর্থ দিয়ে চলতে পারছে না।’

আরেকজন আন্দোলনকারীর ভাষ্য, ‘ম্যাক্রোঁ যদি ওয়েলথ ট্যাক্স (আইএসএফ) আবার চালুর ঘোষণা দিত তাতেও একটা লক্ষণ বোঝা যেত। কিন্তু তা তো হয়নি।’

ম্যাক্রোঁ যে আলোচনার ডাক দিয়েছেন সে বিষয়ে অনাস্থা জানিয়ে ৬১ বছর বয়সী মিশেল বলেছেন, ‘এসব বিতর্কের কোনও ফল আসবে বলে মনে আমি করি না। আরআইসি কার্যকর হলে কিছু একটা হতে পারে।’ আরআইসির অর্থ ‘সিটিজেনস ইনিশিয়েটিভ রেফারেন্ডাম।’ আন্দোলনকারীদের প্রস্তাব হচ্ছে, কোনও বিষয়ে যদি সাত লাখ মানুষ দাবি জানান তাহলে সে বিষয়ে গণভোটের আয়োজন করতে হবে এক বছরের মধ্যে।

সঁলিসের এসব আন্দোলনকারীরা নিজেদেরকে উপেক্ষিত মনে করেন। তারা যেমন ভোট দিয়েছেন চরম ডানপন্থী মেরি লি পেনের দলকে তেমনি ভোট দিয়েছেন চরম বামপন্থীদের। কিন্তু কোনও লাভ হয়নি। প্রত্যেকবারই তাদেরকে আশাহত হতে হয়েছে।

 

/এএমএ/

x