খাশোগি হত্যা ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের যুক্তি খণ্ডালেন অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেন

বিদেশ ডেস্ক ২৩:৩৯ , জানুয়ারি ১২ , ২০১৯

মার্কিন গোপন নথি ফাঁস করা হুইসেল ব্লোয়ার অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেন মন্তব্য করেছেন, ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান এনএসও যদি মানবাধিকার হরণের জন্য বহুদিন ধরে নিন্দিত সৌদি আরবের কাছে নজরদারি প্রযুক্তি বিক্রি না করত তাহলে হয়তো জামাল খাশোগিকে হত্যা করা সম্ভব হতো না; তিনি এখনও বেঁচে থাকতেন। একটি ইসরায়েলি সংবাদপত্রকে দেওয়া স্নোডেনের সাক্ষাৎকার অনুসারে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা মিডিল ইস্ট মনিটর লিখেছে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আত্মপক্ষ সমর্থনে দেওয়া যুক্তিও খণ্ডন করেছেন স্নোডেন। একটি মানবাধিকার সংস্থার তদন্তের কথা উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, খাশোগির অন্তত তিনজন বন্ধুর ফোন হ্যাক করার কাজে এনএসওর পেগাসাস নজরদারি সফটওয়্যার ব্যবহার করা হয়েছে। ফলে তাদের সঙ্গে খাশোগির কথোপকথন নজরদারির আওতাতেই ছিল।অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেন

এডওয়ার্ড স্নোডেন মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা এনএসএর সাবেক গোয়েন্দা কর্মকর্তা। মার্কিন নথি ফাঁস করার পর থেকে তিনি পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। আর জামাল খাশোগি সৌদি যুবরাজের সমালোচক, যাকে তুরস্কের ইস্তানবুলে অবস্থিত মার্তকিন কনস্যুলেটে হত্যা করা হয়। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার মতে, এই হত্যাকাণ্ডের আদেশ দাতা সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান।

স্নোডেন বলেছেন, ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান এনএসও দাবি করে তারা জীবন রক্ষায় নজরদারি প্রযুক্তি বিক্রি করে। কিন্তু তাদের কাজ ঠিক তার উল্টো। ওই একই সাক্ষাৎকারে এনএসওর সিইও শালেভ হুলিও তার বক্তব্য উপস্থাপন করেছে। হুলিওর দাবি, তার প্রতিষ্ঠানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে জামাল খাশোগিকে বিষয়ে কোনও নজরদারি চালান হয়নি। তারা সরাসরি তাদের গ্রাহকদের সঙ্গে কথা বলে এবং প্রযুক্তিগত কৌশলে নিশ্চিত হয়েছেন, খাশোগিকে সৌদি আরব কেন, তাদের কোনও গ্রাহকই লক্ষ্যবস্তু বানায়নি।

তাদের পেগাসাস নামের সফটওয়্যারটি ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু বানানো ব্যক্তির মোবাইল ফোন হ্যাক করা যায়। ফলে ভুক্তভোগীর মোবাইল ফোনের সব তথ্য জানতে পারা যায়। মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশের সরকার এই সফটওয়্যার ব্যবহার করে। এই প্রথম এনএসওর সিইও প্রকাশ্যে খাশোগি হত্যায় তাদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের বিষয়ে মুখ খুললেন। সিটিজেন ল্যাব নামের একটি মানবাধিকার সংস্থা প্রমাণ করেছে, এনএসওর নজরদারি সফটওয়ার ব্যবহার করে খাশোগির অন্তত তিনজন বন্ধুর ফোন হ্যাক করা হয়েছিল এবং তারা নজরদারির আওতাতে ছিলেন।

ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠান এনএসওর সিইও শালেভ হুলিওর যুক্তি খণ্ডন করে অ্যাডওয়ার্ড স্নোডেন বলেছেন, ওমর আব্দুল আজিজ, ইয়াহিয়া আসিরি এবং ঘানিম আল মাসারির নামে জামাল খাশোগির তিন বন্ধুর ফোন হ্যাক করা হয়েছিল। স্বাভাবিকভাবেই, তাদের সঙ্গে খাশোগির যে কথোপকথন হয়েছে তা জানতে পেরেছে নজরদারি করা দেশ। তার ভাষ্য, ‘আমার ভালো লাগত যদি আমি এনএসওর কথা বিশ্বাস করতে পারতাম। কিন্তু মনে রাখা উচিত, কোনও কথোপকথন গোপনে শোনার জন্য অন্তত দুইটি ফোন থাকে। একটা ভুক্তভোগীর ফোন, আরেকটি তিনি যার সঙ্গে কথা বলছেন তার ফোন।’

খাশোগির অন্তত তিন বন্ধুর ফোন হ্যাকড হওয়ার প্রমাণ পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেছেন, ‘এনএসএতে কাজ করার সময় আমরা একটা কথা সবসময় বলতাম: একবার ঘটলে সেটা কাকতালীয়। দুইবার ঘটলে তা একটি সম্ভাবনা। তিনবার ঘটলে সেটা নিশ্চিতভাবেই উদ্দেশ্যমূলক। আমি আমার কর্মজীবনে খাশোগির ঘটনাটির মতো ঘটনা আরও অনেক দেখেছি।’

গত নভেম্বরে ইসরায়েলের তেল আবিবে অনুষ্ঠিত এক সম্মেলনে রাশিয়া থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে যোগ দিয়ে স্নোডেন মন্তব্য করেছিলেন, ইসরায়েলের এনএসও যে নজরদারি প্রযুক্তি বিক্রি করছে তা ‘ডাকাতির অস্ত্র।’ শুধু মুনাফার জন্য এমন জিনিসের বিক্রি মানুষের প্রাণ কেড়ে নিতে বাধ্য।

/এএমএ/

x