ইসলামি বিপ্লবের ৪০তম বিজয় দিবস উদযাপন ইরানের

বিদেশ ডেস্ক ১৯:২৭ , ফেব্রুয়ারি ১১ , ২০১৯

ইসলামি বিপ্লবের ৪০তম বিজয় দিবস উদযাপনে বিভিন্ন শহরের রাস্তায় যোগ দিয়েছে লাখ লাখ ইরানি নাগরিক। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নতুন ইরান গড়ার স্বপ্ন নিয়ে রাজধানী তেহরানের আজাদি স্কয়ারে জড়ো হয় লাখ লাখ ইরানি। মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, এসব ইরানি নাগরিক জাতীয় পতাকা নাড়িয়ে মার্কিন মতাদর্শের মৃত্যু কামনা করে স্লোগান দেয়। এছাড়া বিপ্লবের বিজয় দিবস উপলক্ষে নিজেদের নির্মিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শনীরও আয়োজন করা হয়।ইসলামী বিপ্লবের ৪০তম বিজয় দিবস উপলক্ষে তেহরানের আজাদী স্কয়ারে জড়ো হয় লাখ লাখ ইরানি

১৯৭৯ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ইরানের যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত তৎকালীন শাসক শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি পদত্যাগে বাধ্য হলে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ইরানকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করেন। দিনটিকে ইসলামি বিপ্লবের বিজয় দিবস হিসেবে পালন করা হয়। গত বছর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর  ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মধ্যেই এবারের বিজয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে।

তেহরানে বিজয় দিবসের আয়োজনে স্ত্রী ও ১৮ মাস বয়সী ছেলেকে নিয়ে সোমবার যোগ দিয়েছেন মেডিক্যাল শিক্ষার্থী হুসেইন হুসেইনপুর। তিনি বলেন, ‘আমি নিজের সন্তান এবং জাতির জন্য একটি সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখি’।

৩৫ বছরের মাহমুদ হেম্মাত তার ৬৮ বছর বয়সী মা পারিভাস ফাকরি হুইল চেয়ারে করে নিয়ে র‌্যালিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘অসুস্থতা সত্ত্বেও মা আমাকে বাইরে নিয়ে আসতে বলেছেন’।

৪০ বছর আগে তেহরানের রাস্তায় নেমে আসা লাখ লাখ বিপ্লবীদের সঙ্গে ছিলেন পারিভাস ফাকরি। এত বছর পরেও সেই বিপ্লব রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ তিনি। বলেন, আমি অবসর নিয়েছি, জানি আজকের সময়ে বহু অর্থনৈতিক সমস্যা রয়েছে। কিন্তু এটা বিপ্লব থেকে আলাদা।  গত ৪০ বছরে ইরান অনেক এগিয়ে গেছে আর শক্তিশালী হয়েছে। 

আজাদি স্কয়ারের সমাবেশ ছাড়াও প্রতিবছরের মতো এবারও বিজয় দিবসে নিজেদের নির্মিত ক্ষেপণাস্ত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

চলতি বছরের স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমরা সেই শাসকদের থেকে দৃষ্টি সরিয়ে রাখতে পারি না যারা ‘আমেরিকার মৃত্যু’ বলে চিৎকার করে।  এরপরই গত সপ্তাহে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ‘আমেরিকার মৃত্যু’ স্লোগানের ব্যাখ্যা দিয়ে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই স্লোগানের মাধ্যমে আমেরিকার মানুষের নয় বরং এর নেতাদের মৃত্যু কামনা করা হয়। খোমেনি বলেন, আমেরিকা যতদিন হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড বন্ধ না করবে ততদিন ইরানের জনগণ ‘আমেরিকার মৃত্যু’ স্লোগান থামাবে না।

 

/জেজে/এএ/

x