ইন্টারনেট ‘বিচ্ছিন্ন’ হওয়ার পরিকল্পনা রাশিয়ার

বিদেশ ডেস্ক ২১:৫৮ , ফেব্রুয়ারি ১১ , ২০১৯

ভবিষ্যতের সাইবার যুদ্ধ মোকাবিলায় পরিকল্পনার অংশ হিসেবে স্বল্প সময়ের জন্য ইন্টারনেট বিচ্ছিন্ন হওয়ার পরিকল্পনা করছে রাশিয়া। এই পরীক্ষার আওতায় রুশ নাগরিকেরা নিজ দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময় করতে পারলেও আন্তর্জাতিকভাবে তা করতে পারবে না। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানিয়েছে, আগামী ১ এপ্রিলের আগেই এই পরীক্ষা চালানো হবে বলে জানানো হলেও নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি।

উস্কানির অভিযোগ এনে সাইবার আক্রমণসহ অনলাইনে অন্য হস্তক্ষেপের অভিযোগে রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের হুমকি দিয়ে আসছে ন্যাটো জোট ও তাদের মিত্ররা।  এমন বাস্তবতায় স্বতন্ত্রভাবে ইন্টারনেট পরিচালনায় প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনাকে বৈধতা দিতে গত বছর রাশিয়ার পার্লামেন্টে একটি আইন অনুমোদনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ডিজিটাল ইকোনোমি ন্যাশনাল প্রোগ্রাম নামে খসড়া ওই আইন অনুযায়ী রাশিয়ার ইন্টারনেট সেবাদাতাদের (আইএসপি) নিশ্চিত করতে হবে যে ,বৈদেশিক শক্তি দেশটিকে অনলাইন বিচ্ছিন্ন করতে চাইলেও তারা সক্রিয় থাকতে পারবে। 

খসড়া ওই আইনের অধীনে ডিএনএস নামে পরিচিত ইন্টারনেট অ্যাড্রেস সিস্টেমের নিজস্ব সংস্করণ তৈরি করছে রাশিয়া। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অবস্থিত সার্ভারের  লিঙ্কগুলো বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হলেও তাদের তৈরি ব্যবস্থাটি সচল থাকতে পারবে।

বর্তমানে ডিএনএস-এর রুট সার্ভার দেখভাল করে ১২টি সংস্থা। এর কোনওটিই রাশিয়ার নয়। তবে রাশিয়ায় ইন্টারনেটের মূল অ্যাড্রেস বুকের অনেকগুলো কপি থাকার কারণে ধারণা করা হচ্ছে, এই ব্যবস্থাটি কাজ করতে সক্ষম, শাস্তি হিসেবে তাদের নেট দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করা হলেও।

নেট বিচ্ছিন্ন হওয়ার মহড়ায় দেশটির আইএসপিগুলোকে সরকার নিয়ন্ত্রিত রাউটিং পয়েন্টে সবগুলো ডাটাকে পাঠানোর সক্ষমতা দেখাবে। এর মধ্যদিয়ে ট্রাফিক যাচাই-বাছাই করা হবে। রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ ট্রাফিক অনুমোদন পাবে কিন্তু বিদেশি কম্পিউটারে পাঠানো ট্রাফিক আটকে দেওয়া হবে।

রুশ সরকার চায়, দেশটির সব ট্রাফিক যেনও এই রাউটিং পয়েন্টগুলো দিয়ে হয়। যার ফলে দেশটি চীনের মতো সেন্সরশিপ ব্যবস্থা চালু করতে পারে।

রুশ সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির আইএসপিগুলো সরকারের প্রস্তাবিত নীতিকে সমর্থন জানাচ্ছে। সরকার এই ব্যবস্থার জন্য আইএসপিগুলোকে সক্ষম করে তুলতে নগদ আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছে। তবে কীভাবে এটা বাস্তবায়ন করা হবে তা বিতর্ক রয়েছে। তাদের মতে, মহড়ার কারণে রাশিয়ার ইন্টারনেট ট্রাফিকে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে।

/জেজে/এএ/

x