'সমাজতন্ত্র'ই কি ভেনেজুয়েলার সংকটের কারণ?

বাধন অধিকারী ও আরশাদ আলী ০১:৫৪ , ফেব্রুয়ারি ১৩ , ২০১৯

‘একুশ শতকের সমাজতন্ত্র’র রূপকারখ্যাত প্রয়াত ভেনেজুয়েলান প্রেসিডেন্ট হুগো চ্যাভেজ সে দেশের অর্থনীতিকে বের করে এনেছিলেন পশ্চিমা কর্তৃত্ব থেকে। বলিভারিয়ান বিপ্লবের মধ্যে দিয়ে দেশের অর্থনীতিকে নিতে সক্ষম হয়েছিলেন অনন্য উচ্চতায়।  ১৯৯৯ সালে চ্যাভেজ ক্ষমতায় এসেছিলেন তিনি। সেখান থেকে ২০ বছরে এসে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি দাঁড়িয়েছে খাদের কিনারে। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা রাষ্ট্রগুলো এবং তাদের সংবাদমাধ্যম বলতে চাইছে, অর্থনীতির এই বিপর্যয়ের দায় সমাজতান্ত্রিক শাসননীতির। বিপরীতে ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর দাবি, পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদ আর তাদের মিডিয়াই এই বিপর্যয়ের জন্য দায়ী। তবে ভেনেজুয়েলার আর্থ-রাজনৈতিক ইতিহাসের তথ্য ও বিশ্লেষণ পর্যালোচনা করে দেখা যায়, পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী ও তাদের মিডিয়া যেমন, তেমনি করে ক্ষমতাসীন নিকোলাস মাদুরোও আংশিক বাস্তবকে সত্য হিসেবে তুলে ধরছেন। ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের কারণ সমাজতন্ত্র নয়। এই বিপর্যয়ে মুখ্য ভূমিকা  মার্কিন নিষেধাজ্ঞার। এর পাশাপাশি মাদুরো সরকারের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতিগ্রস্ত রাষ্ট্রীয় নীতি বিপর্যয়কে ত্বরান্বিত করেছে, যে রাষ্ট্রীয় নীতির সূচনা হয়েছিল চ্যাভেজের যুগেই।

১৯৯০ এর দশকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফ কর্তৃক রাষ্ট্রীয় সেবাখাতকে ব্যক্তিখাতে হস্তান্তরের উদ্যোগ কী করে ভেনেজুয়েলাবাসীর জীবনকে বিপর্যস্ত করে তুলেছিল, তা জানা যায় মিন্টপ্রেসের এক প্রতিবেদন থেকে। স্থানীয় সরকারের এক সদস্য হাইদো ওর্তেগা ওই সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‌‌‘পূর্ববর্তী সরকারের সময় আমাদের টায়ারে আগুন দিয়ে আন্দোলনে যেতে হতো যেন বিদ্যুৎ পাই, পথঘাট ঠিক হয় কিংবা উন্নয়নে অর্থ ব্যয় করা হয়।’ চ্যাভেজ প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিয়ে পুঁজিবাদ ও সমাজবাদের সমন্বয়ে একটি মিশ্র অর্থনৈতিক ব্যবস্থা চালু করেন। রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত তেল-উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠানে সংস্কার আনেন তিনি। মার্কিন প্রতিষ্ঠানের বদলে তেল বিক্রির অর্থ জমা হতে থাকে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে। ভেনেজুয়েলার তেল থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে সামাজিক সুরক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন কর্মসূচি শুরু করেন তিনি।

সে কারণেই খোদ পশ্চিমা সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট-এ উদ্ধৃত সাম্প্রতিক এক জরিপের তথ্য থেকে জানা যায়, বিপন্ন এই অর্থনৈতিক বাস্তবতার মধ্যেও এক তৃতীয়াংশ মানুষ সমাজতন্ত্রে আস্থা হারাননি। সংকট থাকলেও সেজন্য চ্যাভেজের প্রতিষ্ঠিত ব্যবস্থা বা মাদুরোকে দায়ী না করার মতো মানুষ রয়েছেন ভেনেজুয়েলায়। ৫৪ বছরের এলিজাভেথ টোরেস ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, গুইদোর উচিত যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাওয়া। যে তাদের নির্দেশে সব কাজ করে তার এখানে কাজ কি? চ্যাভেজের আগে আমাদের পর্যাপ্ত টাকা-পয়সা ছিল। এখন পরিস্থিতি খারাপ, কিন্তু এটা সরকারের দোষ নয়। এর কারণ বিদেশিদের হামলা।

২০০২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনায় এক সামরিক অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা নস্যাৎ করে দেন চ্যাভেজ। উৎখাতের কয়েকদিনের মধ্যে ক্ষমতায় ফিরে তিনি ভেনেজুয়েলাকে একবিংশ শতাব্দীর সমাজবাদী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার অঙ্গীকার করেন। ১৯৯৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত তেল বিক্রির আয়ের মাধ্যমে লাখ লাখ ভেনেজুয়েলানকে দারিদ্র থেকে মুক্তি দেন চ্যাভেজ ও ইউনাইটেড সোশ্যালিস্ট পার্টি। দেশটিতে দারিদ্র ও বেকারত্বের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনেন তিনি। অভূতপূর্ব পরিবর্তন আনেন শিক্ষা, চিকিৎসা আর জ্বালানি সেবায়।

বিপুল অর্থনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও চ্যাভেজের শাসন শুরুর ২০ বছরের মাথায় এসে ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি দাঁড়িয়েছে খাদের কিনারে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জোরালোভাবে উঠে এসেছে লাখ লাখ মানুষের দেশ ছাড়ার খবর। যারা দেশের ভেতরে আছেন তারাও ক্ষুধার যাতনা আর স্থাস্থ্যসেবার অভাবে দিশেহারা। রাস্তা ভরে গেছে ভিখারিতে। চলতি বছর মূল্যস্ফিতির পরিমাণ এক কোটি শতাংশ ছাড়িয়েছে। তেলনির্ভর অর্থনীতি পঞ্চাশের দশকের পর সবচেয়ে বেহাল দশায় পতিত হয়েছে।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) ডোনাল্ড ট্রাম্প তার ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন ভাষণে ভেনেজুয়েলার বিপন্নতায় দায়ী করেছেন দেশটির ‘সমাজতান্ত্রিক’ নীতিকে। বলেছেন, ‘...আমরা মাদুরো সরকারের নির্মমতার নিন্দা জানাচ্ছি, যার সমাজতান্ত্রিক নীতি লাতিন আমেরিকার সবচেয়ে ধনী দেশের অবস্থান থেকে দেশটিকে দারিদ্র্য ও হতাশার ভূমিতে পরিণত করেছে।’  মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের ১২ ফেব্রুয়ারি তারিখের এক প্রতিবেদনেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে ভেনেজুয়েলার বিপন্নতার কারণ তাদের সমাজতান্ত্রিক নীতি। বিপরীতে ক্ষমতাসীন মাদুরোর দাবি, ভেনেজুয়েলার মানবিক সংকট বিদেশি মিডিয়ার কারণেই সৃষ্টি হয়েছে। তিনি তেলবিক্রিতে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে অর্থনৈতিক সংকটের মূল কারণ বলে দায়ী করেছেন।

ফ্লোর ব্ল্যাংকো নামের ৫৭ বছরের নারী ওয়াশিংটন পোস্টকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সংকটের জন্য মাদুরো ও দেশটির অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন। তবে তার স্বামী মনে করেন, সমাজতন্ত্রের সমতার নীতি গরিবদের মর্যাদা বাড়িয়েছে। স্বামীর অবস্থানের বিরোধিতা করে ব্ল্যাংকো বলেন, ‘আমার স্বামী বাস্তবতা বোঝেন না। আমাদের দেখুন, আমরা চামড়া সর্বস্ব। খাবার বা কাপড় কিনতে পারি না। সমাজতন্ত্র আমার কাছে অভিশাপ।’

তবে আদতেও কি ভেনেজুয়েলার খাবার আর কাপড় কিনতে না পারার দায় চ্যাভেজের সেই একুশ শতকের সমাজতন্ত্রের? ভেনেজুয়েলার ইতিহাস তা বলে না। খোদ মার্কিন সরকারের প্রতিবেদনেই ভেনেজুয়েলার অর্থনৈতিক বিপন্নতার সাক্ষ্য রয়েছে তাদের আরোপিত ধারাবাহিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে। মিন্টপ্রেসের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে ২০১৪ সালের এক ঘটনা। সে সময় ভেনেজুয়েলার অর্থনীতি ধ্বংসের স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি পররাষ্ট্র নীতির উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তৎপর হয় আরেক তেলসমৃদ্ধ শক্তি সৌদি আরব। আর্থিক ক্ষতি ও ঋণের বোঝা বাড়লেও কম দামে তেল বিক্রি অব্যাহত রাখে তারা। বিশ্ববাজারে তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১১০ ডলার থেকে নেমে আসে ২৮ ডলারে। তেলের দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়ে ভেনেজুয়েলা। শুরু হয় বাজেট কর্তন এবং অর্থনৈতিক ধস। একইসময়ে বেসরকারি খাদ্য উৎপাদন ও আমদানিকারী প্রতিষ্ঠানগুলোও একত্রিত হয়ে সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়। এতে করে ভেনেজুয়েলা অর্থনৈতিকভাবে আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং মুদ্রাস্ফীতি ঘটে। দেখা দেয় খাবারের অভাব। ২০১৫ সালে ভেনেজুয়েলাকে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি ঘোষণা দেয় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলো ওবামা প্রশাসন। দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত চারবার ভেনেজুয়েলায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাই কি ভেনেজুয়েলার দুরাবস্থার একমাত্র কারণ? বার্সেলোনার ক্যাটালেনিয়াভিত্তিক এক বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অধ্যাপক সান্তিয়াগো জাবালা তা মনে করছেন না। ২০১৭ সালে আল-জাজিরায় লেখা এক নিবন্ধে  তিনি লিখেছেন, মাদুরোবিরোধীদের প্রতি পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমের অন্যায় ঝোঁক অবশ্যই মেনে নেওয়ার মতো নয়, তবে চ্যাভেজের এই উত্তরসূরীর ক্রমাগত কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠার ব্যাপারটা আমলে নেওয়াও জরুরি।

নিজের সুবিধামতোন সংবিধান সংশোধন, বিরোধী মত দমনে রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন চালানোসহ দ্বিতীয় দফায় নির্বাচন জিততে প্রধান বিরোধী দল নিষিদ্ধকরণের মতো অগণতান্ত্রিক উদ্যোগ নিয়েছেন মাদুরো। রাজনৈতিক সমাজতত্ত্ববিদ গ্যাব্রিয়েল হেটল্যান্ড মনে করেন, ‘নির্বাচনি গণতন্ত্রের মধ্য দিয়ে ভেনেজুয়েলাবাসীকে তাদের মতামত প্রকাশের যে সুযোগ, কাঠামোগতভাবে মাদুরো তা রুদ্ধ করেছেন।’ চ্যাভেজের নীতি থেকে তার সরে আসার আরেক ইঙ্গিত দিয়েছেন বার্সেলোনার ক্যাটালেনিয়াভিত্তিক এক বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শনের অধ্যাপক। ২০১৭ সালে লেখা এক নিবন্ধে সান্তিয়াগো জাবালা নামের ওই অধ্যাপক উল্লেখ করেন মাদুরো কর্তৃক চ্যাভেজের বন্ধ করে দেওয়া এক উন্মুক্ত খনি আবারও চালু করার প্রসঙ্গ। ২০০৯ সালে প্রাণপ্রকৃতির সুরক্ষার স্বার্থে চ্যাভেজ খনিটি বন্ধ করেছিলেন। তিনি মনে করছেন, দেশজুড়ে আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও সামাজিক আন্দোলনের গ্রুপগুলো কেন মাদুরোর ওপর ক্ষুব্ধ, তার কারণ এখানেই নিহিত।

চ্যাভেজের আমলে মেট্রোপলিটন কারাকাসের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করা হুয়ান বারেতো তাই ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, চ্যাভেজের ভুল ছিল বটে, তবে তার ছিল সমাজতন্ত্রের প্রতি দৃঢ় বিশ্বাস। কিন্তু মাদুরো যে ব্যবস্থায় দেশ চালাচ্ছেন এতে সমাজতন্ত্রের কোনও ভূমিকা নেই। মাদুরো স্বৈরশাসক।

চ্যাভেজ যুগের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির কথা স্বীকার করে ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কিছু সময়ের জন্য হলেও তেল বিক্রির টাকায় নেওয়া রাষ্ট্রের সমাজতান্ত্রিক নীতি ভেনেজুয়েলায় সমৃদ্ধি এনেছিল। ওয়াশিংটন পোস্ট স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে ১৯৯৯ এ প্রথমবার ক্ষমতায় এসে প্রাথমিক মন্দার কবলে পড়লেও ২০০৩-২০০৭ শাসনকালে ভেনেজুয়েলার প্রবৃদ্ধি অনন্য উচ্চতায় নিতে সক্ষম হন তিনি। তবে বিশ্ববাজারে তেলের উচ্চমূল্যকেই তার এই সাফল্যের একমাত্র কারণ বলতে চাইছে তারা। চ্যাভেজের যুগে ২০০০ সালে বিভিন্ন কোম্পানি জাতীয়করণের পর দক্ষদের সরিয়ে সরকারতোষকদের সেখানে বসানো, অধিগ্রহণ করা  মিলিয়ন একর কৃষিজমিকে ধ্বংস করার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ওয়াশিংটন পোস্ট বলছে, সেখান থেকেই অর্থনৈতিক দুর্দশার সূচনা।


বস্তিতে থাকেন ৪০ বছর বয়সী সিলভানা আগুরি। তিনি বলেন, ক্ষমতায় এসে চ্যাভেজ আমাদের জন্য অনেক কিছু করেছিলেন। আস্তে আস্তে সেই বিপ্লব ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়। এখন আমরা যেভাবে বেঁচে আছি, তা অকল্পনীয়’। কারাকাসভিত্তিক এক অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ ব্যক্তি হেনকেল জার্সিয়া তাই বলতে চাইছেন, চ্যাভেজের অধীনেই সমস্ত বিপত্তির শুরু।

ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন বিশ্লেষকদের বরাতে বলছে, ভেনেজুয়েলার সংকটে সমাজতন্ত্রই দায়ী, নিশ্চিত করে তা বলার উপায় নাই, একাংশ যেমনটা বলতে চায়। তবে কঠোর শাসনব্যবস্থার কারণে সৃষ্ট রাষ্ট্রীয় নীতি মূল্য ও বিনিময়ের হারে অসামঞ্জস্য,  দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, রাষ্ট্রীয় দমন দেশটির বিপন্নতা সৃষ্টি করেছে। তবে এইসব রাষ্ট্রীয় নীতিকে ‘সমাজতন্ত্র’ মানতে নারাজ সুবিখ্যাত মার্কিন বুদ্ধিজীবী নোম চমস্কি। তিনি এই ধারার নীতি ও পরিকল্পনাকে ডাকেন কম্যান্ড ইকোনমি বা হুকুমদারির অর্থনীতি নামে। চমস্কির মতে, ‘রাষ্ট্রীয় পুঁজিবাদী’ এই ধারার প্রকল্পকে ‘সমাজতন্ত্র’ নাম দিয়ে প্রকৃত সমাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে মিথ্যে প্রচারণা ছড়ানো হয়।

ভেনেজুয়েলাবাসীর একাংশ আজও মনে করে চ্যাভেজের অংশগ্রহণমূল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলো মানুষের জন্য ইতিবাচক হয়েছিল। পঞ্চাশ বছর বয়সী ইয়েসিড মারলানো জানিয়েছেন, চ্যাভেজের শাসনামলে তিনি বস্তি থেকে সরকারি আবাসন প্রকল্পে বাড়ি পেতে সমর্থ হয়েছিলেন।  ফুলের বাগান আর পাহাড় লাগোয়া সেই বাড়িতে নতুন ফ্ল্যাট স্ক্রিনের টেলিভিশন থাকার কথাও জানিয়েছেন তিনি। সেই মারলানোই চ্যাভেজে জামানায় সূচিত এবং মাদুরোর যুগে বিকশিত হওয়া ‘হুমুক অর্থনীতি’র বিপর্যয়ের কারণে বলছেন ‘মৃত্যুর আগে আমি ভেনেজুলেয়ায় সমাজতন্ত্রের অবসান দেখতে চাই।’

চ্যাভেজের শাসন শুরুর প্রায় এক দশক আগে ভেনেজুয়েলার শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী ছিলেন মইসেস ন্যাম। বর্তমানে একটি শান্তিবাদী আন্তর্জাতিক সংস্থার ফেলো তিনি। ন্যাম বলছেন, 'সব কিছুর দায় সমাজতন্ত্রের, এমন ধারণার সঙ্গে আমি নেই।' তিনি স্পষ্ট করেই বলছেন, এই দোষারোপের রাজনীতি 'যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক খেলা'। ভেনেজুয়েলার দুর্নীতি ও কাণ্ডজ্ঞানহীন রাষ্ট্রীয় নীতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি ওয়াশিংটন পোস্টকে বলেন, 'এটা কেবল জাতীয়করণের মধ্য দিয়ে বিভিন্ন কোম্পানির কর্তৃত্ব রাষ্ট্রের হাতে নেওয়ার মামলা নয়, এমন একটা রাষ্ট্রীয় নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল যা জাতীয় ও ব্যক্তিগত উভয় খাতকেই দেউলিয়া করেছে'।

/বিএ/

x