নিউ জিল্যান্ডে মসজিদে হামলায় মুসলিম বিশ্বের নিন্দা ও ক্ষোভ

বিদেশ ডেস্ক ১৭:০৪ , মার্চ ১৫ , ২০১৯

নিউ জিল্যান্ডের দুটি মসজিদে শুক্রবারের ভয়াবহ বন্দুক হামলায় ৪৯ জন নিহতের ঘটনায় বিশ্বের মুসলিম দেশগুলোর রাষ্ট্রনেতা ও রাজনৈতিক নেতারা নিন্দা জানিয়েছেন। এই নৃশংস হামলার জন্য তারা ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষী মনোভাবকে দায়ী করেছেন। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

আল নূর মসজিদে বন্দুক হামলার পর রাস্তায় রক্তাক্ত ব্যান্ডেজ পড়ে আছে

স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৫ মার্চ) নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলা হয়। শহরের হাগলি পার্কমুখী সড়ক দীন এভিনিউতে আল নুর মসজিদ এবং লিনউডের আরেকটি মসজিদের কাছ থেকে গুলির শব্দ শোনা যায়। এই হামলায় শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৪৯ জন নিহতের কথা নিশ্চিত হওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। হামলার পর চার সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে এক অস্ট্রেলীয় নাগরিক রয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্য ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশের সরকার হামলায় তাদের নাগরিকদের নিহত হওয়ার খবর সংগ্রহে তৎপর ছিলেন। একই সঙ্গে শুক্রবার জুমার নামাজের হামলা চালানোয় ক্ষোভ বিরাজ করছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিউ জিল্যান্ডে মসজিদে গুলিবর্ষণের ঘটনায় গভীর শোক ও নিন্দা জানিয়েছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্নের কাছে পাঠানো এক শোকবার্তায় শেখ হাসিনা শোক ও নিন্দা প্রকাশ করেন।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, ৯/১১ পরবর্তী সময়ে ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষকে আমি এজন্য দায়ী করছি। ওই ঘটনার পর থেকেই ১৩০ কোটি মুসলিমকে যে কোনও সন্ত্রাসের জন্য দায়ী করা হয়।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানও হামলার নিন্দা জানিয়ে ইসলাম-বিদ্বেষের বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোকে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন। তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসোগলু বলেছেন, মুসলিমদের রাজনৈতিক সংগ্রামকে অপদস্ত করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে।

সহস্র বছরের পুরনো মিসরের আল-আজহার ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই হামলা আল্লাহর ঘরের পবিত্রতা লঙ্ঘন করেছে। এই হামলা ঘৃণামূলক ও ইসলামবিদ্বেষ বেড়ে যাওয়ার বিপজ্জনক ইঙ্গিত।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনওয়ার গার্গাশ বলেছেন, সহিংসতা ও ঘৃণার বিরুদ্ধে আমাদের সম্মিলিত কাজ অবশ্যই চালিয়ে যেতে হবে নতুন দৃঢ়তায়।

ক্রাইস্টচার্চে বিদেশি শিক্ষার্থী ছাড়াও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মুসলিম বাস করেন। দেশটিতে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, হামলার সময় মসজিদে দেশটির ছয়জন নাগরিক ছিলেন। তিনজন পালিয়ে বাঁচতে পেরেছেন কিন্তু বাকি তিনজনের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এই শহরে ১৩৪ জন শিক্ষার্থীসহ ৩৩১ জন ইন্দোনেশীয় বাস করেন।

অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ড ও ফিজিতে নিযুক্ত আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, দেশটির তিন নাগরিক হামলায় আহত হয়েছেন।

মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মসজিদে হামলায় দেশটির দুইজন নাগরিক নিহত হয়েছেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ক্রিকেট দল চরম সৌভাগ্যবান ছিল। তবে তিন বাংলাদেশি নিহত ও দুজন আহত হয়েছেন।

/এএ/এমওএফ/

x