দূতাবাসকে গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্র বানিয়েছিলেন অ্যাসাঞ্জ: ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট

বিদেশ ডেস্ক ১৯:৫২ , এপ্রিল ১৫ , ২০১৯

ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট লেনিন মোরেনো অভিযোগ করেছেন, রাজনৈতিক আশ্রয়ের অধীনে থাকাকালে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসকে গুপ্তচরবৃত্তির কেন্দ্র বানিয়েছিলেন উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। অভিযোগ উঠেছে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ও ঋণ মওকুফের শর্তে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। তবে মোরেনো দাবি করেছেন, ভিন্ন কোনও দেশের চাপে তিনি এমন পদক্ষেপ নেননি।

২০১২ সালের জুন থেকে লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে রাজনৈতিক আশ্রয়ে ছিলেন জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জ। ৪ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) উইকিলিকসের টুইটে বলা হয়, ইকুয়েডর সরকারের উচ্চপর্যায়ের দু’টি সূত্র থেকে তারা নিশ্চিত হয়েছে, কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক দিনের মধ্যে অ্যাসাঞ্জকে দূতাবাস থেকে তাড়ানো হতে পারে। সেই ধারাবাহিকতায় রাজনৈতিক আশ্রয় প্রত্যাহার করে বৃহস্পতিবার (১১ এপ্রিল) তাকে ব্রিটিশ পুলিশের হাতে তুলে দেয় ইকুয়েডর। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাকে প্রত্যর্পণের অনুরোধ করা হয়েছে।

গার্ডিয়ানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মোরেনো অভিযোগ করেন, ইকুয়েডরের পূর্ববর্তী সরকার অ্যাসাঞ্জকে বিভিন্ন দেশের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির সুযোগ করে দিয়েছিল। তিনি বলেছেন, ‘অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে করা যে কোনও কাজই ইকুয়েডরের বিবেচনায় নিন্দনীয়। কেননা আমরা নিজেরা সার্বভৌম জাতি এবং অন্য যে কোনও দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রতি আমরা শ্রদ্ধাশীল’। মোরেনো আরও বলেন, ‘আমরা অ্যাসাঞ্জের রাজনৈতিক আশ্রয়ের জন্য দূতাবাসের দরোজা খুলে দিয়েছিলাম, গুপ্তচরবৃত্তির জন্য নয়’। 

উল্লেখ্য, ইকুয়েডরের পূর্ববর্তী বামপন্থী সরকার অ্যাসাঞ্জের প্রতি ইতিবাচক ছিল। দূতাবাসে তাকে রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি তার নাগরিকত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছিল বিগত রাফায়েল কোরেয়া সরকারের সময়ে। তবে বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই তাদের অ্যাসাঞ্জবিরোধী অবস্থান স্পষ্ট হতে থাকে।

 

/বিএ/

x