পুলিৎজার পেলেন মিয়ানমারে বন্দি দুই রয়টার্স সাংবাদিক

বিদেশ ডেস্ক ১৫:০৬ , এপ্রিল ১৬ , ২০১৯

মিয়ানমারে দাফতরিক গোপনীয়তা আইন ভঙ্গের দায়ে কারাদণ্ডরত দুই রয়টার্স সাংবাদিক সোমবার (১৫ এপ্রিল) সাংবাদিকতায় সবচেয়ে সম্মানজনক পুরস্কার হিসেবে স্বীকৃত পুলিৎজার পুরস্কার জিতে নিয়েছেন। মিয়ানমারের বৌদ্ধ উগ্রপন্থী বৌদ্ধ গ্রামবাসী ও দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ১০ রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশ করায় তাদের এ পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের এ প্রতিবেদন তৈরি করতে গিয়েই আটক হয়েছিলেন ওই দুই রয়টার্স সাংবাদিক।

দুই রয়টার্স সাংবাদিক (ফাইল ফটো)
২০১৭ সালের ডিসেম্বরের এক সন্ধ্যায় পুলিশ সদস্যদের আমন্ত্রণে রেস্টুরেন্টে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন মিয়ানমারে কর্মরত রয়টার্সের দুই সাংবাদিক ওয়া লোন ও কিয়াও সোয়ে ও। পরে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ দাফতরিক গোপনীয়তা আইন ভঙ্গের অভিযোগে তাদের গ্রেফতার দেখায়। রাখাইনের ইন দিন গ্রামে সেনা অভিযানের সময় রোহিঙ্গাদের ওপর চালানো গণহত্যার ওপর অনুসন্ধান চালাতে গিয়েই মামলার কবলে পড়েন তারা। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের বিরুদ্ধে সাত বছর করে কারাদণ্ড ঘোষণা করে ইয়াঙ্গুনের একটি জেলা আদালত। নভেম্বরের শুরুতে ইয়াঙ্গুনের হাইকোর্টে দুই সাংবাদিকের পক্ষে আপিল করেন তাদের আইনজীবীরা। এ বছরের ১১ জানুয়ারি আপিল খারিজ করে দিয়ে নিম্ন আদালতের সাজা বহাল রাখা হয়।

প্রায় ৫০০ দিন ধরে মিয়ানমারের কারাগারে থাকা ওই দুই রয়টার্স সাংবাদিককে সোমবার (১৫ এপ্রিল) পুলিৎজার পুরস্কার জয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১৮ সালের জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহে ইন দিন গ্রামে সংঘটিত এক গণহত্যার চিত্র তুলে এনেছিলেন তারা। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রথমবারের মতো মিয়ানমারের সেনাবাহিনী ১০ রোহিঙ্গা হত্যাকাণ্ডের স্বীকারোক্তি দিতে বাধ্য হয়েছিল। এছাড়া এ বছর আরও একটি পুলিৎজার পুরস্কার জিতেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের প্রত্যাশায় সীমান্তে অপেক্ষারত মধ্য আমেরিকান শরণার্থীদের ছবির জন্য ওই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে পর পর দুই বছর দু’টি করে পুলিৎজার জিতলো বার্তা সংস্থাটি।

পুলিৎজার পুরস্কার প্রাপ্তি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে রয়টার্সের এডিটর ইন চিফ স্টিফেন জে. এডলার বলেন, ‘কাজের স্বীকৃতি পাওয়াটা অনেক বড় ব্যাপার। তবে আমাদের চেয়ে যাদের নিয়ে আমরা কাজ করেছি সেসব মানুষের ওপর মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দুটা থাকা উচিত। এক্ষেত্রে রোহিঙ্গা ও মধ্য আমেরিকান অভিবাসীদের ওপর মনোযোগ রাখতে হবে।’

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ওপর মিয়ানমার সেনাবাহিনীর গণহত্যার খবর সংগ্রহ করার জন্য রয়টার্সের ওই দুই সাংবাদিক ২০১৮ সালে ব্রিটিশ সাংবাদিকতা পুরস্কার পেয়েছিলেন। এছাড়া ওই বছর আরও বেশ কয়েকটি পুরস্কার পান তারা। এগুলোর মধ্যে রয়েছে ফরেইন প্রেস অ্যাসোসিয়েশন মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড, পেন/বারবেই ফ্রিডম টু রাইট অ্যাওয়ার্ড, ওসবর্ন এলিয়ট প্রাইজ, ওয়ান ওয়ার্ল্ড মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড, জেমস ফলে মেডিল মেডেল ফর কারেজ ইন জার্নালিজম, আইআরই’র ডন বোলেস মেডেল এবং ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের আবুশন প্রেস ফ্রিডম অ্যাওয়ার্ড।

/এফইউ/এমওএফ/

x