এবারের লোকসভা নির্বাচনের ফল প্রকাশে দেরি হতে পারে

বিদেশ ডেস্ক ০৪:০৬ , মে ২৩ , ২০১৯

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন বা ইভিএম ব্যবহার শুরুর পর থেকে ফল ঘোষণার দিন মোটামুটি দুপুরের মধ্যেই স্পষ্ট হয়ে যায় ভারতের নির্বাচনের ফলাফল। তবে ২৩ মে (বৃহস্পতিবার) সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ফল জানতে  অনেক দেরি হয়ে যেতে পারে বলে মনে করছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। এবারের ভোটগ্রহণে ব্যবহৃত ইভিএম এর সাথে সংযুক্ত ভিভিপিএটি যন্ত্রে পাওয়া ভোটের স্লিপ একটি একটি গুনতে হওয়ায় সময় বেশি লাগতে পারে ধারণা করছে কর্মকর্তারা। প্রতিটি ভোটকেন্দ্র থেকে পাঁচটি বুথের ইভিএম ও ভিভিপিএটি’র ভোট সংখ্যা মিলিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত। ভোটের সংখ্যা না মিললে আবারও গুনে দেখতে হবে। নির্বাচন পর্যবেক্ষকরা বলছেন, একটি ভিভিপিএটি-র ভোট মিলিয়ে দেখতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। সেই হিসেবে প্রথমবার ভোটের হিসাব মিলে গেলেও ভোট গণনায় অন্তত পাঁচ ঘণ্টা সময় বেশি লাগবে। বৃহস্পতিবার সকাল আটটা থেকে ভোট গণনা শুরু হলেও ফল জানতে অনেক রাত বা পরদিনও হয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।শুরু হতে যাচ্ছে ভারতের লোকসভা নির্বাচনের ভোট গণনা

কয়েক দশকের মধ্যে ভারতের সবচেয়ে তিক্ততাপূর্ণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষ হয়েছে গত ১৯ মে। বৃহস্পতিবার সারা দেশে একযোগে নির্ধারিত গণনাকেন্দ্রগুলোতে শুরু হবে ভোট গণনা। নির্বাচনি কর্মকর্তা ও প্রার্থীদের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে শুরু হবে গণনা কাজ।

বেশ কয়েক বছর আগে থেকেই ভারতের বিভিন্ন নির্বাচনে ইভিএম-এর মাধ্যমে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। তবে ইভিএম-এ ভোটাররা পছন্দের প্রার্থীর বোতাম চাপলে অন্য প্রার্থীকে ভোট দেওয়া হয়ে যাচ্ছে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে এবারের লোকসভা নির্বাচনে ভিভিপিএটি যন্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। প্রতিটি ইভিএম-এ যুক্ত থাকে এই যন্ত্র। ভোটার ইভিএম-এ পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিলে ভিভিপিএটি থেকে একটি স্লিপ প্রিন্ট হয়ে বের হয়ে আসে। এতে তিনি কোন প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন তা দেখতে পাওয়া যায়। তবে ভোটার স্লিপটি ছিড়ে নিয়ে আসতে পারেন না। শুধু দেখতে পারেন। ভোটগণনার সময়ে ইভিএম-এ প্রাপ্ত ভোট ও ভিভিপিএটি-তে প্রাপ্ত স্লিপ মিলে গেলে ভোটগণনায় কারচুপির সুযোগ কমে যায়।

ভারতের সর্বোচ্চ আদালত এক আদেশে এবারে প্রতিটি ভোটকেন্দ্র থেকে পাঁচটি বুথের ইভিএম ও ভিভিপিএটি’র ভোট মিলিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। প্রার্থীর প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত ওই পাঁচটি বুথ নির্ধারণ করবেন।

ভারতের সিনিয়র উপ নির্বাচন কমিশনার উমেশ মিশ্র জানিয়েছেন, ইভিএম মেশিনের ভোট গণনা শেষে ভিভিপিএটি যন্ত্রের স্লিপ গোনা শুরু হবে। আর তা শেষে দুটির সংখ্যা মিলিয়ে দেখা হবে। সংখ্যা না মিললে আবারও গণনা করা হবে ভোটের স্লিপ। দুটি সংখ্যা মিললেই কেবল প্রকাশ করা যাবে ভোটের ফল।

দেশটির নির্বাচনি কর্মকর্তাদের মতে এক একটি ভিভিপিএটির ভোটের স্লিপ মিলিয়ে দেখতে প্রায় এক ঘণ্টা সময় লাগে। প্রথমবারে হিসাব মিলে গেলেও একেকটি কেন্দ্রের ভোটের ফল ঘোষণায় অন্তত পাঁচ ঘণ্টা বেশি সময় লাগবে বলে মনে করা হচ্ছে। ভারতের নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণে অভিজ্ঞ রবীন্দ্র ভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সব্যসাচী রায় চৌধুরীর ধারণা এবারের ভোটের ফল পেতে অন্তত ত্রিশ ঘণ্টা লেগে যাবে।

২০১৩ সালে নাগাল্যান্ড বিধানসভার নির্বাচনে প্রথমবারের মতো একটি কেন্দ্রে ভিভিপিএটি যন্ত্র ব্যাবহার হয়েছিল। পরের বছর অনুষ্ঠিত লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যের আটটি কেন্দ্রে এই যন্ত্র ব্যবহার হয়। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনার কথা বলে নির্বাচন কমিশন এবারের লোকসভা নির্বাচনের সব কেন্দ্রে এই যন্ত্র ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়। বিরোধী দলগুলোর তরফে সুপ্রিম কোর্টে মামলা দায়ের করে ৫০ শতাংশ বুথের ইভিএম-এর সাথে ভিভিপিএটি স্লিপ মিলিয়ে দেখার দাবি তোলে। তবে তা অনেক সময় সাপেক্ষ হওয়ায় সুপ্রিম কোর্ট লটারির মাধ্যমে নির্ধারিত পাঁচটি বুথের ভোট মিলিয়ে দেখার আদেশ দেয়।

/জেজে/

x