ভারতের পাল্টা পদক্ষেপ, মার্কিন পণ্যে শুল্ক বাড়ানোয় যুক্তরাষ্ট্রে অস্বস্তি

আশিষ বিশ্বাস, কলকাতা ০০:৩৭ , জুন ২৬ , ২০১৯

মার্কিন পণ্যে পাল্টা শুল্ক বাড়ালে ওয়াশিংটনের কৃষিখাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আভাস মিলেছে। কিছুদিন আগেই ২৮টি মার্কিন পণ্যে শুল্ক বাড়িয়েছে ভারত। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে আপেল, আলমন্ড, ডাল ও বাদাম। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আশায় গত বছর আটবার এই পরিকল্পনা স্থগিত করেছিল দিল্লি। তবে শেষ পর্যন্ত ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রর মধ্যে বাণিজ্যিক বিবাদ শুরু হয়ে গেল।

ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্কের ভারসাম্য নিয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন না ট্রাম্প। একারণে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি সামনে রেখে ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যে শুল্ক বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি। এর আগে  ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে  মার্কিন পণ্যে শুল্ক কমানোর জন্য চাপ দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ভারতও যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি মোটরবাইকে ৫০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে আনে। তারপরও সন্তুষ্ট ছিলেন না ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ৫০ শতাংশ অনেক বেশি। ভারতীয় রাজনীতিবিদদের অস্বস্তিতে ফেলে আলোচনার প্রতি মুহূর্ত সামাজিক মাধ্যমে দিতে থাকেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। এতে করে  নরেন্দ্র মোদির জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানায় যে তারা আশা করছে যে ভারত তাদের সব পণ্য থেকে শুল্ক সরিয়ে নিবে। নাহলে যুক্তরাষ্ট্র ভারত থেকে আমদানিকৃত পণ্যকে টার্গেট করবে। এছাড়া ভারতের জিএসপি সুবিধাও বাতিল করে ট্রাম্প প্রশাসন। এতে করে ভারতের রফতানিকারকরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে আগে থেকেই চাপের মুখে ছিলেন তারা।

এরপরই শুল্ক বাড়ানোর ঘোষণা দেয় ভারত। এতে করে মার্কিন কৃষকরা বিপাকে পড়েন। নরেন্দ্র মোদির আসন্ন যু্ক্তরাষ্ট্র সফরে ইস্যুটি আলোচনার অন্তর্ভূক্ত করতে  পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওকে অনুরোধ করেছেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান জোস হার্ডার।  এর আগে এক চিঠিতে পম্পেওকে তিনি জানান,  ক্যলিফোর্নিয়ার কৃষকরা বছরে ৬৫ কোটি ডলারের অ্যালমন্ড ভারতে রফতানি করে। ভারত শুল্ক বাড়ালে তারা বিপাকে পড়বেন। তাই ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করা গেলে কৃষকরা উপকৃত হবে। মার্কিন অর্থনীতিবিদরাও এই শুল্ক আরোপে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতি হিসেব করে দেখছেন।

এর আগে ২০১৮ সালে জিএসপি প্রকল্পের আওতায় ভারত ৬০০ কোটি ডলারের পণ্যে শুল্কমুক্ত সুবিধা পেয়েছিলো। আর তারা রফতানি করেছিলো ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলারের। অন্যদিকে ভারতের কাছে ৩৩০ কোটি ডলারের পণ্য বিক্রি করে যুক্তরাষ্ট্র। ভারসাম্যের এই তারতম্যেই বিচলিত হয়ে পড়েন ট্রাম্প।

২০১৮ সালেই বাণিজ্য ঘাটতি নেমে আসে ২ হাজার ১৩০ কোটি ডলারে। আগের বছর যা ছিলো ২ হাজার ২৯০ কোটি ডলার। ২০১৬ সালে এর পরিমাণ ২ হাজার ৪৪০ কোটি ডলার।

বাণিজ্য সম্পর্কের বাইরেও ভারতের প্রতি অসন্তুষ্টি রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। রাশিয়া থেকে এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না কিনতে দিল্লিকে সর্তর্ক করে দিয়েছে তারা। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক মিত্র তুরস্কসহ ইরান, সিরিয়া ও চীনও এই অস্ত্রের দিকে ঝুঁকছে। তুরস্ক ইতোমধ্যে জানিয়ে দিয়েছে যে তারা এটা কিনবেই। ভারতও যুক্তরাষ্ট্রের চাপকে পাত্তা দেয়নি।

ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর হওয়ার পক্ষে মতামত জোরালো হচ্ছে। নিরপেক্ষ বিশ্লেষকরাও বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘বেশি বন্ধুত্ব’হচ্ছে। সাংহাই কর্পোরেশন অর্গানাইজেশন ভারতের সঙ্গে চীন ও রাশিয়া ইস্যুতে বেশি আন্তরিক। আর এই মুহূর্তে মার্কিন কৃষকদের কথা বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়াসের কারণে খুশি ভারতের বিশ্লেষকরা 

 

/এমএইচ/জেজে/

x