মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের চুক্তি আগস্টে: প্রবাসী কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

বিদেশ ডেস্ক ২২:৫১ , জুলাই ১১ , ২০১৯

মালয়েশিয়াতে বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ পদ্ধতি চূড়ান্ত করতে আগামী আগস্টে চুক্তি স্বাক্ষর করা সম্ভব বলে আশা করছে ঢাকা। বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ জানিয়েছেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এই ইস্যু সমাধান করতে কাজ করে যাচ্ছে ঢাকা ও পুত্রজায়া। বৃহস্পতিবার মালয়েশিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা বার্নামাকে এসব কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের মন্ত্রী।মালয়েশিয়ায় কর্মরত বিদেশি শ্রমিক

মালয়েশিয়ার বর্তমান সরকার গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশের সঙ্গে থাকা আগের কর্মী নিয়োগ চুক্তি বাতিল করে দেয়। দুর্নীতি ও জালিয়াতির সুযোগ থাকার অভিযোগ তুলে ওই চুক্তি বাতিল করা হয়। চুক্তি বাতিলের পরেই নতুন চুক্তি স্বাক্ষরের প্রচেষ্টা জোরালো করা হয়। বৃহস্পতিবার কুয়ালালামপুরে একটি বাণিজ্য প্রদর্শণী ও সম্মেলনে অংশ নেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ।

ওই অনুষ্ঠানে বার্নামা নিউজ সার্ভিস ও বার্নামা নিউজ চ্যানেলকে তিনি বলেন, আমি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছি। চুক্তি চূড়ান্ত করা এখন সময়ের ব্যাপার। তিনি বলেন, ‘পুরনো পদ্ধতি ঠিকঠাক চলছিল না সেকারণেই নতুন পদ্ধতি চূড়ান্ত করা হচ্ছে। আমার মনে হয় আগস্টে কোনও সমাধান চলে আসবে’।

তিন দিনের সফরে কুয়ালালামপুরে অবস্থান করছেন বাংলাদেশের প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইমরান আহমদ। তিনি বলেন, এবারে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের পদ্ধতি এবং প্রক্রিয়া হবে স্বচ্ছ। সঠিক জনশক্তি বাছাই, সংশ্লিষ্ট শিল্পে দক্ষ শ্রমিক নিয়োগ এবং নিয়োগের খরচ সাশ্রয়ী রাখা হবে বলে জানান তিনি। কোনও আইন যেন লঙ্ঘন না হয় তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়া তদারকি করবে বলেও জানান তিনি।

ইমরান আহমদ বলেন, আমাদের সরকার অভিবাসন ব্যয় বাড়তে দেবে না। আর ঠিক এই কারণেই বর্তমান মালয়েশিয়ার সরকার আগের চুক্তিটি বাতিল করে দেয়। ওই সময়ে অভিবাসন ব্যয় সামর্থ্যের বাইরে চলে গিয়েছিল বলে জানান তিনি।

গত বছরের সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশিদের জন্য বিদেশি কর্মী আবেদন প্রক্রিয়া (এসপিপিএ) বাতিল করে দেয় পুত্রজায়া। এই প্রক্রিয়ার অধীনে শুধুমাত্র নির্বাচিত দশটি সংস্থা কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া চালাতো পারতো। মালয়েশিয়ার পূর্ববর্তী সরকার এসব সংস্থাগুলোর অনুমোদন দিয়েছিল। আগের পদ্ধতিতে একজন বাংলাদেশি কর্মীকে প্রায় ২০ হাজার মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত প্রসেসিং ফি পরিশোধ করতে হতো। মালয়েশিয়ায় ওয়ার্ক পারমিট অনুমোদনসহ নানা কাজে এই ফি আদায় করা হতো। বর্তমানে মালয়েশিয়ায় প্রায় চার লাখ বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন বলে ধারণা করা হয়ে থাকে।

 

/জেজে/

x