প্রিয়াঙ্কা গান্ধী আটক?

বিদেশ ডেস্ক ১৯:৫১ , জুলাই ১৯ , ২০১৯

ভারতীয় কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করা হয়েছে বলে দাবি করেছে সে দেশের একাধিক সংবাদমাধ্যম। টাইমস অব ইন্ডিয়া, এনডিটিভি ও ফার্স্টপোস্ট সূত্রে তার আটকের খবর মিলেছে। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে খুন হওয়া মানুষদের দেখতে উত্তর প্রদেশের সোনভদ্রা যাচ্ছিলেন প্রিয়াঙ্কা। ওই অঞ্চলে ১৪৪ ধারা জারি রেখেছে রাজ্য সরকার। সেই আইন ভঙ্গের অভিযোগ তুলে প্রিয়াঙ্কাকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। তবে একজন পুলিশ কর্মকর্তা এনডিটিভির কাছে প্রিয়াঙ্কাকে আটকের খবর নিশ্চিত করলেও উত্তর প্রদেশ পুলিশের মহাপরিচালক ওপি সিং নিউজ এইটিনকে বলেছেন, তাকে আটক করা হয়নি, সোনভদ্রা যাওয়ার পথে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে।

গত বুধবার (১৭ জুলাই) উত্তর প্রদেশের সোনভদ্রা গ্রামে জমি নিয়ে সংঘর্ষের জেরে গুলিবিদ্ধ হয়ে ১০ জন নিহত হন। উত্তর প্রদেশে অপরাধ বৃদ্ধি ও আইনের শাসন নেই বলে রাজ্য সরকার ও মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সমালোচনা করেন প্রিয়াঙ্কা। নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে শুক্রবার (১৯ জুলাই) সেখানে যাচ্ছিলেন প্রিয়াঙ্কা। মাঝপথে তাকে থামিয়ে দেওয়া হয়। সোনভদ্রা যাওয়ার পথে তাকে আটক করা হলে মির্জাপুর নামক এলাকার রাস্তায় বসে পড়েন প্রিয়াঙ্কা। তার সঙ্গে থাকা অন্য কংগ্রেস কর্মীরাও পাশেই বসে পড়েন। প্রিয়াঙ্কার নিরাপত্তারক্ষীরা তাদের ঘিরে থাকেন। এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রিয়াঙ্কা সেখান থেকে সরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে আটক করে সরকারি গাড়িতে তোলা হয়।

সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এ সময় বলেন, ‘যাদের নির্মমভাবে মেরে ফেলা হয়েছে আমি শুধু তাদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলাম। আমার ছেলের বয়সী একটি ছেলেকেও গুলি করা হয়েছে এবং সে এখন হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছে। আমাকে বলুন, কোন আইনে আমাকে এভাবে আটকে দেওয়া হলো।’ সোনভদ্রার ওই ঘটনায় আহত ব্যক্তিদের দেখতে সকালে হাসপাতালে যান প্রিয়াঙ্কা। বলেন, তাকে বলা হয়েছে যে তিনি বারানসি থেকে সোনভদ্রায় যেতে পারবেন না। ‘আমি এখানে শান্তিপূর্ণভাবে বসে আছি। কেউ কি আমাকে ওই আদেশের কপি দেখাতে পারবেন?’

এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রিয়াঙ্কা সরে যেতে অস্বীকৃতি জানালে সোনভদ্রার কাছে মির্জাপুরে রাস্তার পাশে তাকে আটক করে সরকারি গাড়িতে তোলা হয়। সরকারি গাড়িতে করে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘আমি জানি না তারা আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে। আমরা যেকোনও জায়গায় যেতে রাজি।’ প্রিয়াঙ্কাকে যে গেস্ট হাউসে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল সেখানে দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমি শুধু সোনভদ্রায় যেতে চেয়েছিলাম যেন সেখানকার মানুষ নিজেদের বিচ্ছিন্ন মনে না করে। আমাকে গ্রেফতার করে এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। তবে ওই পরিবারগুলোর সঙ্গে দেখা না হওয়া পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাবো না।’

প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ওই এলাকায় পৌঁছানোর আগেই জানা যায়, সোনভদ্রায় যেকোনও রকম জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া আর ফার্স্টপোস্টের খবরে বলা হয়েছে, সেই ১৪৪ ধারা ভঙ্গের অভিযোগ তুলে প্রিয়াঙ্কাকে আটক করা হয়। এক কংগ্রেসকর্মী টেলিফোনে ফার্স্টপোস্টকে বলেন, ‘মির্জাপুরের নারায়ণপুর পুলিশ স্টেশনের কাছ থেকে প্রিয়াঙ্কাজিকে অবৈধভাবে আটক করেছে পুলিশ। তাকে সোনভদ্রায় যেতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরূপ মির্জাপুরের রাস্তার পাশে তিনি ধর্নায় বসেছিলেন। বারানসি থেকে ফেরার পথে এ ঘটনার সন্মুখীন হতে হয় তাকে। সোনভদ্রায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে এক সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের দেখতে বারানসির বিএইচইউ ট্রমা সেন্টারে গিয়েছিলেন তিনি। আটক করার সময় পুলিশ তাকে কোনও আনুষ্ঠানিক কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এটি পুরোপুরি অবৈধ।’

উত্তর প্রদেশ পুলিশের মহাপরিচালক ওপি সিং প্রিয়াঙ্কাকে আটকের খবর অস্বীকার করেছেন। তিনি নিউজ এইটিনকে বলেছেন, ‘প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করা হয়নি। স্থানীয় প্রশাসন তাকে থামিয়ে দিয়েছে। তার পথ আটকে দেওয়া হয়েছিল এবং সেখানে যেতে দেওয়া হয়নি।’

/এফইউ/বিএ/এমওএফ/

x