নাগরিকত্ব পেতে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’রা ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়েছে: মোদি সরকার

বিদেশ ডেস্ক ২২:৩৮ , জুলাই ১৯ , ২০১৯

আসামে নাগরিকত্ব নিবন্ধন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে ‘বাংলাদেশের লাখো অবৈধ অভিবাসী’ ভুয়া কাগজপত্র জমা দিয়েছে বলে দাবি করেছে ভারত। শুক্রবার (১৯ জুলাই) সেদেশের সুপ্রিমকোর্টে মোদি সরকারের পক্ষ থেকে এমন সন্দেহ প্রকাশ করা হয়। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্টে আসামের নাগরিক তালিকা তৈরির সময়সীমা বাড়ানোর আবেদন জানিয়েছে তারা। উল্লেখ্য, ভারত সে দেশে অবৈধ বাংলাদেশি রয়েছে দাবি করলেও বাংলাদেশ এই দাবির সঙ্গে একমত নয়। কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভারতে যে শরণার্থীরা ছিল, তাদের ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

২০১৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর মাঝরাতে আসাম এনআরসি-র (নাগরিক নিবন্ধন) প্রাথমিক তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল। সে তালিকায় আবেদনকারী ৩.২৯ কোটির মধ্যে বাদ পড়েছিল ১.৯ কোটি নাম। নাগরিক নিবন্ধন তালিকার চূড়ান্ত খসড়া প্রকাশের দিন নির্ধারিত হয়েছে এ বছরের ৩১ জুলাই। তবে সে সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব নয় বলে আগেই পার্লামেন্টে জানিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নিত্যানন্দ রাই। তখনই তিনি জানিয়েছিলেন, নির্ভুল তালিকা তৈরি করতে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের সময়সীমা বাড়ানোর জন্য সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানো হবে। শুক্রবার (১৯ জুলাই) ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সে আবেদন জানানো হয়। 

আইনজীবী তুষার মেহতা কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে গিয়ে বলেন, খসড়া তালিকায় রয়েছেন এবং বাদ পড়েছেন এমন অনেক নাগরিকের তথ্য-প্রমাণ নমুনা হিসেবে নিয়ে যাচাই করা হয়েছে। তাতে দেখা গেছে, বহু প্রকৃত নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। আবার পর্যাপ্ত নথি নেই এমন অনেকেও তালিকায় ঢুকে পড়েছেন। এতে এই অল্প দিনের মধ্যে পুরো তালিকা যাচাই করে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে নির্ভুল ও চূড়ান্ত তালিকা তৈরি সম্ভব নয়।

এতোদিন ধরে তালিকা তৈরির পরও তাতে ভুল হলো কী করে? সে ব্যাপারে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আইনজীবী যুক্তি দেখান, সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায়। ওই সব এলাকায় স্থানীয় প্রতিনিধিদের প্রভাবেই অনেক ‘অভারতীয়’ নাগরিকপঞ্জিতে ঢুকে পড়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। লাখো অবৈধ বাংলাদেশি তালিকায় ঢুকে পড়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ‘স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশের ভিত্তিতে অবৈধ অভিবাসীদেরকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে বলে সন্দেহ জোরালো হচ্ছে।’ আদালতে তুষার মেহতা আরও বলেন, ‘ভারত বিশ্বের শরণার্থী রাজধানী হতে পারে না।’

কেন্দ্র ও আসাম সরকার দু পক্ষই বাংলাদেশ লাগোয়া আসামের জেলাগুলিতে ২০ শতাংশ নামের নমুনা পুনর্যাচাই করতে চায়। আসামের এনআরসি কো অর্ডিনেটর প্রতীক হাজেলা বলেছেন, ৩১ জুলাই অতিরিক্ত অন্তর্ভুক্তি ও চূড়ান্ত বর্জনের একটি সম্পূরক তালিকা প্রকাশ করা হবে। কিন্তু একেবারে চূড়ান্ত এনআরসি প্রকাশ করতে আরও এক মাস সময় লাগবে। 

উল্লেখ্য, আসামের জাতীয় নাগরিকত্ব তালিকা প্রণীত হওয়ার পর কয়েক প্রজন্ম আগে বাংলাদেশ থেকে আসামে যাওয়া মানুষদের আসামের বাসিন্দা হওয়ার প্রমাণ দাখিল করতে বলা হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে এ বছর জানুয়ারিতে নিউজ এইটিনের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার কাছে জানতে চাওয়া হয়, এর ফলে কয়েক প্রজন্ম আগে বাংলাদেশ থেকে আসামে যাওয়া বাংলাদেশিরা বিপদে পড়বে কিনা। জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে অভিবাসন একটি খুব স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। ভারতের বহু মানুষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোতে অভিবাসী হয়েছে। প্রতিবেশী দেশগুলোতেও এটি খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, এখন যখন বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে যাচ্ছে, আমাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে, দারিদ্র্য বিমোচনে অগ্রগতি হচ্ছে, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী শক্তিশালী হচ্ছে, তখন আমাদের দেশ থেকে মানুষ কেন ভারতে যাবে এবং সেখানে গিয়ে থাকবে, তা আমি বুঝতে পারি না।'

১৯৯৬ সালে সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী জানতে পারেন, ভারতে ৬৪ হাজার বাংলাদেশি শরণার্থী রয়েছে। তিনি নিউজ এইটিনকে সে সময় বলেন, 'পার্বত্য শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের পর আমি তাদের ফেরত নিয়ে এসেছিলাম। (আসামের) বিষয়ে যে প্রশ্নটি উঠেছে আমরা সেটি খতিয়ে দেখব। শেখ হাসিনা আরও বলেন, আমরা দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় আসামের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করতে এবং সমাধান খুঁজতে পারি।'

/এফইউ/বিএ/

x