ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীদের উদ্ধার অভিযান পুনরায় শুরু করেছে দাতব্য সংস্থা

বিদেশ ডেস্ক ২৩:৩৩ , জুলাই ২১ , ২০১৯

ইউরোপীয় দেশগুলোর কারণে বাধ্য হয়ে ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীদের উদ্ধার তৎপরতা বন্ধের পুনরায় শুরু করেছে দাতব্য সংস্থা এসওএস মেডিটারিয়ানি। সংস্থাটির নতুন উদ্ধার জাহাজ ওশেন ভাইকিং নরওয়ের পতাকাবাহী। লিবিয়া উপকূলে জাহাজটি উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ৩১জন ক্রুর মধ্যে জাহাজটিতে ৯জন স্বাস্থ্যকর্মী রয়েছেন। দাতব্য সহযোগী মেডিসিন সান্স ফ্রন্টিয়ার্স স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়োগ দিয়েছে।

ইতালিতে দাতব্য সংস্থাটির আগের জাহাজ অ্যাকুয়ারিয়াসকে নোঙরের অনুমতি না দেওয়ার পর ভূমধ্যসাগরে অভিবাসীদের উদ্ধার অভিযান বাতিল করা হয়েছিল।

প্রতি বছর কয়েক হাজার অভিবাসী ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে প্রবেশের চেষ্টা করে। ইউরোপ পাড়ি দেওয়ার ক্ষেত্রে লিবিয়া গুরুত্বপূর্ণ স্থান। এখান থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পথে ও অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌকায় করে অভিবাসীরা সাগর পাড়ি দেয়। পথে জাহাজ ও নৌকাডুবিতে অনেক অভিবাসীর মৃত্যু হয়।

দাতব্য সংস্থাটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা সোফি বিউ জানান, ওই এলাকায় এখন কোনও উদ্ধারকারী জাহাজের তৎপরতা নেই। তাই বাধ্য হয়ে তারা পুনরায় শুরু করেছেন। তিনি বলেন, আমাদের সংস্থা ২০১৫ সালে গঠিত হয়েছে। এ পর্যন্ত আমরা ৩০ হাজার মানুষকে উদ্ধার করেছি। তবে সামরিক নৌযানসহ অন্যান্য জাহাজ আরও অনেক বেশি মানুষকে উদ্ধার করেছে। কিন্তু এই মুহূর্তে সেখানে কোনও উদ্ধারকারী জাহাজ নেই। রাষ্ট্র যেখানে ব্যর্থ হয় সেখানে বেসামরিক নাগরিক হিসেবে যতটা পারা যায় করার চেষ্টা হিসেবেই আমরা পুনরায় এই উদ্ধার অভিযান শুরু করেছি। এতে আমাদের খুশি হওয়ার কিছু নেই কিন্তু আমাদের তা করতে হচ্ছে।

জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর তথ্যে দেখা গেছে, গত সাত বছরে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপ যেতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ৬ হাজার ৯০৬ জন। নিখোঁজ হয়েছেন ১২ হাজারের বেশি মানুষ।

ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৩ সালে ৬৩৬ জন, ২০১৪ সালে ৭৭০ জন, ২০১৫ সালে ১৫৫৫ জন, ২০১৬ সালে ১৪৮৫ জন, ২০১৭ সালে ৭৯৫ জন, ২০১৮ সালে ৬৭৭ জনসহ এখন পর্যন্ত নিখোঁজ রয়েছেন ১২ হাজার ৫৩৯ জন।

ইউরোপীয় কমিশনের পরিসংখ্যান বিষয়ক দফতর ইউরোস্ট্যাট-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৮ থেকে ২০১৭ পর্যন্ত এক লাখেরও বেশি বাংলাদেশি ইউরোপের দেশগুলোতে অবৈধভাবে প্রবেশ করেছেন। এর মধ্যে ২০১৬ সালে ১৭ হাজার ২১৫ জন রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করলে ১১ হাজার ৭১৫টি আবেদন বাতিল করা হয়।

ইতালির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, কেন্দ্রীয় ভূমধ্যসাগর ব্যবহার করে ইতালিতে প্রবেশের হার দিন দিন বাড়ছে। ইউএনএইচসিআর-এর মতে, ভূমধ্যসাগর ব্যবহার করে ইউরোপে প্রবেশকারীর সংখ্যায় বাংলাদেশিদের অবস্থান চতুর্থ।

 

/এএ/

x