চীনা পণ্য আমদানিতে এখনই শুল্ক বসাচ্ছে না যুক্তরাষ্ট্র, ক্ষুব্ধ সয়াবিন চাষিরা

ব্রজেশ উপাধ্যায়, যুক্তরাষ্ট্র ২৩:৩১ , আগস্ট ১৪ , ২০১৯

চীনা পণ্য আমদানির ওপর শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেও তা এখনই কার্যকর করছে না ট্রাম্প প্রশাসন। এতে দেশ দুটির মধ্যে বাণিজ্য বিরোধ নিরসনের সম্ভাবনা জাগলেও বিকল্প বাজারের সন্ধানে মরিয়া হয়ে ওঠা আমেরিকার সয়াবিন চাষিদের জন্য পরিস্থিতি মারাত্মক হয়ে উঠছে।

সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ জানায় ২০১৯ সালে সয়াবিনের উৎপাদন ২০ শতাংশ কমে যাবে। যদিও কৃষকদের আশঙ্কা এবারে ক্রেতার অভাবে অতিরিক্ত ৭৫ কোটি ৫০ লাখ বুশেল (শস্যদানা পরিমাপের একক, ১ বুশেল প্রায় ৩৫ দশমিক ২ লিটারের সমান) অবিক্রিত রয়ে যাবে।

চলমান বাণিজ্য যুদ্ধ এবং সয়াবিনের সর্ববৃহৎ রফতানিকারক ব্রাজিল থেকে আমদানি বাড়তে থাকায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে সয়াবিন কিনতে নিজেদের ব্যক্তিখাতকে  অনুমোদন দিয়েছে চীন।

সয়াবিনের অতিরিক্ত সরবরাহ থাকায় এখন ভারত ও বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর আমদানিকারকদের খুঁজছেন মার্কিন কৃষকেরা। এসব দেশে বিপুল জনসংখ্যা, জনপ্রতি প্রোটিন গ্রহণের পরিমাণ কম আবার অর্থনৈতিক পরিস্থিতিরও উন্নয়ন ঘটছে।

 যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিলের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আমরা মনে করি ভবিষ্যতে এসব বাজার বিশ্বের উৎপাদিত সয়াবিন বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিনের জন্য সত্যিকার চাহিদা সৃষ্টি করতে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সয়াবিনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা নিয়ে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ বাজার হতে যাচ্ছে। আর এর আমদানিকারকরা অতিরিক্ত সরবরাহের সুবিধা নিয়ে দরকষাকষির ভালো সুযোগ পাবে।

ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক এক কূটনীতিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, সরকার সক্রিয়ভাবে এই সম্ভাবনা বিবেচনা করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশি আমদানিকারকদের কয়েকজন প্রতিনিধি যুক্তরাষ্ট্র সফর করেছেন আর সরকার এসব আলোচনায় উৎসাহ যুগিয়েছে। তিনি জানান, আমরা সয়াবিন এবং তুলার মূল্য থেকে সুবিধা পেতে পারি। ওই সাবেক কর্মকর্তা বলেন স্বল্প মেয়াদে এই বাণিজ্য যুদ্ধ থেকে নিশ্চিত লাভ রয়েছে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদেও এ থেকে লাভবান হওয়া যেতে পারে। তিনি বলেন, যখন দুই অর্থনৈতিক পরাশক্তি লড়াই করে তখন প্রভাব অন্যরাও টের পাবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গুরুত্বপূর্ণ সমর্থকদের মধ্যে রয়েছেন কৃষকেরা। আর ট্রাম্প প্রশাসন স্বল্পতম সময়ে চীনের সঙ্গে এই বিরোধ নিরসন চান যাতে ২০২০ সালে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তা প্রভাব ফেলতে না পারে।

এদিকে, বাণিজ্য যুদ্ধ যতই তীব্র হচ্ছে তত বেশি কৃষক ঋণ ও দেউলিয়াত্বের মুখোমুখি হচ্ছে। প্রশাসন ভর্তুকির ঘোষণা দিলেও তা যথেষ্ট বলে প্রমাণিত হচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস, বাণিজ্য আলোচনায় চীন এই কৌশল ব্যবহার করতে পারে। আর পরবর্তী নির্বাচনের ফলাফল পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বিলম্বিত হতে পারে।

মঙ্গলবার টুইট বার্তায় ট্রাম্প বলেছেন, ‘স্বাভাবিকভাবে চীন বলছে তারা আমাদের আমেরিকান মহান কৃষকদের কাছ থেকে বিশাল পরিমাণ সয়াবিন কিনতে যাচ্ছে। এত দিন পর্যন্ত তারা যা বলেছে তা করেনি। এবার হয়তো আলাদা কিছু হবে।

একইদিন যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি কার্যালয় ৩০ হাজার কোটি মার্কিন ডলারের চীনা পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয়। ওই ঘোষণায় বলা হয় বাণিজ্য যুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই শুল্ক লক্ষ্যবস্তু বানালেও তা নির্দিষ্ট পণ্যের ওপর ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত দেরি করা হবে।

চীনের বিশেষজ্ঞ বিল বিশপ টুইটারে মন্তব্য করতে গিয়ে লিখেছেন, ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি আগস্টের শুরু থেকে কার্যকরের কথা থাকলেও সেখান থেকে সরে গেছে। বেইজিং-এর প্রতি বার্তা হলো ট্রাম্প কঠোর থাকতে পারছে না কারণ, শুল্কমুক্ত পণ্য না পেলে ভোটারদের অখুশি হয়ে ওঠার ভয় রয়েছে। তাইলে বেইজিং কেন ছাড় দেবে?

চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে দুই দেশের মধ্যে পরবর্তী বাণিজ্য আলোচনা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে। তবে সয়াবিনের প্রসঙ্গে ধারণা করা হচ্ছে চীনা আমদানিকারকরা সহসাই আর যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে আসছে না।

 

/জেজে/টিএন/

x