কাশ্মির পরিস্থিতি নিয়ে যা বললেন ট্রাম্প

বিদেশ ডেস্ক ০৮:৫৯ , আগস্ট ২০ , ২০১৯

কাশ্মির পরিস্থিতি নিয়ে ইতোমধ্যেই পাকিস্তান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ২০১৯ সালের ৫ আগস্ট ভারত অধিকৃত কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করে অঞ্চলটিকে দুই টুকরো করে দেয় দিল্লি। ওই দিন সকাল থেকে কার্যত অচলাবস্থার মধ্যে নিমজ্জিত হয় দুনিয়ার ভূস্বর্গ খ্যাত কাশ্মির উপত্যকা। ফোনে ট্রাম্পকে সামগ্রিক পরিস্থিতি জানান পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। পরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি-ও একই ইস্যুতে ট্রাম্পকে ফোন করে আধাঘণ্টা ধরে কথা বলেন। দুই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপের পর সোমবার টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে কাশ্মির পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এতে কাশ্মিরের বর্তমান অবস্থাকে তিনি ‘একটি কঠিন পরিস্থিতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
টুইটারে দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প বলেন, 'আমার দুই ভালো বন্ধু ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে কথা হয়েছে। বাণিজ্য ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, কাশ্মিরে উত্তেজনা হ্রাসে কাজ করার বিষয়ে ভারত ও পাকিস্তানের সঙ্গে কথা হয়েছে। একটি কঠিন পরিস্থিতি, কিন্তু ভালো আলোচনা হয়েছে!’

ট্রাম্প-মোদি ফোনালাপের পর ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, কাশ্মিরে ভারতের সিদ্ধান্তের পর পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেছেন দুই নেতা। মোদি ট্রাম্পকে বলেছেন, ‘এই অঞ্চলের কিছু নেতার কার্যকলাপ ও বক্তব্য ভারতবিরোধী। যা শান্তি বজায় রাখতে সহায়ক নয়।’ নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সহিংসতা ও সীমান্ত সন্ত্রাস বন্ধে আপোষহীনতার কথা জানিয়েছেন বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।

এর আগে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে ইমরান খানের বৈঠকের এক মাসের মাথায় গত শুক্রবার ফোনে কাশ্মির পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন দুই নেতা। হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি হোগান গিডলে এক বিবৃতিতে জানান, দ্বিপাক্ষিক সংলাপের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মিরকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনা হ্রাসের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন ট্রাম্প।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে বলা হয়, ফোনালাপে দুই নেতা যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান সম্পর্ক আরও বাড়িয়ে তোলার উপায় নিয়ে আলোচনা করেন।

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কাশ্মির ইস্যু নিয়ে আলোচনার আগ মুহূর্তে ট্রাম্পের সঙ্গে ইমরান খানের এ ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়। পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মেহমুদ কোরেশি বলেন, কাশ্মির পরিস্থিতিতে এই অঞ্চলের অবস্থা নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন ইমরান খান।

এর মাসখানেক আগে ইমরান খানকে পাশে বসিয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছিলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী তাকে কাশ্মির সমাধানের মধ্যস্থতাকারী হতে অনুরোধ করেছেন। পরে ট্রাম্পের ওই বক্তব্য অস্বীকার করে ভারত।

এদিকে কাশ্মির নিয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই ভারতীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং হুমকির সুরে বলেছেন, ‘পরমাণু শক্তির আগে প্রয়োগ ভারতের নীতি নয়। কিন্তু প্রয়োজনে তা থেকে বেরিয়ে আসতেও হতে পারে।’ পরে রবিবার রবিবার তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘এবার আর কাশ্মির নিয়ে আলোচনা নয়। বৈঠক হবে কেবল পাকিস্তান অধিকৃত আজাদ কাশ্মির নিয়ে।'

অন্যদিকে ভারতের পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সতর্ক হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। রবিবার টুইটারে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এমন মন্তব্য করেন। আরেক টুইটে ভারতকে অ্যাডলফ হিটলারের নাৎসি জার্মানির সঙ্গে তুলনা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী। হিটলারের মতাদর্শের সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির আদর্শের মিল রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের পারমাণবিক বোমার নিয়ন্ত্রণ ফ্যাসিবাদী ও বর্ণবাদী হিন্দু শ্রেষ্ঠত্ববাদী মোদি সরকারের হাতে। ফলে দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রাগারগুলোর নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়টি বিশ্বকে অবশ্যই গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

ইমরান খান বলেন, নাৎসিরা যেভাবে জার্মানির দখল নিয়েছে একইভাবে ভারতের দখল নিয়েছে একটি ফ্যাসিবাদী, বর্ণবাদী হিন্দু শ্রেষ্ঠত্ববাদী দর্শন। এই দর্শন দুই সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে কাশ্মিরের ৯০ লাখ মানুষকে অবরুদ্ধ অবস্থার হুমকিতে ফেলেছে। এ ঘটনায় সমগ্র বিশ্বকে সজাগ হওয়া উচিত। সেখানে জাতিসংঘের পর্যবেক্ষক পাঠানো প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ভারতের হুমকি কাশ্মির ছাড়িয়ে পাকিস্তান পর্যন্ত প্রসারিত হয়েছে। ভারতীয় মুসলিমরাও এ হুমকিতে রয়েছে। যে কেউ গুগলে সার্চ দিয়ে হিটলারের নাৎসি মতবাদ ও জাতিগত নিধনযজ্ঞের সঙ্গে আরএসএস-বিজেপির প্রতিষ্ঠাতাদের গণহত্যার দর্শনের মিল খুঁজে পাবেন। ইতোমধ্যে ভারতের ৪০ লাখ মুসলিম নাগরিকত্ব হারানো ও বন্দিশিবিরের মুখোমুখি হওয়ার পরিস্থিতিতে রয়েছেন। বিশ্বকে অবশ্যই এই ঘৃণা ও গণহত্যার দানব থেকে সজাগ থাকতে হবে। আরএসএস গুণ্ডাদের তাণ্ডব থেকে সতর্ক থাকতে হবে। এদের থামাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনই উদ্যোগী না হলে এই মতাদর্শ আরও ছড়িয়ে পড়বে। সূত্র: টুইটার, নিউজ ১৮, নিউইয়র্ক টাইমস।

/এমপি/

x