৫ দফা কর্মসূচিতে কাশ্মিরিদের প্রতি প্রতিরোধ আন্দোলনের ডাক হুরিয়ত নেতার

বিদেশ ডেস্ক ২০:০৯ , আগস্ট ২৫ , ২০১৯

ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মিরের সর্বদলীয় হুরিয়ত কনফারেন্সের নেতা আলি শাহ গিলানি কাশ্মিরিদের ৫ দফা দাবিতে ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার ডাক দিয়েছেন। ৮৯ বছরের এই রাজনীতিক গৃহবন্দি থাকা অবস্থায় কাশ্মিরের জনগণের প্রতি এক খোলা চিঠিতে এ আহ্বান জানিয়েছেন। খোলা চিঠিটি ২৩ আগস্ট লেখা হলেও রবিবার তা প্রকাশিত হয়েছে।

 

গত ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের ঘোষণার মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়। জম্মু-কাশ্মিরকে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে পাস হয় একটি বিলও। আর গত ৯ আগস্ট রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে আইনে পরিণত হয় তা। এই পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয় বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত সেনা। ইন্টারনেট-মোবাইল পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়। গ্রেফতার করা হয় স্বাধীনতাপন্থী ও ভারতপন্থী রাজনৈতিক নেতাসহ চার হাজার মানুষকে। রাতের বেলায় বাড়ি বাড়ি অভিযান চালিয়ে তরুণদের তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে।

খোলা চিঠিতে গিলানি কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ অধিকার বাতিলের নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে গত তিন সপ্তাহ ধরে সব ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করা এবং লকডাউনেরও সমালোচনা করেছেন তিনি।

গিলানি ৫ দফা কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, ভারতের নগ্ন নৃশংসতার বিরুদ্ধে জম্মু-কাশ্মিরের নাগরিকদের সাহসিকতার সঙ্গে শান্তিপূর্ণ প্রতিরোধ, হয়রানি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মকর্তা ও পুলিশের প্রতিবাদ, সারা বিশ্বে ছড়িয়ে থাকা কাশ্মিরিদের দূত হিসেবে কাজ করা, পাকিস্তানি নেতাদের এগিয়ে আসা এবং জম্মু ও লাদাখের বাসিন্দাদের নিজেদের পরিচয় ধরে রাখা।

খোলা চিঠিতে গিলানি শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এসব কর্মসূচি পালনের সময় আমাদের অবশ্যই সুশৃঙ্খল থাকতে হবে। সশস্ত্র ও হত্যার প্রস্তুতি নিয়ে শত্রুদের আমাদের জীবন ও সম্পদ বিনষ্ট করার কোনও সুযোগ দেওয়া যাবে না। এটা গুরুত্বপূর্ণ যে আমাদের বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণ থাকতে হবে, যাতে অনেক মানুষ এতে যোগ দিতে পারে। যদি ভারতীয় সশস্ত্রবাহিনী আমাদের সমাবেশে হামলা অব্যাহত রাখে তাহলে যেকোনও প্রাণহানি ও সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার জন্য তারাই দায়ী থাকবে। সারা বিশ্ব তাদের আচরণ দেখবে।

সরকারি কর্মকর্তা ও পুলিশের প্রতি আহ্বান জানিয়ে এই রাজনীতিক লিখেছেন, আমরা সবাই দেখেছি। গত কয়েক দিনের ঘটনায় জম্মু ও কাশ্মিরের পুলিশ বাহিনীকে নিরস্ত্র করা হয়েছে এবং ভারতীয় সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনীর হাতে পুরো নিয়ন্ত্রণ তুলে দেওয়া হয়েছে। এমন অপমানের পরও যদিও তারা রুখে না দাঁড়ায় ও প্রতিবাদ না করে, তাহলে হয়তো কোনও কিছুই তাদের জাগাতে পারবে না।

/এএ/এমওএফ/

x