অ্যামাজনে আগুন ব্রাজিলের বলসোনারের বিরুদ্ধে ইউরোপের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ

বিদেশ ডেস্ক ২১:৫৮ , আগস্ট ২৫ , ২০১৯

পৃথিবীর ফুসফুসখ্যাত অ্যামাজন জঙ্গলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ইউরোপের বিভিন্ন শহরে ব্রাজিলের দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভ করেছেন প্রতিবাদকারীরা। বড় ধরনের প্রতিবাদ সংঘটিত হয়েছে লন্ডন, প্যারিস, জুরিখ, বার্লিন, মাদ্রিদ ও মিলানে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জয়ের বলসোনারো বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড দমনে পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় বিক্ষোভকারীরা তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেন।

প্যারিসে ব্রাজিলের দূতাবাসের সামনে বিক্ষোভকারীরা বলসোনারের পদত্যাগ দাবি করে স্লোগান দেন। এসময় তাদের হাতে বিভিন্ন ধরনের প্ল্যাকার্ড ছিল।

ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জি-সম্মেলনে অ্যামাজনের বিষয়টি তুলে ধরার জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানানোর পর প্যারিসের এই বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হলো। শনিবার ম্যাক্রোঁ এক টুইটে অ্যামাজনের আগুনকে ‘আন্তর্জাতিক সংকট’ হিসেবে অভিহিত করেন।

জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা ম্যার্কেল ফরাসি প্রেসিডেন্টের অনুভূতির সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন। তিনিও বলেছেন, জি সম্মেলনে বিষয়টি আলোচনা হওয়া উচিত।

এর আগে শুক্রবার ব্রাজিলেও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ব্রাজিলীয়রা সাধারণ বিভিন্ন বিক্ষোভে অংশ নেয়। কিন্তু খুব কমই পরিবেশগত ইস্যু নিয়ে। শুক্রবার বিক্ষোভকারীরা সাও পাওলোর প্রধান সড়ক অবরোধ করে পরিবেশমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন।

ব্রাজিলের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্পেস রিসার্স জানিয়েছে, ২০১৯ সালে এ পর্যন্ত প্রায় ৭৪ হাজার দফায় অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়েছে এ বনভূমি। তবে আগের যে কোনও সময়ের চেয়ে এবারের আগুন সবচেয়ে ভয়াবহ। এ আগুন ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় ব্রাজিলের উগ্র ডানপন্থী ও বাণিজ্যপন্থী প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো-র নীতিকে দায়ী করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। বন পুড়ে বাণিজ্য সম্প্রসারণের নীতির জন্য নিজ দেশের পরিবেশবাদীদের কাছেও তোপের মুখে পড়েছেন তিনি।

সর্বশেষ আগুন নিয়ন্ত্রণে ব্রাজিল সরকারের নিষ্ক্রিয়তার ঘটনায় দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি বাতিলের হুমকি দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ব্রাজিলিয়ান অর্থনীতিকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে অন্য দেশগুলো। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে চাপের মুখে শনিবার অ্যামাজনে সেনা মোতায়েন করে বলসোনারো সরকার। এরমধ্যেই সেখানে নতুন করে সহস্রাধিক স্থানে আগুন ছড়িয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে।

/এএ/

x