ডোরিয়ানের তাণ্ডবে বাহামায় নিখোঁজ ২৫০০

বিদেশ ডেস্ক ১৫:২০ , সেপ্টেম্বর ১২ , ২০১৯

প্রলয়ঙ্কারি হারিকেন ডোরিয়ান আঘাত হানার এক সপ্তাহ পর এখনও আড়াই হাজার মানুষ নিখোঁজ থাকার তথ্য জানিয়েছেন বাহামার কর্মকর্তারা। বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে তারা জানান, নিখোঁজ হিসেবে নিবন্ধিত এসব মানুষের মধ্যে আশ্রয়কেন্দ্রে থেকে যাওয়া মানুষও রয়েছেন। গত ১ সেপ্টেম্বর আঘাত হানা এই প্রলয়ঙ্কারী ঝড়ে ৫০ জন নিহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন বাহামার কর্মকর্তারা। তবে তারা সতর্ক করে দিয়েছেন এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।ডোরিয়ানের আঘাতে বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়া মানুষদের একাংশ

রেকর্ড রাখা শুরুর পর থেকে ক্যারিবিয়ান দ্বীপ বাহামাপুঞ্জেগত ১ সেপ্টেম্বর আঘাত হানে সবচেয়ে তীব্র ঘূর্ণিঝড় ডোরিয়ান। পাঁচ মাত্রার এই হারিকেনের আঘাতে দ্বীপের অনেক ঘরবাড়ির ছাদ উড়ে যাওয়ার পাশাপাশি সৃষ্টি হয় তীব্র বন্যারও। ঝড়ের এক সপ্তাহ পরও আশ্রয় কেন্দ্রে রয়ে গেছে হাজার হাজার মানুষ।

বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বাহামার জরুরি ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র কার্ল স্মিথ জানান, এখন পর্যন্ত নিবন্ধিত নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা আড়াই হাজার। তিনি বলেন, আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেওয়া বা বাড়ি থেকে সরিয়ে নেওয়া মানুষদের সরকারি তালিকার সঙ্গে এখনও নিখোঁজদের তালিকা মিলিয়ে দেখা হয়নি। ডাটাবেজ প্রক্রিয়াজাত করার কাজ চলছে।

কার্ল স্মিথ জানান নাসাউ দ্বীপে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার বাহামার গেমিং অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, আটশোরও বেশি মানুষের জন্য তারা ১ হাজার ৩৯৪ বর্গমিটারেরও বেশি এলাকায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত তাবু স্থাপন করেছে। বুধবার বাহামার কর্মকর্তারা জানান, সেখানে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৯৫ জন মানুষ বসবাস করছে।

নাসাউ দ্বীপের বহু মানুষ এখনও স্বজনদের খোঁজ চালিয়ে যাচ্ছে। ৩৮ বছর বয়সী পর্যটক গাইড ক্লারা বেইন বলেন, ‘আমার বন্ধুরা নিখোঁজ, বেশ কয়েকজন কাজিনও নিখোঁজ মোট পাঁচজন। তারা মার্শ হার্বারে থাকতো’। বাহামার কর্মকর্তারা বলছেন ওই এলাকার প্রায় ৯০ শতাংশ ঘরবাড়ি ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থ বা ধ্বংস হয়েছে। বেইন বলেন, দ্বীপের প্রত্যেকেই কাউকে না কাউকে হারিয়েছে, এটা সত্যিই ভয়ঙ্কর।

/জেজে/

x