চাপের মুখে নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা

বিদেশ ডেস্ক ১৬:০০ , সেপ্টেম্বর ১২ , ২০১৯

ক্রাইস্টচার্চ হামলার পর মুসলিমদের প্রতি সংহতি আর বিদ্বেষের বিপরীতে ঐক্যের আহ্বান নিয়ে গিয়ে বিশ্ববাসীর হৃদয় জয় করে নিয়েছিলেন নিউ জিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আর্ডার্ন। তবে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় চাপের মুখে পড়েছেন তিনি। যৌন নিপীড়নের অভিযোগ মাথায় নিয়ে তার দলের এক সদস্য পদত্যাগ করেছেন। এখনও তার নাম জানা না গেলেও তিনি পার্লামেন্টে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান। এছাড়া পদত্যাগ করেছেন তার দলের শীর্ষ ব্যক্তিও।

সোমবার স্থানীয় সংবাদমাধ্যম স্পিনঅফ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবার পার্টির এক কর্মী দলের ১৯ বছর বয়সী এক নারীর ওপর যৌন নিপীড়ন করেছেন। ওই নারীর দাবি, লেবার পার্টিতে অসংখ্যবার অভিযোগ করেও কোনও প্রতিকার পাননি তিনি। বুধবার পার্টির প্রধান নাইজেল হাওয়ার্থও পদত্যাগ করেছেন। গতবছরই তাকে ওই অভিযোগের ব্যাপারে মেইল করা হয়েছিলো। কিন্তু তিনি দাবি করেছেন যে কিছু জানতেন না। বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ার পরই পদত্যাগ করেন নাইজেল।

তবে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ নিয়ে পদত্যাগকারী ব্যক্তি এক বিবৃতিতে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি হতাশার কারণে পদত্যাগ করছেন। ‘আমি ডিউ এর তদন্তে পূর্ণ সহায়তা করছি এবং করে যাবো। আমি চাই সব দলের কাছেই বিষয়টা স্বচ্ছ থাকুক। ’ বিবৃতিতে বলেছেন তিনি।   উল্লেখ্য, যৌন নিপীড়ন ছাড়াও ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আরও ছয়টি অভিযোগ ছিলো। তবে গত বছর দলের অভ্যন্তরীণ এক তদন্তের মাধ্যমে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

যৌন নিপীড়নের ওই অভিযোগের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা ঠিক কখন জানতে পেরেছেন সেই বিষয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নারী অধিকার ও সমতা নিয়ে কাজ করা জাসিন্ডা ওই নিপীড়নের শিকারের পাশে দাঁড়ায়নি এমন অভিযোগও উঠছে।   জাসিন্ডার দাবি, তিনি সোমবারই প্রথম এই অভিযোগের কথা জানতে পারেন। তবে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, গত বছরই যৌন নিপীড়নের অভিযোগটি লেবার নেতাদের কাছে পাঠানো হয়েছিলো। 

রাজনীতি বিষয়ক সাংবাদিকরা জানান, এই অভিযোগ জাসিন্ডার নেতৃত্বকে খুবই কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে দাঁড় করিয়েছে। স্টাফের সাংবাদিক অ্যান্ড্রে ভ্যান্স বলেন, প্রধানমন্ত্রী বিষয়টা জানেন না কথাটা ‘হজম করা কঠিন।’

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, ২০১৭ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত দলীয় সদস্যের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের এই অভিযোগটিই জাসিন্ডার জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। নারী ও শিশুদের অধিকারের ব্যাপারে বরাবরই সোচ্চার জাসিন্ডা এ নিয়ে বড় ধরনের সংকটে পড়েছেন।

 

/এমএইচ/বিএ/

x