কাশ্মির নিয়ে চীনকে নাক না গলানোর পরামর্শ ভারতের

বিদেশ ডেস্ক ১২:২৯ , অক্টোবর ১০ , ২০১৯

কাশ্মির প্রশ্নে পাকিস্তানের অবস্থানকে সমর্থন করে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের দেওয়া বক্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ভারত। কাশ্মির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে আশ্বস্ত করেছে চীন। এরপরই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রভিশ কুমার বলেন, কাশ্মির ইস্যু ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়, এতে অন্য দেশগুলোর নাক গলালে ভালো হয়। দেশটির সম্প্রচারমাধ্যম এনডিটিভি’র এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

চীনের প্রেসিডেন্টের ভারত ও নেপাল সফরকে সামনে রেখে সম্প্রতি বেইজিং সফর করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। সফরে তিনি বৈঠক করেন চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে। বুধবার (৯ অক্টোবর) বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে কাশ্মির সংকট ও চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে আলোচনা হয়। সে সময় চীনের প্রেসিডেন্ট পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়েছেন, তিনি কাশ্মির পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন এবং যেকোনও পরিস্থিতিতে পাকিস্তানকে সমর্থন করবে তার সরকার।

চীনের প্রেসিডেন্টের এমন বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে দিল্লি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রভিশ কুমার বলেন, ‘কাশ্মির বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট এবং অনড় রয়েছে। আমরা আগেই বলেছি কাশ্মির আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। চীনও আমাদের এই অবস্থান ভালো করেই জানে। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে অন্য কোনও দেশ কথা বলুক এটা আমরা চাই না। তাই অন্য দেশগুলো যদি এরমধ্যে নাক না গলায় তাহলে তাতে সবারই ভালো হবে।’

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুই দিনের সফরে ভারত আসছেন শুক্রবার (১১ অক্টোবর)। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হতেই জিনপিংয়ের এই সফর। বৈঠকে ভারত ও চীনের মধ্যকার সীমান্ত বিরোধ ও বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এই বৈঠকের ঠিক দুইদিন আগে পাকিস্তানকে সমর্থন করে ওই বক্তব্য দেন চীনের প্রেসিডেন্ট।

উল্লেখ্য, ৫ আগস্ট ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিলের মধ্য দিয়ে কাশ্মিরের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার ও বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেয় বিজেপি নেতৃত্বাধীন দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার। লাদাখ ও কাশ্মিরকে দুটি পৃথক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করতে পার্লামেন্টে বিল পাস হয়। এ পদক্ষেপকে কেন্দ্র করে কাশ্মিরজুড়ে মোতায়েন করা হয়েছে বিপুলসংখ্যক অতিরিক্ত সেনা। গ্রেফতার করা হয়েছে সেখানকার শত শত নেতাকর্মীকে। সেখানে উন্নয়নের জন্য এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং এটা দেশটির ‘সম্পূর্ণ অভ্যন্তরীণ বিষয়’ —ভারতের পক্ষ থেকে এমন দাবি করা হলেও পাকিস্তান বলছে, সেখানে কাশ্মিরিদের মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। 

/এইচকে/এমওএফ/

x