তুরস্কের হাতে নিয়ন্ত্রণ তুলে দিয়ে সীমান্ত শহর ছাড়লো কুর্দিরা

বিদেশ ডেস্ক ১৫:৩৮ , অক্টোবর ২১ , ২০১৯

তুরস্কের সিরিয়া সীমান্তবর্তী রাস আল-আইন শহর ছেড়ে গেছে কুর্দি বিদ্রোহীরা। কুর্দি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা তুর্কি বাহিনী ও এর মিত্রদের কাছে শহরটির নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অঞ্চলটি থেকে নিজ দেশের সেনাদের সরিয়ে নেওয়ার পর থেকেই শহরটিতে অস্থিরতা বিরাজ করছিল। তবে তুর্কি-মার্কিন সমঝোতা অনুযায়ী, রবিবার বিকালে বিদ্রোহীরা শহরটি ত্যাগ করে।
আঙ্কারার পক্ষ থেকেও কুর্দি বিদ্রোহীদের শহরটি ছেড়ে যাওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। তুর্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার বিকালে ৮৬টি গাড়ির একটি বহর নিয়ে কুর্দি এসডিএফ বিদ্রোহীরা শহরটি ত্যাগ করেছে।

তুর্কি-সিরিয়া সীমান্তের ২০ মাইল এলাকা নিয়ে একটি নিরাপদ অঞ্চল তৈরিতে আগ্রহী তুরস্ক। ফলে দেশটি চাইছে, রাস আল-আইনের মতো সীমান্তবর্তী অন্য শহরগুলোও ছেড়ে যাক বিদ্রোহীরা। তবে কোবানে ও আল দারবাসিয়াহ-সহ তুরস্কের প্রত্যাশিত নিরাপদ অঞ্চলের অন্যান্য স্থানে এখনও রয়ে গেছে কুর্দি বিদ্রোহীরা।

কুর্দি বিদ্রোহীদের জোট এসডিএফ-এর মুখপাত্র কিনো গ্যাব্রিয়েল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় তুরস্কের সঙ্গে পাঁচ দিনের যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে তাদের যোদ্ধারা রাস আল আইন ত্যাগ করেছে। শহরটিতে আমাদের আর কোনও যোদ্ধা অবশিষ্ট নেই।

রাস আল আইন ছাড়া তুর্কি সীমান্তবর্তী অন্য শহরগুলোতে অবশ্য নিজেদের উপস্থিতির কথা নিশ্চিত করেছেন কুর্দি অ্যাক্টিভিস্টরা। এদিকে ২০ মাইল এলাকাজুড়ে তুরস্কের প্রস্তাবিত পুরো নিরাপদ অঞ্চল থেকে বিদ্রোহীদের সরে যাওয়া নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান। রবিবার ইস্তানবুলে এক অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।

এরদোয়ান বলেন, আঙ্কারার প্রত্যাশা উত্তর সিরিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্র ওয়াইপিজি/পিকেকে সন্ত্রাসীদের সরিয়ে নেবে। অন্যথায় তুরস্ক ফের অভিযান শুরু করবে।

তিনি বলেন, আশা করি আমাদের আমেরিকার মিত্ররা এবার তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।

২০১৯ সালের ৯ অক্টোবর তুর্কি সীমান্তবর্তী সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা থেকে সিরিয়ার কুর্দি বিদ্রোহীদের উৎখাতে অভিযান শুরু করে তুরস্ক। পরে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় গত ১৭ অক্টোবর ৫ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় আঙ্কারা। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান, আল জাজিরা।

/এমপি/এমওএফ/

x