পর্যটনকেন্দ্র হচ্ছে নিঝুম দ্বীপ, হাতিয়া, ভাসানচর ও স্বর্ণদ্বীপ

শফিকুল ইসলাম ০৭:৩৯ , আগস্ট ০৮ , ২০১৮

নিঝুম দ্বীপ (ছবি-সংগৃহীত)সরকার নোয়াখালীর নিঝুম দ্বীপ, হাতিয়া, ভাসানচর ও স্বর্ণদ্বীপকে পর্যটনকেন্দ্র বানাতে চায়। এসব এলাকায় পর্যটন আকর্ষণ বাড়াতে ইতোমধ্যে সড়কের উন্নয়নকাজ শুরু হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘সোনাপুর থেকে চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন’ নামের একটি প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে পর্যটন খাতে বিপুল সম্ভাবনা থাকলেও তা কাজে লাগানো যাচ্ছে না। এর পেছনে যে কয়েকটি কারণ রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে নাজুক যোগাযোগ ব্যবস্থা। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। তার অংশ হিসেবেই নোয়াখালীর নিঝুম দ্বীপ, হাতিয়া, ভাসানচর ও স্বর্ণদ্বীপে পর্যটক টানতে এসব জায়গার সড়ক উন্নয়ন করা হচ্ছে।
হাতিয়া (ছবি-সংগৃহীত)‘সোনাপুর থেকে চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন’ নামের যে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি’র (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে তা বাস্তবায়নে খরচ হবে ১৬৮ কোটি ৬৯ লাখ টাকা। নোয়াখালী সদর, সুবর্ণচর ও হাতিয়া উপজেলাব্যাপী প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হবে। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সোনাপুর থেকে চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটিতে রয়েছে লক্ষ্মীপুর-চরআলেকজান্ডার-সোনাপুর সড়ক এবং সোনাপুর মান্নাননগর-চরজব্বার-স্টিমারঘাট সড়ক। প্রস্তাবিত সড়কটি সোনাপুর থেকে শুরু হয়ে মান্নানগর-চরজব্বার হয়ে হাতিয়ার চেয়ারম্যানঘাটে শেষ হবে। নোয়াখালীর সঙ্গে দ্বীপ এলাকা হাতিয়া, ভাসানচর ও স্বর্ণদ্বীপে যাতায়াতের জন্য সোনাপুর থেকে চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত একমাত্র এ সড়কটি নির্মাণ করা হবে। বিচ্ছিন্ন দ্বীপ হাতিয়া এবং পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে নিঝুম দ্বীপ আকর্ষণীয় হওয়ায় প্রতি বছর প্রচুর পর্যটক এই সড়কপথে চলাচল করে।
ভাসানচর (ছবি-সংগৃহীত)সূত্র জানায়, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে নোয়াখালীর সোনাপুর থেকে চেয়ারম্যানঘাট হয়ে দ্বীপ এলাকা হাতিয়া, ভাসানচর এবং স্বর্ণদ্বীপে যাওয়ার জন্য দ্রুত ও নিরাপদ যোগাযোগব্যবস্থা গড়ে উঠবে। এতে প্রকল্প এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে। জানা গেছে, প্রকল্পটির প্রাক্কলিত ব্যয়ের পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হবে। প্রকল্পটি সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের আওতায় সড়ক ও জনপথ অধিদফতর ২০২১ সালের ৩০ জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করবে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, সোনাপুর থেকে চেয়ারম্যানঘাট পর্যন্ত সড়কের দৈর্ঘ্য ৪৩ কিলোমিটার এবং প্রস্থ ৫ দশমিক ৫০ মিটার। ইতোমধ্যে নোয়াখালীর সঙ্গে বন্দর নগরী চট্টগ্রামের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করার জন্য সোনাপুর-সোনাগাজী-জোরারগঞ্জ সড়ক উন্নয়নের কাজ শেষ হওয়ার পথে। সেনাবাহিনী হাতিয়ার চর এলাকা স্বর্ণদ্বীপে ক্যান্টনমেন্ট স্থাপন করেছে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় ভূমি অধিগ্রহণসহ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। এ অবস্থায় সড়কটির প্রস্থ বাড়িয়ে ৭ দশমিক ৩০ মিটারে উন্নীত করার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প প্রস্তাবটি ২০২১ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় সড়ক বাঁধ ও পেভমেন্ট (ঢালাই) প্রশস্ত ও মজবুত এবং কালভার্ট নির্মাণ করা হবে।
স্বর্ণদ্বীপ (ছবি-সংগৃহীত)এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব নজরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, দেশে পর্যটনকেন্দ্র বাড়াতে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পটি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে এ এলাকায় পর্যটকের সংখ্যা বাড়বে। এতে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হবে বাংলাদেশ।

/ওআর/

x