অভ্যন্তরীণ রুটে বিমানের টিকিট কাটবেন যেভাবে

জনি হক ২২:৪২ , অক্টোবর ০৬ , ২০১৮

দেশের এক শহর থেকে অন্য শহরে কম সময়ে যাওয়ার মোক্ষম বাহন হলো বিমান। জ্যাম এড়ানোসহ সময় বাঁচাতে অনেকেই এখন যাতায়াতের জন্য আকাশপথ বেছে নিচ্ছেন। তাই দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে যাত্রী সংখ্যা বেড়ে চলেছে। ফলে আকাশসেবা সংস্থাগুলোও বিভিন্ন গন্তব্যে তাদের ফ্লাইট বাড়িয়েছে।

অভ্যন্তরীণ রুটে দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রী পরিবহন করছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনস, নভোএয়ার ও রিজেন্ট এয়ারওয়েজ। এসব এয়ারলাইনের টিকিট অনলাইনে ক্রেডিট ও ডেবিট কার্ড আর মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ও বিক্রয় কেন্দ্রে সরাসরি গিয়ে কেনা যায়। প্রতিটি বিমানবন্দর থেকেও চাইলে টিকিট কিনতে পারেন। 

ঝক্কি এড়াতে অনলাইনেই বিমানের টিকিট কেনা যায় অনায়াসে। কার্ডের মাধ্যমে টিকিটের টাকা পরিশোধ হয়ে গেলে টিকিট চলে আসবে মেইলে। এরপর নির্ধারিত সময়ে বিমানবন্দরে নির্দিষ্ট এয়ারলাইনসের বুথে গেলেই বোর্ডিং পাস পেয়ে যাবেন। কার্ড ব্যবহার করতে না পারলে বুকিংয়ের পিএনআর নম্বরসহ টাকা নিয়ে এয়ারলাইনসগুলোর বিক্রয় কেন্দ্রে গেলে টিকিট পাওয়া যাবে। এক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্র সঙ্গে থাকলে ভালো। এছাড়া এজেন্সির কাছ থেকেও টিকিট কেনার সুযোগ আছে। তবে এজন্য খরচ পড়ে বেশি।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস
শুরুতে বলা যাক রাষ্ট্রীয় আকাশসেবা সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টিকিট কেনার পদ্ধতি। এর ওয়েবসাইটে (www.biman-airlines.com) গেলে বাঁ-দিকে লাল অক্ষরে ‘বুক মাই ফ্লাইট’ চোখে পড়বে। এর নিচে দেখবেন রাউন্ড ট্রিপ (যাওয়া-আসা), ওয়ান ওয়ে (যাওয়া) ও মাল্টি-সিটি (একটি গন্তব্যে গিয়ে আরেক গন্তব্য থেকে ফেরা)। এর যেকোনও একটিতে ক্লিক করতে হবে।

এরপর বড় করে সবুজ অক্ষরে ‘ফ্রম টু’ লেখার পাশে দেখবেন ‘ডিপারচার সিটি’তে ক্লিক করে যাত্রার শহরের স্থানে ক্লিক করুন। ‘অ্যারাইভাল সিটি’তে উল্লেখ করুন গন্তব্য। এর নিচে ‘ডিপার্টিং অন’ অপশনে ক্লিক করে যাত্রার তারিখ দিন। ‘রিটার্নিং অন’-এ ফেরার তারিখ জানান। অ্যাডাল্টসে (১২ বছর থেকে) উল্লেখ করতে হবে যাত্রীর সংখ্যা। সঙ্গে শিশু (২ থেকে ১১ বছর) থাকলে ‘চিলড্রেন’, কিশোর-কিশোরী থাকলে ‘টিনএজারস’ (১২ থেকে ১৫ বছর) ও শিশু (২ বছরের নিচে) হলে ‘ইনফ্যান্টস’-এ জানান।

কেবিন ক্লাসে ক্লিক করে নির্বাচন করতে হবে বিজনেস ক্লাস, ইকোনমি নাকি প্রিমিয়াম ইকোনমিতে ভ্রমণ করবেন। তবে অ্যানি কেবিন নির্বাচন করে সার্চ ফ্লাইটে ক্লিক দিলে সব ধরনের আসনের তথ্য আসবে পরের পেজে।

নতুন পেজেও রাউন্ড ট্রিপ (যাওয়া-আসা), ওয়ান ওয়ে (যাওয়া) ও মাল্টি-সিটি (একটি গন্তব্যে গিয়ে আরেক গন্তব্য থেকে ফেরা) যেকোনও একটিতে ক্লিক করে পরিবর্তন করা যাবে। চাইলে যাত্রী সংখ্যাও বাড়ানো-কমানো যাবে। একইভাবে কেবিন ক্লাস বদলানোর সুযোগ রয়েছে। এসব নিশ্চিত হয়ে থাকলে ইকোনমি স্পেশাল, সুপার সেভার, ইকোনমি সেভার, ইকোনমি ফেক্সিবল, বিজনেস সেভার, বিজনেস ফ্লেক্সিবল অপশনগুলো দেখবেন। এগুলোর যেকোনও একটিতে ক্লিক করতে হবে। ফেরার টিকিটের জন্যও একইভাবে এসব অপশনের একটি নির্বাচন করুন।

এবার ‘কন্টিনিউ’ লেখায় ক্লিক করলে ট্রাভেল ইটিনারেরি আসবে। এতে ভ্রমণের দিনক্ষণ, টিকিটের মূল্য, ফ্লাইট নম্বর ও শর্তাবলীগুলো পাবেন। এগুলো নিয়ে সম্মতি থাকলে কালো অক্ষরে লেখা ‘আই অ্যাগ্রি টু দ্য অ্যাবাভ টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনস’-এর পাশের ফাঁকা ঘরে ক্লিক করলে টিক চিহ্ন দেখা যাবে। এর নিচে টিকিটের মোট মূল্য আবারও দেওয়া হয়। ফ্লাইট পরিবর্তন করতে হলে বাঁ-পাশে চেঞ্জ ফ্লাইটে ক্লিক করতে হবে। আর সব ঠিক থাকলে ডান পাশে ‘কন্টিনিউ’তে ক্লিক করুন।

পরের পেজে দিতে হবে যাত্রীর নামের প্রথম ও শেষ অংশ, জন্ম তারিখ, মোবাইল ফোন নম্বরে (বিকল্প নম্বর থাকলে সেটাও), ই-মেইল ঠিকানা। ‘টাইটেল’-এ মিস্টার, মিসেস অথবা মিস, যেকোনও একটিতে ক্লিক করুন। এছাড়া ফ্লাইটের সময়সূচি পরিবর্তন হলে তা মোবাইল ফোন বা ই-মেইল কিংবা উভয় মাধ্যমে পেতে হলে ‘নোটিফাই মি টু ফ্লাইট টাইম চেঞ্জেস ভায়া’ লেখার পাশের শূন্য ঘরে টিক চিহ্ন দিন। এবার ডান পাশে ‘মেক রিজারভেশন’ লেখায় ক্লিক করুন। আর যদি নতুনভাবে আবার ফ্লাইট খুঁজতে চান তাহলে বাঁ-দিকের ‘স্টার্ট অ্যা নিউ সার্চ’ বেছে নিন।

রিজারভেশন হয়ে যাওয়ার পেজে ইংরেজিতে বুকিং শব্দটির পাশে ইংরেজি বর্ণ ও সংখ্যাসহ একটি পিএনআর নম্বর পাবেন। এই অংশটি প্রিন্ট করতে ‘প্রিন্ট রিজারভেশন’ লেখায় ক্লিক করুন। ই-মেইলে নিয়ে রাখতে চাইলে ‘সেন্ড ভায়া ই-মেইল’, যাত্রীর তথ্য পরিবর্তন করতে হলে ‘মোডিফাই প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন’, আসন নির্বাচনের জন্য ‘সিটস অ্যান্ড সিলেকশনস’ ও রিজারভেশন বাতিল করতে ক্লিক করুন ‘ক্যানসেল রিজারভেশন’। আর টিকিট কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বেছে নিন ‘কমপ্লিট পারচেস’। এতে ক্লিক করলে দেখবেন টিকিটের পুরো দাম। এবার পে বাই ক্রেডিট/ডেবিট/মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অপশনে ক্লিক করুন। এবার পিএনআর নম্বর আবার উল্লেখ করে দেওয়া হবে আপনাকে। এরপর কোন ধরনের কার্ডে টাকা দেবেন তা নির্বাচন করুন। এই পেজে ক্রেডিট/ডেবিট কার্ডে টাকা প্রদানের শর্তাবলী রয়েছে। এগুলো মেনে থাকলে তিনটি ফাঁকা ঘরে টিক চিহ্ন দিন। এরপর কার্ড ব্যবহারকারীর নাম, কার্ডের ধরন, কার্ড নম্বর, মেয়াদের তারিখ, সিভিসি কোডসহ সব তথ্য দিয়ে সাবমিট দিলেই পেমেন্ট হয়ে যাবে।

অনলাইনে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের টিকিট বুকিং দিয়ে কেনার জন্য যেতে হবে তাদের বিক্রয় কেন্দ্রে (মতিঝিল, বনানী ও আশকোনা)। এছাড়া ০১৭৭৭-৭১৫৬১৩-১৬ নম্বরে ফোন করে টিকিট বুকিং অথবা কেনা যাবে। টিকিটের মূল্য পরিশোধের সুযোগ রয়েছে বিকাশ ও রকেটের মাধ্যমে। এই সেবা মিলবে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৮টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। যাত্রীরা তাদের টিকিটের কপি ই-মেইল, হোয়াটস-আপ অথবা ভাইবারে পাবেন। 


ইউএস-বাংলা

বেসরকারি আকাশসেবা সংস্থা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ওয়েবসাইটে (www.flyusbair.com) গেলে দেখবেন রিটার্ন (যাওয়া-আসা), ওয়ান ওয়ে (যাওয়া) ও মাল্টি-সিটি (একটি গন্তব্যে গিয়ে আরেক গন্তব্য থেকে ফেরা)। এর যেকোনও একটিতে ক্লিক করতে হবে। মাল্টি-সিটিতে ক্লিক করলে নতুন উইন্ডো খুলবে।

এরপর ‘ডিপারচার সিটি’তে যাত্রার শহরের স্থানে ক্লিক করুন। ‘অ্যারাইভাল সিটি’তে উল্লেখ করুন গন্তব্য। এরপর যাত্রা ও ফেরার তারিখ জানান। যাত্রীর সংখ্যার পাশাপাশি সঙ্গে শিশু (২ থেকে ১১ বছর) থাকলে ‘চিলড্রেন’ ও শিশু (২ বছরের নিচে) হলে ‘ইনফ্যান্টস’-এ জানান। এরপর ‘ফাইন্ড’-এ ক্লিক করুন।

নতুন পেজে দিনক্ষণ অনুযায়ী বিজনেস ক্লাসের পাশাপাশি লিমিটেড অফার, ডিসকাউন্টেড, রেস্ট্রিক্টেড ও রেগুলার অপশনে দেখবেন। প্রয়োজন অনুযায়ী এগুলোর যেকোনও একটিতে ক্লিক করতে হবে। ফেরার টিকিটের জন্যও একইভাবে এসব অপশনের একটি নির্বাচন করুন। ডানপাশে সবুজ ব্যাকগ্রাউন্ডে উল্লেখ থাকবে টিকিটের মোট মূল্য। এবার ‘আই অ্যাকসেপ্ট দ্য জেনারেল টার্মস অব সেল’ লেখার পাশের ফাঁকা ঘরে টিক চিহ্ন দিন। তারপর বুক অ্যাজ অ্যা গেস্ট লেখায় ক্লিক করুন। আর যদি ফ্লাইট নির্বাচন বদলাতে চান তাহলে ওপরে ‘চেঞ্জ সিলেকশন’ বেছে নিতে হবে।

পরের পেজে ‘টাইটেল’-এ উল্লেখ করা যেকোনও একটিতে ক্লিক করুন। এরপর যাত্রীর নামের প্রথম ও শেষ অংশ, জন্ম তারিখ, মোবাইল ফোন নম্বর, গন্তব্যের যোগাযোগের মোবাইল ফোন নম্বর ও ই-মেইল ঠিকানা দিতে হবে। এবার ডান পাশে টিকিটের দামের নিচে ‘বুক’ লেখায় ক্লিক করুন। আর যদি আগের পেজে যেতে চান, তাহলে সোনালি বক্সে লেখা ‘ব্যাক’ বেছে নিন।

রিজারভেশন হয়ে যাওয়ার পেজে ইংরেজিতে বুকিং শব্দটির পাশে ইংরেজি বর্ণ ও সংখ্যাসহ একটি পিএনআর নম্বর পাবেন। যাত্রীর তথ্য পরিবর্তন করতে হলে ‘মোডিফাই প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন’, ফ্লাইট বদলাতে ‘চেঞ্জ ফ্লাইট’ ও আগের পেজে যেতে ক্লিক করুন ‘ব্যাক টু মাই ট্রিপস’।

টিকিট কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বেছে নিন টিকিটের মূল্যের নিচে থাকা ‘পে অনলাইন’। এতে ক্লিক করলে নতুন পেজ আসবে। এরপর কার্ড নম্বর, মেয়াদের তারিখ, সিভিভি কোড ও কার্ড ব্যবহারকারীর নামসহ সব তথ্য দিয়ে ‘পে নাউ’ লেখায় ক্লিক করলেই পেমেন্ট হয়ে যাবে। রিজারভেশন বাতিল করতে ডান পাশে ‘ক্যানসেল অর্ডার’ লেখায় ক্লিক করুন।

ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের বিক্রয় কেন্দ্র আছে ঢাকায় বনানী, গুলশান সার্কেল-১, গুলশান সার্কেল-২, ধানমন্ডি, উত্তরা, মতিঝিল, বাংলামোটর, বারিধারা ও বনশ্রীতে। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ হোটেল, নাসিরাবাদের মদিনা টাওয়ার ও চট্টগ্রাম ইপিজেড, সিলেটের চৌহাটার রাজ ম্যানসনে ও সিলেট বিমানবন্দরে, যশোরের কোতওয়ালিতে খান কমপ্লেক্সে ও বিমানবন্দরে, খুলনায় শিববাড়ি মোড়ে নূরজাহান কমপ্লেক্সে, সৈয়দপুরে ড. জিকরুল হক সড়কে ও বিমানবন্দরে, বরিশালে হোসেন পয়েন্টে, কক্সবাজারে হোটেল কল্লোল কমপ্লেক্সে, রংপুরে জেল রোডের আরডিআরএস ভবনে, রাজশাহীতে নিউ মার্কেট রোডে সুলতানাবাদে ইউএস-বাংলার বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ প্রতিটি বিমানবন্দরে ইউএস-বাংলার বিক্রয় কেন্দ্র পাওয়া যাবে।

রিজেন্ট এয়ারওয়েজ
বেসরকারি আকাশসেবা সংস্থা রিজেন্ট এয়ারওয়েজের ওয়েবসাইটে (www.flyregent.com) ঢুকে প্রথমে বুক ফ্লাইটে ক্লিক করতে হবে। এরপর যাত্রার শহরের স্থান ও গন্তব্য উল্লেখ করুন। এবার রিটার্ন (যাওয়া-আসা),ওয়ান ওয়ে (যাওয়া) ও মাল্টি-সিটি (একটি গন্তব্যে গিয়ে আরেক গন্তব্য থেকে ফেরা) অপশনের যেকোনও একটিতে ক্লিক করতে হবে। যাত্রা ও ফেরার তারিখ জানান। যাত্রীর সংখ্যার পাশাপাশি সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্ক ও শিশু হলে ‘ইনফ্যান্টস’-এ উল্লেখ করতে হবে। এরপর ‘কন্টিনিউ’ অপশনে ক্লিক করুন।

নতুন পেজেও রাউন্ড ট্রিপ, ওয়ান ওয়ে ও মাল্টি-সিটি অপশন মিলবে। চাইলে যাত্রী সংখ্যা বাড়ানো-কমানো যাবে। এগুলো নিশ্চিত হয়ে থাকলে বিজনেস ফ্লেক্সিবল, প্রিমিয়াম ইকোনমি, ইকোনমি সুপার ফ্লেক্সিবল, ইকোনমি সুপার, ইকোনমি ফ্লেক্সিবল, ইকোনমি ফ্রিডম, ইকোনমি রেস্ট্রিক্টেড, ইকোনমি সেভার, ইকোনমি স্পেশাল, ইকোনমি প্রোমো, সুপার সেভার, স্পেশাল প্রোমো, স্পেশাল, প্রোমো ও ডিসকাউন্টেড অপশনগুলো দেখবেন। এগুলোর যেকোনও একটিতে ক্লিক করতে হবে। ফেরার টিকিটের জন্যও একইভাবে এসব অপশনের একটি নির্বাচন করুন। এরপর নেক্সটে ক্লিক করতে হবে।

পরের পেজে ‘টাইটেল’-এ উল্লেখ করা যেকোনও একটিতে ক্লিক করুন। এরপর যাত্রীর নামের প্রথম ও শেষ অংশ, লিঙ্গ, জাতীয়তা, মোবাইল ফোন নম্বর, ই-মেইল ঠিকানা দিন। এবার শুধু বুকিং দিয়ে পরে পেমেন্ট করতে চাইলে টিকিটের মূল্যের নিচে থাকা ‘আই ওয়ান্ট টু বাই নাউ পে লেটার’ লেখায় ক্লিক করুন। আর টিকিট কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বেছে নিন ‘পে উইথ ক্রেডিট কার্ড/ডেবিট কার্ড/ইন্টারনেট ব্যাংকিং/মোবাইল ব্যাংকিং’। যেটাই বেছে নেন, শর্তাবলী মেনে নেওয়ার সম্মতি জানিয়ে ফাঁকা ঘরে টিক চিহ্ন দিন। তারপর নেক্সটে ক্লিক করুন।

অর্ডার সামারিতে লেনদেনের আইডি নম্বর থাকবে। ডান পাশে ইউজার ডিটেলসে নাম, ই-মেইল ঠিকানা ও যোগাযোগের ফোন নম্বর দিয়ে পেমেন্ট প্রক্রিয়ায় এগোতে হবে। এরপর ১০ মিনিটের মধ্যে পেমেন্ট দিতে হবে। প্রথমে কোন কার্ড দিয়ে টিকিটের টাকা দেবেন তা নির্বাচন করুন। এরপর কার্ড নম্বর, সিভিসি কোড, কার্ড ব্যবহারকারীর নাম, মেয়াদের তারিখ দিয়ে ওকে করলেই পেমেন্ট হয়ে যাবে।

এছাড়া ‘আই ওয়ান্ট টু বাই নাউ পে লেটার’ লেখায় ক্লিক করলে নতুন পেজ আসবে। এতে রিজারভেশন হয়ে যাওয়ার পেজে কনফারমেশন রেফারেন্স নম্বর পাবেন। এতে ভ্রমণের দিনক্ষণ, টিকিটের মূল্য, ফ্লাইট নম্বর পাবেন। ওপরে লাল অক্ষরে উল্লেখ থাকা বুকিং রেফারেন্স নম্বর ও মেয়াদোত্তীর্ণের সময়ের নিচে ‘পে নাউ’ ক্লিক করলে পেমেন্ট দেওয়া যাবে।

রিজেন্ট এয়ারওয়েজের বিক্রয় কেন্দ্র আছে ঢাকার উত্তরায় সিয়াম টাওয়ার, গুলশান-১ নম্বরে এসএ টাওয়ার, মতিঝিলে করিম চেম্বার, শ্যামলীর এম্পোরিয়াম ভবন ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের চেম্বার হাউস, নাসিরাবাদের সিডিএ এভিনিউ ও হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, কক্সবাজারে হোটেল কল্লোল কমপ্লেক্সে, যশোরে সার্কিট হাউসের বিপরীতে, খুলনায় টাইগার গার্ডেনে, সৈয়দপুরে সিফাত ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলসে, সিলেটে আনন্দ টাওয়ারে শিপার এয়ার সার্ভিসে রিজেন্ট এয়ারওয়েজের বিক্রয় কেন্দ্র রয়েছে।

নভোএয়ার
বেসরকারি আকাশসেবা সংস্থা নভোএয়ারের ওয়েবসাইটে (www.flynovoair.com) গেলে দেখবেন ওয়ান ওয়ে (যাওয়া),রিটার্ন (যাওয়া-আসা) ও মাল্টি-সিটি (একটি গন্তব্যে গিয়ে আরেক গন্তব্য থেকে ফেরা)। এর যেকোনও একটিতে ক্লিক করতে হবে। এরপর যাত্রার শহরের স্থান ও গন্তব্য উল্লেখ করুন। এবার যাত্রা ও ফেরার তারিখ জানান। যাত্রীর সংখ্যার পাশাপাশি সঙ্গে অপ্রাপ্তবয়স্ক (২ থেকে ১১ বছর) থাকলে ‘চাইল্ড’ ও শিশু (২ বছরের নিচে) হলে ‘ইনফ্যান্টস’-এ জানান। এরপর ‘সার্চ’ অপশনে ক্লিক করুন।

নতুন পেজেও রাউন্ড ট্রিপ (যাওয়া-আসা), ওয়ান ওয়ে (যাওয়া) ও মাল্টি-সিটি (একটি গন্তব্যে গিয়ে আরেক গন্তব্য থেকে ফেরা) যেকোনও একটিতে ক্লিক করে পরিবর্তন করা যাবে। চাইলে যাত্রী সংখ্যাও বাড়ানো-কমানো যাবে। একইভাবে কেবিন ক্লাস বদলানোর সুযোগ রয়েছে। এসব নিশ্চিত হয়ে থাকলে স্পেশাল প্রোমো, প্রোমো, স্পেশাল, ডিসকাউন্ট, সেভার ও ফ্লেক্সিবল অপশনগুলো দেখবেন। এগুলোর যেকোনও একটিতে ক্লিক করতে হবে। ফেরার টিকিটের জন্যও একইভাবে এসব অপশনের একটি নির্বাচন করুন।

এবার ‘কন্টিনিউ’ লেখায় ক্লিক করলে ট্রাভেল ইটিনারেরি আসবে। এতে ভ্রমণের দিনক্ষণ, টিকিটের মূল্য, ফ্লাইট নম্বর ও শর্তাবলীগুলো পাবেন। এগুলো নিয়ে সম্মতি থাকলে ‘আই অ্যাগ্রি টু দ্য অ্যাবাভ টার্মস অ্যান্ড কন্ডিশনস’ লেখার পাশের ফাঁকা ঘরে টিক চিহ্ন দিন। এর নিচে টিকিটের মোট মূল্য আবারও দেওয়া হয়। ফ্লাইট পরিবর্তন করতে হলে বাঁ-পাশে চেঞ্জ ফ্লাইটে ক্লিক করতে হবে। আর সব ঠিক থাকলে ডান পাশে ‘কন্টিনিউ’তে ক্লিক করুন।

পরের পেজে দিতে হবে যাত্রীর নামের প্রথম ও শেষ অংশ, জন্ম তারিখ, মোবাইল ফোন নম্বর (বিকল্প নম্বর থাকলে সেটাও), ই-মেইল ঠিকানা। ‘টাইটেল’-এ মিস্টার, মিসেস অথবা মিস; যেকোনও একটিতে ক্লিক করুন। এবার রিজারভেশন তৈরির জন্য ডান পাশে ‘বুক অন হোল্ড’ লেখায় ক্লিক করুন। আর টিকিট কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বেছে নিন ‘পে নাউ’। আর যদি নতুনভাবে আবার ফ্লাইট খুঁজতে চান তাহলে বাঁ-দিকের ‘স্টার্ট অ্যা নিউ সার্চ’ বেছে নিন।

‘পে নাউ’ অপশনে ক্লিক করলে দেখবেন পিএনআর তথা রেফারেন্স নম্বর। এই পেজে ক্রেডিট/ডেবিট কার্ডে টাকা প্রদানের শর্তাবলী রয়েছে। এগুলো মেনে থাকলে ফাঁকা ঘরে টিক চিহ্ন দিন। এতে ক্লিক করলে নতুন পেজ আসবে। এরপর কার্ড নম্বর, মেয়াদের তারিখ, সিভিভি কোড ও কার্ড ব্যবহারকারীর নামসহ সব তথ্য দিয়ে ‘পে নাউ’ লেখায় ক্লিক করলেই পেমেন্ট হয়ে যাবে। রিজারভেশন বাতিল করতে ডান পাশে ‘ক্যানসেল অর্ডার’ লেখায় ক্লিক করুন।

‘বুক অন হোল্ড’ লেখায় ক্লিক করলে রিজারভেশন হয়ে যাওয়ার পেজে ইংরেজিতে বুকিং শব্দটির পাশে কয়েকটি ইংরেজি বর্ণের একটি পিএনআর নম্বর পাবেন। এই অংশটি প্রিন্ট করতে ‘প্রিন্ট রিজারভেশন’ লেখায় ক্লিক করুন। ই-মেইলে নিয়ে রাখতে চাইলে ‘সেন্ড ভায়া ই-মেইল’, যাত্রীর তথ্য পরিবর্তন করতে হলে ‘মোডিফাই প্যাসেঞ্জার ইনফরমেশন’, আসন নির্বাচনের জন্য ‘সিটস অ্যান্ড সিলেকশনস’ ও রিজারভেশন বাতিল করতে ক্লিক করুন ‘ক্যানসেল রিজারভেশন’। আর টিকিট কেনার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে বেছে নিন ‘কমপ্লিট পারচেস’। এতে ক্লিক করলে দেখবেন টিকিটের পুরো দাম। এবার পে বাই ক্রেডিট/ডেবিট/মোবাইল ব্যাংক অ্যাকাউন্ট অপশনে ক্লিক করুন। এবার পিএনআর নম্বর আবার উল্লেখ করে দেওয়া হবে আপনাকে। এই পেজে ক্রেডিট/ডেবিট কার্ডে টাকা প্রদানের শর্তাবলী রয়েছে। এগুলো মেনে থাকলে ফাঁকা ঘরে টিক চিহ্ন দিন। এরপর কার্ড ব্যবহারকারীর নাম, কার্ডের ধরন, কার্ড নম্বর, মেয়াদের তারিখ, সিভিসি কোডসহ সব তথ্য দিয়ে সাবমিট দিলেই পেমেন্ট হয়ে যাবে।

নভোএয়ারের বিক্রয় কেন্দ্র আছে ঢাকার বনানী, গুলশান, মতিঝিল, উত্তরা, আসাদ গেট ও হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে। ঢাকার বাইরে চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ, জিইসি সার্কেল ও হযরত শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, কক্সবাজারে হোটেল সি-প্যালেস ও বিমানবন্দরে, যশোর চৌরাস্তা ও বিমানবন্দরে, খুলনায় কেডিএ এভিনিউতে, সিলেটের আনন্দ টাওয়ার ও ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, বরিশালে হোটেল মেলোডিতে, রাজশাহীর অলঙ্কার মোড়, সৈয়দপুরে শহীদ জিকরুল হক সড়ক ও বিমানবন্দর, রংপুরে ক্যান্টনমেন্ট রোডে নভোএয়ারের বিক্রয় কেন্দ্র আছে।

ছবি: মীর রিদোয়ান সাঈদ

/জেএইচ/

x