জাপানের মন্দিরে গিয়ে পুরনো চশমাকে বিদায়!

জার্নি ডেস্ক ১৯:৪০ , নভেম্বর ০৯ , ২০১৮

ইচিবাতা মন্দিরে পুরনো চশমাকে আশীর্বাদ জানাচ্ছেন একজন বুদ্ধ ভিক্ষুবন্ধুদের সহজে বিদায় জানাতে পারে না কেউ। অপরিচিত মানুষ হলে আলাদা কথা। কিন্তু অনেক দিনের বন্ধুকে বিদায় জানানো সবার জন্যই কঠিন। নিজের ব্যবহৃত জিনিসের বেলায়ও ব্যাপারটা একই। বিশেষ করে, যে জিনিস ব্যবহারের ফলে জীবন হয়ে ওঠে স্বাচ্ছন্দ্যময়। যেমন, চোখের চশমা।

সেই ভাবনা থেকে ব্যবহৃত চশমার জন্য আশীর্বাদ অনুষ্ঠান হয়ে গেলো জাপানের হিরোশিমা শহর থেকে ১৮০ কিলোমিটার (১১২ মাইল) দূরে ইজুমোর ইচিবাতা মন্দিরে। জাপান টুডে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, প্রতি বছরের ৮ নভেম্বর এই তীর্থস্থানে পুরনো চশমাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে বিদায় জানায় অসংখ্য মানুষ।
ইচিবাতা মন্দিরে দৃষ্টিশক্তি সমস্যা ও চোখের রোগ থেকে আরোগ্য কামনায় প্রার্থনা করতে যায় মানুষ। এরই সূত্র ধরে চশমাকে বিদায় জানানোর অনুষ্ঠান হয়ে থাকে সেখানে।

স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকা ‘মেডিসিন বুদ্ধ’ হিসেবে পরিচিত ইয়াকুচি নিয়োরাইকে উৎসর্গ করে ৮৯৪ খ্রিস্টপূর্বে গড়ে ওঠে ইচিবাতা মন্দির। সেখানে তার একটি ভাস্কর্য আছে। এতে দেখা যায়, বাম হাতে ওষুধের পাত্র ধরে আছেন তিনি। এজন্য ইচিবাতা মন্দিরকে কেউ কেউ বলেন, ‘নয়নের লর্ডেস’। লর্ডেস হলো ফরাসি শহর। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের তীর্থযাত্রীরা আরোগ্য কামনায় সেখানে যান।

পুরনো চশমা সাধারণত কয়েকটি কারণে মানুষ ফেলে দেয় বা ব্যবহার করে না। কখনও চিকিৎসক ভিন্ন প্রেসক্রিপশন দিলে তাদের নতুন চশমা নিতে হয়। ইচিবাতা মন্দিরের অনুষ্ঠানে ভারতের একটি গ্রুপকে ব্যবহৃত চশমা দান করা হয়। যাদের চশমা কেনার সক্ষমতা নেই তারা সেগুলো বিনামূল্যে পেয়ে থাকে। এ বছর ২০০টি চশমা সংগ্রহ করা হয়েছে।

ইচিবাতা মন্দির ছাড়াও জাপানের সবচেয়ে পুরনো মন্দির ইজুমো তাইশার সুবাদে ইজুমোর খ্যাতি আছে দুনিয়াজোড়া। শহরটির সোবা নুডলস (গমের তৈরি) বেশ জনপ্রিয়। অনেকের মতে, জাপানের সেরা খাবার এটাই!

সূত্র: সিএনএন ট্রাভেল

/জেএইচ/চেক/এমওএফ/

x