পহেলা বৈশাখকে ঘিরে বাড়ছে পর্যটনের সম্ভাবনা

জনি হক ও চৌধুরী আকবর হোসেন ২২:৫৩ , এপ্রিল ১৩ , ২০১৯

মঙ্গল শোভাযাত্রা (ফাইল ছবি)বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হয় নিজস্ব বর্ষবরণ অনুষ্ঠান। এগুলোর বৈচিত্র্যের স্বাদ নিতে সেইসব দেশে যান পর্যটকরা। বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখকে ঘিরেও বাড়ছে পর্যটনের সম্ভাবনা। বর্ষবরণের অনুষ্ঠানের পাশাপাশি পর্যটকদের আকর্ষণে উদ্যোগ নিলে বাংলাদেশেও এ উৎসব হবে পর্যটনের অন্যতম অনুষঙ্গ।

চীনে দেশটির সবচেয়ে বড় সাংস্কৃতিক উৎসব ‘চাইনিজ নিউ ইয়ার’ উপভোগ করতে বেড়াতে যান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পর্যটক। চীনা পঞ্জিকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজনে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য থাকে নানান আয়োজন। ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনকে ঘিরেও কয়েকটি দেশে থাকে জমকালো আয়োজন। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি, স্কটল্যান্ডের এডিনবরা, ফ্রান্সের প্যারিস, হংকং, দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউন মুখর হয়ে ওঠে ভ্রমণপ্রেমীদের হৈহুল্লোড়ে। বর্ণিল আতশবাজিতে থার্টিফার্স্ট নাইটে নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ আনন্দের ঢেউয়ে ভাসে।

একইভাবে ইউনেস্কোর বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় মঙ্গল শোভাযাত্রা স্থান করে নেওয়ায় বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ নিয়ে বিদেশি ভ্রমণপিপাসুদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। অসাম্প্রাদয়িক, বিশ্বজনীন ও মানব কল্যাণে নিবেদিত শোভাযাত্রা হিসেবে ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর এটি ইউনেস্কোর স্বীকৃতি পায়। অশুভ শক্তির বিরূদ্ধে শান্তি, গণতন্ত্র ও বাঙালি জাতিসত্তার ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখা হয় মঙ্গল শোভাযাত্রাকে। ১৯৮৯ সাল থেকে বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে এর মাধ্যমে অপশক্তির অবসান ও মানুষের কল্যাণময় ভবিষ্যতের আশা ব্যক্ত করা হয়।
বেসামরিক, বিমান ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সরকার পর্যটনের বিকাশে আন্তরিক। বিশ্বের সামনে আমরা বাংলাদেশের পর্যটনকে তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছি। আমরা আশা করছি শিগগিরই এর সুফল পাবো।’
জানা গেছে, গত কয়েক বছর ধরে সীমিত আকারে দেশে আসছে বিদেশি পর্যটক। এবার ভুটানের প্রধানমন্ত্রী ডা. লোটে শেরিং পহেলা বৈশাখ উপভোগ করতে ঢাকা সফরে এসেছেন। রবিবার (১৪ এপ্রিল) সুরের ধারা ও চ্যানেল আই আয়োজিত ‘হাজার কণ্ঠে বর্ষবরণ ১৪২৬’ অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন তিনি।

পহেলা বৈশাখকে ঘিরে পর্যটনের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টোয়াব) পরিচালক তৌফিক রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের পর্যটনের মৌসুম অক্টোবর থেকে মার্চ পর্যন্ত। এরপর ঝড়, বৃষ্টি ও গরমের কারণে পর্যটক উপস্থিতি কমে আসে। তবে পহেলা বৈশাখ নিয়ে ভিন্নধর্মী আয়োজন ও প্রচারণা করতে পারলে এ সময়েও পর্যটকদের আনাগোনা দেখা যাবে।’

টোয়াব পরিচালকের মন্তব্য, ‘অন্যান্য দেশে বর্ষবরণকেন্দ্রিক আয়োজন থাকে কয়েকদিন। সেগুলোতে পর্যটকদের জন্য থাকে নানান কার্যক্রম। আমরাও যদি এ ধরনের ট্যুর প্যাকেজ দিতে পারি তাহলে ইতিবাচক ফল আসবে। সেক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়, ট্যুরিজম বোর্ড, ট্যুর অপারেটরদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বাংলাদেশের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দেখার ইচ্ছে আছে বিদেশিদের।’

এদিকে বর্ষবরণের আায়োজনকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরতে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড। ১০ দেশের ২৬ জন সাংবাদিক ও ট্যুর অপারেটরকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে সরকারি এই সংস্থা। ১৩ এপ্রিল থেকে ২৩ এপ্রিল বর্ষবরণ উপভোগের পাশাপাশি বাংলাদেশের দর্শনীয় স্থানে ঘুরে বেড়াবেন তারা। এরপর নিজেদের দেশে ফিরে গিয়ে এসব অভিজ্ঞতা সংবাদমাধ্যমে তুলে ধরবেন তারা।

বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ড জানিয়েছে— জাপান, থাইল্যান্ড, চীন, যুক্তরাজ্য, বেলজিয়াম, দক্ষিণ কোরিয়া, লেবানন, নেদারল্যান্ড, ইতালি, স্পেন থেকে ২৬ জন সাংবাদিক ও ট্যুর অপারেটরকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। তারা ১৪ এপ্রিল ঢাকায় পহেলা বৈশাখ উদযাপন করবেন। এরপর বিভিন্ন জেলার দর্শনীয় স্থানে ভ্রমণ করবেন তারা। এ তালিকায় থাকছে সুন্দরবন, কক্সবাজার, ষাট গম্বুজ মসজিদ, লালনের মাজার, বান্দরবান ও ঢাকার পানাম সিটি। তাদের ব্যয় বহন করবে পর্যটন বোর্ড।

পর্যটন বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা. ড. ভুবন চন্দ্র বিশ্বাস বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দেশীয় ট্যুরিজমের প্রচারণা হলেই পর্যটক বাড়বে। এজন্য আমরা ১০টি দেশের ২৬ জন সাংবাদিককে আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তারা বাংলাদেশে ভ্রমণ শেষে নিজ দেশে ফিরে গিয়ে তাদের সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে খবর প্রকাশ করবেন। এর মধ্য দিয়ে সেসব দেশে বাংলাদেশ নিয়ে আগ্রহ সৃষ্টি হবে।’
এ মাসের শুরুর দিকে ৩৫ দেশের রাষ্ট্রদূতকে চায়ের শহর শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে নিয়ে যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তাদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, ডেনমার্ক, সিঙ্গাপুর, ব্রাজিল, জাপান, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, মরক্কো, নেপাল, ভুটান, কুয়েত, তুরস্ক, ওমান, ফিলিপাইন, আফগানিস্তান ও পাকিস্তানসহ ৩৫টি দেশের কূটনীতিক। এছাড়া উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ইউএনডিপি, সার্ক, বিমস্টেক, ইউএনএফপিএ, ইউসিকেইএফ বিডি, ইউএনএইচসিআর, ইউএসডিএসএস কর্মকর্তারাও যান। মণিপুরি নৃত্য উপভোগের পাশাপাশি রামনগর মণিপুরি পল্লী ও ইস্পাহানি টি কোম্পানির চা বাগান ও কলকারখানা পরিদর্শন করেন তারা।

/জেএইচ/

x