সংস্কৃতির বিনিময় পর্যটন বিকাশে সহায়ক: পর্যটন প্রতিমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ২১:০০ , এপ্রিল ১৯ , ২০১৯

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী‘সংস্কৃতির বিনিময় পর্যটন বিকাশে সহায়তা করে। সংস্কৃতির বিনিময়ের সুবাদে দেশে দেশে মানুষ উপকৃত ও পারস্পরিক সম্পর্ক সৃদঢ় হয়’— বলছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী। শুক্রবার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরে অনুষ্ঠিত নেপালি-বাংলা সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

পর্যটন খাতের উন্নয়নে বাংলাদেশ ও নেপাল উভয়ই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, রয়েল বেঙ্গল টাইগার রক্ষায় দুই দেশ পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে একসঙ্গে টাইগার প্রজেক্টে কাজ করছে। দুই দেশের মধ্যকার জনগণের সম্পর্ক, পর্যটন ও বাণিজ্যের উন্নয়নে ইতোমধ্যেই ঢাকা-কাঠমান্ডু সরাসরি বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। পর্যটনের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ভবিষ্যতে রেল যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে। পর্যটন, ট্রাভেল এজেন্ট ও ট্যুর অপারেটরদের উন্নয়নে দুই দেশের সম্মিলিতভাবে সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।

পর্যটন প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার বিদ্যমান সম্পর্ক ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যগত। তার কথায়, ‘বাংলাদেশ ও নেপালি জনগণের মধ্যকার হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক হাজার বছরের পুরনো। নেপালের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা মৈথালি ভাষার কবি বিদ্যাপতি ও তার কর্ম আমাদের মধ্যযুগীয় সাহিত্যের অন্যতম অনুষঙ্গ। ভৌগলিক ও সাংস্কৃতিক নৈকট্য, বিনিময়কৃত মূল্যবোধ এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিষয়ে দুই দেশের সহমত আমাদের জনগণের মধ্যকার সম্পর্ক গভীর করেছে।’

মহান মুক্তিযুদ্ধে নেপালের ভূমিকা স্মরণ করে মো. মাহবুব আলী বলেন, ‘নেপাল বাংলাদেশের প্রকৃত বন্ধু। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নেপালের সরকার ও জনগণ সমর্থন ও সহমর্মিতা নিয়ে আমাদের পাশে ছিল। নেপাল হলো বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বকে স্বীকৃতিদানকারী সপ্তম দেশ। বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকেই আন্তরিকতা, সদিচ্ছা ও পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে আমাদের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নত হয়েছে। আমরা পরস্পরের কাছে এসেছি। বর্তমানে বাংলাদেশ ও নেপাল জাতিসংঘ, জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, সার্ক ও বিমসটেকসহ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংগঠনে বিভিন্ন বিষয়ে আমাদের সাধারণ স্বার্থরক্ষায় একত্রে কাজ করে চলেছে।’

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমাদের সম্পর্ক পারস্পরিক বিশ্বাস ও শ্রদ্ধাবোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত। একুশ শতকের বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা মোকাবিলা ও আমাদের মধ্যকার সম্ভাবনাকে বিকশিত করে বিভিন্ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য উভয় দেশকেই পরিকল্পিত ও সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের চার্জ দ্য আ্যরফেয়ার্স ডন বাহাদুর ওলি। এছাড়া ছিলেন বেশ কয়েকটি দেশের হাইকমিশনার ও রাষ্ট্রদূত। গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন বাংলাদেশ ও নেপাল কালচারাল করপোরেশনের শিল্পীরা।

/সিএ/জেএইচ/

x