তথ্যপ্রযুক্তির প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে পর্যটন খাতে: প্রতিমন্ত্রী

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট ২০:০৭ , এপ্রিল ২০ , ২০১৯

পর্যটন মেলার সমাপনীতে বক্তব্য রাখছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলেছেন। পর্যটনের প্রচারণায় এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির প্রসার সাম্প্রতিক সময়ে দেশের পর্যটন খাতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। মানুষ এখন ইন্টারনেট ব্যবহার করে পর্যটন গন্তব্য সম্পর্কে খবর নেয়। পর্যটন খাতের উন্নয়ন ও প্রসারে তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে সামাজিক গণমাধ্যম।’

শনিবার (২০ এপ্রিল) বিকালে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে বাংলাদেশ ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ফেয়ারের (বিটিটিএফ) সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পর্যটন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন ও বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজ রয়েছে। এগুলোকে আরও পর্যটকবান্ধব আর তথ্যবহুল করার চেষ্টা আছে আমাদের।

প্রতিমন্ত্রী মনে করেন, পর্যটনের প্রসারে গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি বলেন, ‘পর্যটন শিল্প বিকাশে গণমাধ্যম অন্যতম অনুষঙ্গ। দেশ-বিদেশে পর্যটনের প্রসারে গণমাধ্যম অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। পর্যটকেরা কোথাও ভ্রমণ করতে চাইলে মূলত গণমাধ্যম থেকে কাঙ্ক্ষিত গন্তব্য সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে। বর্তমান বিশ্বে গণমাধ্যম একীভূতকরণের যুগে তথ্য ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত দক্ষ ও সহজ। একটি পর্যটন গন্তব্যকে সঠিকভাবে তুলে ধরতে গণমাধ্যমের কোনও বিকল্প নেই।’

 

পর্যটন প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলীকে ক্রেস্ট তুলে দেন টোয়াব সভাপতি তৌফিক আহমেদ আহমেদ

 

মো. মাহবুব আলী উল্লেখ করেন— ওয়ার্ল্ড ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুরিজম কাউন্সিলের (ডব্লিউটিটিসি) ২০১৮ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৭ সালে বাংলাদেশের জিডিপিতে পর্যটন ও ভ্রমণ খাতের অবদান ছিল ৮৫০ দশমিক ৭ বিলিয়ন টাকা। এটি মোট জিডিপির ৪ দশমিক ৩ শতাংশ। ২০২৮ সাল নাগাদ তা বাংলাদেশের মোট জিডিপির ৬ দশমিক ৮ শতাংশে উন্নীত হবে। ২০১৭ সালে ২৪ লাখ ৩২ হাজার কর্মসংস্থার তৈরিতে সরাসরি সহায়ক ছিল পর্যটন শিল্প, যা মোট কর্মসংস্থানের ৩ দশমিক ৮ শতাংশ। ২০২৮ সালের মধ্যে তা ৪ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

পর্যটন প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘বাংলাদেশের অসংখ্য মানুষ প্রতিবেশী দেশগুলোতে বেড়াতে যায়। পর্যটনের জন্য আমাদের প্রয়োজনীয় সব সম্পদ ও সম্ভাবনা রয়েছে। এখন আমাদের পর্যটন গন্তব্যগুলো সঠিক ও সুন্দরভাবে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরা প্রয়োজন। এ ধরনের মেলা আমাদের পর্যটন খাতে বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করার পাশাপাশি লাখ লাখ অভ্যন্তরীণ ভ্রমণপিপাসুদের দেশের অভ্যন্তরে পর্যটন গন্তব্য বেছে নিতে উদ্বুদ্ধ করবে।’

আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলার আয়োজক ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সভাপতি তৌফিক উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ভারতের পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাগ্নিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. ভুবন চন্দ্র বিশ্বাস, আসাম ট্যুরিজম করপোরেশন লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ভাস্কর গোখান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) শাকিল মেরাজ, টোয়াবের পরিচালক তসলিম আমিন শোভন।

/সিএ/জেএইচ/

x