ট্রাভেলগ চট্টগ্রামের বাড়বকুণ্ডে গরম জলের কূপ

সাদমান সাকিব আয়ন ০৯:০০ , অক্টোবর ১০ , ২০১৯

দেশের বিরল গরম জলের কূপ বা গরম জলের প্রাকৃতিক খুমবাংলাদেশে অদ্ভুত কিছু জায়গা আছে। এ তালিকায় থাকতে পারে চট্টগ্রামের বিরল গরম পানির কূপ বা উষ্ণ জলের প্রাকৃতিক খুম। বাড়বকুণ্ড ট্রেইলে কয়েকশ’ বছরের পুরনো কালভৈরবী মন্দিরের ঠিক পাশেই এর অবস্থান। অনেকের মতে, হাজার বছরেরও পুরনো এটি। মানুষজনের পদচারণা নেই বলে পাহাড়ি গাছপালা আর লতাপাতায় ভরে গেছে মন্দিরটি

কূপটির পানির ওপর সবসময় আগুন জ্বলে! আগুনের আঁচে কাছে দাঁড়ানো মুশকিল। যেখানে আগুন জ্বলে তার সামনে দুটি শিব মূর্তি রয়েছে।
কালভৈরবী মন্দির আর গরম জলের কূপ নিয়ে নানান মিথ ও গল্প প্রচলিত আছে। বৈজ্ঞানিক মতে, মিথেন গ্যাসের কারণে সবসময় কূপটিতে আগুন জ্বলে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এর পাশে দাঁড়ালে গা ছমছমে ব্যাপার কাজ করে!

গরম পানির ফোয়ারার ভেতরের পুরো অংশ এটি। ডানদিকের দেয়াল ঠিক পাশেই। বাঁ দিকে ও আগুন যেখানে জ্বলছে তার সামনে দুটি শিব মূর্তিকালভৈরবী মন্দির দেখাশোনা করেন একজন পুরোহিত। গরম জলের কূপ প্রসঙ্গে তিনি জানান- শিব ও পার্বতী ছিলেন স্বামী-স্ত্রী। পার্বতীর বাবা একদিন শিবকে অপমান করেন। পার্বতী তা সহ্য করতে না পেরে দেহত্যাগ করেন। শিব খবরটি পেয়ে রাগে পার্বতীকে নিয়ে তাণ্ডব নৃত্য শুরু করেন। এ কারণে তখন পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাচ্ছিল। শিবকে শান্ত করার জন্য ও পৃথিবীর ধ্বংস ঠেকাতে বিষ্ণু তার চক্র দিয়ে পার্বতীর শরীরকে ৫১ ভাগ করেন। ওই টুকরোগুলোর একটি ভাগ পড়েছে বাড়বকুণ্ডের এই জায়গায়। এজন্যই হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে সীতাকুণ্ড পবিত্র একটি স্থান।

মন্দিরের ভেতরের অংশ। সামনে দেখা যাচ্ছে শিব মূর্তিবাড়বকুণ্ড ট্রেইলটি খুব ছোট আর সহজ। কিন্তু দেখার মতো অনেক কিছুই আছে এখানে। শত বছরের প্রাচীন কালভৈরবী মন্দিরের পাশেই আরও দুই-একটি শতবর্ষী মন্দির আছে। এখন এগুলোর অবস্থা প্রায় ভঙ্গুর।

কালভৈরবী মন্দির থেকে একটু সামনে এগোলে ঝিরিপথের রুট। এখান দিয়ে গেলেই দুই-তিনটি ছোট বড় ঝরনার দেখা মেলে। বর্ষার সময় গেলে দেখতে অপূর্ব লাগে। যদিও বছরের বেশিরভাগ সময় সেগুলো শুকনো থাকে।

শত বছরের পুরনো কালভৈরবী মন্দির। অনেকের মতে, হাজার বছরেরও পুরনো এটি। মানুষজনের পদচারণা নেই বলে মন্দিরটির গায়ে পাহাড়ি গাছপালা আর লতাপাতায় ভরে গেছেট্রেইলটির সবকিছু দেখার জন্য আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা যথেষ্ট। এখান থেকে অনায়াসে চট্টগ্রামের আরেকটি ট্রেইলে চলে যাওয়া যায়। আমরা পাঁচ বন্ধু নাপিত্তাছড়া ট্রেইল ও বাড়বকুণ্ড ট্রেইল দুটি একদিনে ঘুরেছি।

গরম জলের কূপে যাওয়ার আগের সিঁড়ি। ওই যে গরম পানির খুম দেখা যাচ্ছেযেভাবে যাবেন
যেকোনও যানবাহনে চড়ে চট্টগ্রামের বাড়বকুণ্ড বাজারে যেতে হবে। সীতাকুণ্ডের পরেই বাড়বকুণ্ড বাজার। ঢাকা থেকে বাসে উঠলে বাড়বকুণ্ড বাজারেই নামা যায়। ট্রেনে চড়লে পেরোতে হবে কয়েক ধাপ।

বাড়বকুণ্ড বাজার থেকে চট্টগ্রামের দিকে ঘুরলে বাঁ-দিকে একটি পাকা রাস্তা চলে গেছে। এই পথ ধরে ৪০-৫০ মিনিটের মতো হাঁটলেই কালভৈরবী মন্দির। এক্ষেত্রে দুই ধরনের পথ মিলবে। একটি পাকা রাস্তা, আর পাকা রাস্তা শেষে মাটির রাস্তা৷ রিকশায় পাকা রাস্তা পেরোনো যায়। কিন্তু বৃষ্টি হলে মাটির রাস্তা রূপ নেয় যেন চোরাবালিতে।
কালভৈরবী মন্দিরের পাশেই আরও দুই-একটি শতবর্ষী মন্দির আছে। এখন এগুলোর অবস্থা প্রায় ভঙ্গুর। পাহাড়ি লতাপাতায় ঢেকে গেছে পুরো মন্দিরমনে রাখবেন

কালভৈরবী মন্দিরে ওঠার জন্য সিঁড়ি রয়েছে। সিঁড়ি বেয়ে উঠলেই মন্দির। যেহেতু এটি মন্দির, তাই উচ্চস্বরে আওয়াজ না করাই উত্তম। গরম জলের কূপের কাছে খালি পায়ে যেতে হবে। কারণ জায়গাটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র।

ঘুরে বেড়ালে নতুন অনেক কিছু দেখা ও জানা যায়। ইট-পাথরের শহুরে মানুষদের একঘেঁয়েমি কাটাতে ভ্রমণের বিকল্প নেই। বিভিন্ন জায়গার পাশাপাশি দেখে আসুন চট্টগ্রামের গরম জলের কূপ।

/সিএ/জেএইচ/

x