দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস কাতার-সৌদি বিবাদে জড়িয়ে পড়লেন ট্রাম্প

বিদেশ ডেস্ক ১৬:৪৬ , জুন ০৭ , ২০১৭

কাতার-সৌদি বিবাদে জড়িয়ে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সৌদি আরবের নেতৃত্বে কাতারের সঙ্গে ছয় আরব দেশের সম্পর্ক ছিন্নের ঘটনায় নিজের ‘কৃতিত্ব’ দাবি করেছেন তিনি। বলেছেন, তার সাম্প্রতিক সৌদি সফরের ফল আসতে শুরু করেছে। টুইটারে দেওয়া একাধিক পোস্টে তিনি এমন দাবি করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। এ বিষয়টি নিয়ে বুধবার শিরোনাম করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস।

ট্রাম্প বলেন, সৌদি সফরকালে অন্য মুসলিম দেশগুলো আমাকে জানিয়েছে,  কাতার ‘মৌলবাদী দর্শনে’ অর্থায়ন করছে।

৬ জুন মঙ্গলবার এক টুইটে ট্রাম্প বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সফরে আমি মৌলবাদী দর্শনে অর্থায়নের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। নেতারা কাতারের দিকে আঙ্গুল তুলে বলেছেন, দেখুন!’

আরেক টুইটে তিনি বলেন, ‘এটা খুবই চমৎকার যে, সৌদি সফরে দেশটির রাজা ও অর্ধশত দেশের নেতাদের সঙ্গে তার সাক্ষাতের ফল এরইমধ্যে আসতে শুরু করেছে। তারা বলেছে, উগ্রবাদী অর্থায়নের বিরুদ্ধে তারা কঠোর পদক্ষেপ নেবে। এক্ষেত্রে সবকটি সূত্র কাতারকেই নির্দেশ করে। সম্ভবত, এটা হবে সন্ত্রাসের বিদায়ের সূচনালগ্ন।

মে মাসে সৌদিতে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প বলেন, নিজেদের শত্রুদের ধ্বংস করার জন্য মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর আমেরিকার শক্তির অপেক্ষায় থাকা উচিৎ নয়। তাদেরই সিদ্ধান্ত নিতে হবে- তারা নিজ দেশের, নিজেদের ও তাদের শিশুদের জন্য কেমন ভবিষ্যৎ চায়।

ট্রাম্পের ওই সফরের পরপরই কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলো ব্লক করে দেয় সৌদি আরব, মিসর, বাহরাইন ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের ওই ভাষণের দুই সপ্তাহের মাথায় কাতারের সঙ্গে সৌদি আরবের নেতৃত্বে ছয় আরব দেশের সম্পর্কচ্ছেদের এমন পদক্ষেপ তাৎপর্যপূর্ণ।

৫ জুন ২০১৭ সোমবার কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দেয় ছয়টি আরব দেশ। দেশগুলো হচ্ছে: সৌদি আরব, মিসর, বাহরাইন, লিবিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন। দেশগুলোর পক্ষ থেকে কাতারের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা তৈরি ও সন্ত্রাসবাদ উসকে দেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে কাতার বলছে, ‘মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর লক্ষ্য পরিষ্কার। তারা আমাদের ওপর রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তার এবং খবরদারি করতে চায়। এটা কাতারের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত।’

সৌদি আরবের নেতৃত্বে ছয় আরব দেশের এ সিদ্ধান্তের দুদিন আগে গ্লোবাল লিকস নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ফাঁসকৃত নথিতে দেখা গেছে, বেশ কিছুদিন আগে থেকেই দোহাকে কূটনৈতিকভাবে কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে। সম্প্রতি কথিত রুশসমর্থনপুষ্ট ওই হ্যাকার গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) রাষ্ট্রদূত ইউসেফ আল-ওতাইবার ই-মেইল হ্যাক করে। হ্যাককৃত ইমেইলের বরাতে ইন্টারসেপ্ট-এর প্রতিবেদন বলছে, এক ইসরায়েলি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমিরাতের ওই মন্ত্রীর যোগসাজশের প্রমাণ পেয়েছে তারা। আদানপ্রদানকৃত মেইল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কাতারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের নীলনকশা হয়েছিল ইসরায়েলি থিংক ট্যাংক আর আমিরাতের মন্ত্রীর মধ্যকার ই-মেইল আলোচনায়। সোমবার কাতারবিরোধী সৌদি পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী অ্যাভিগদর লিবারম্যান বলেছেন, নিঃসন্দেহে এটা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।

/এমপি/

Advertisement

Advertisement

Pran-RFL ad on bangla Tribune x